Advertisement
Advertisement

Breaking News

কাঁটাতারের গেরোয় আটকে উন্নয়ন, ভোটে নিরুত্তাপ হিলি সীমান্ত

থমকে থাকে মনের ছোট্ট নগরী..

Villagers have no interest in Vote at Indo-Bangla border
Published by: Tanumoy Ghosal
  • Posted:April 3, 2019 4:27 pm
  • Updated:April 3, 2019 4:27 pm

রাজা দাস, বালুরঘাট:  ‘কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে থাকে হৃদয়,সীমান্তে দাঁড়িয়ে অতন্দ্র প্রহরী, হাতে রাইফেল, বুলেট, বেয়নেট, আমার থমকে থাকে মনের ছোট্ট নগরী…’  ঠিক যেন শখের কবির দু’কলম লেখার জলছবি। ঘড়ির কাঁটা তখন বেলা বারোটার ঘরে। হিলি সীমান্তে দাঁড়িয়ে। সামনে উঁচু কাঁটাতারের বেড়া। ওপারেও ভারত ভূখন্ড। নাম উঁচা গোবিন্দপুর। সেখানে অন্তত আড়াইশো মানুষের বসবাস। ভোটার প্রায় দু’শো। কিন্তু স্বদেশেও অদ্ভুত বিচ্ছিন্নতা প্রতি পলে। সকাল ছটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত মূল ভুখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। এরপর এক রকম বন্দি জীবন। তখন বাংলাদেশ ভরসা হয়ে ওঠে। শীতে সময় আরও কমে আসে। এখানে দাঁড়িয়ে মনেই হবে না যে, আরও একটি লোকসভা নিবার্চন হতে চলেছে দেশে। নেই কোনও দলের প্রচার। দিনে কাঁটাতারের বেড়া টপকে এপারে এলে বিভিন্ন দলের কর্মীরা ওঁদের হাতে নকল ব্যালট তুলে দিয়ে জানিয়ে দেয় কখন বুথে হাজির হয়ে ভোট দিতে হবে। সেই মতো ওরা তাড়াতাড়ি ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু রাজা আসে, রাজা যায় দিন পাল্টায় না। নৃপ্রেন্দ্রনাথ সরকার, ছোটন মন্ডলদের চোখের ভাষায় হয়তো তাই ধরা দিয়ে যায় শখের কবির কথামালা, ‘কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে থাকে হৃদয়…।’

[আরও পড়ুন: সংসদীয় মানচিত্রে ব্রাত্য নবদ্বীপ, ভোটের মরশুমে মনখারাপ এলাকাবাসীর]

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি ব্লকের ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে এই উঁচা গোবিন্দপুর। কালিকাপুর সংসদের অধীন। এই সংসদে উঁচা গোবিন্দপুর ছাড়াও রয়েছে কালিকাপুর, নীচা গোবিন্দপুর, জামালপুর এবং শ্রী কৃষ্ণপুর পাঁচটি গ্রাম। অন্য গ্রামগুলি কাঁটাতারের এপারে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। উঁচা গোবিন্দপুরে পঞ্চায়েত ভোটে বরাবর বামেরা জিতেছে। কিন্তু আজও ন্যূনতম পরিষেবার ব্যবস্থা হয়নি। ভোট আসে, চলেও যায়। উঁচা গোবিন্দপুর চুপটি থাকে। সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্ট’ থেকে দেড়শো মিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান। মাঝে কাঁটাতার। ইচ্ছামতো চলাফেরার উপায় নেই এই তল্লাটে। বিশেষ প্রয়োজনেও না। লোহার গেট একবার বন্ধ হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে খোলে না। তখন মুমুর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে ভরসা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের কোনও হাসপাতাল। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

Advertisement

সময়ের সঙ্গে এপারে অনেক কিছুই পাল্টেছে। রাস্তা হয়েছে। পথবাতি বসেছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু উঁচা গোবিন্দপুরে কিছুই নেই। শুধুই শূন্যতা। এক সময় কোচবিহার জেলার সীমান্তে ছিটমহলের ছবি এমনটাই ছিল। রাজ্যের তপরতায় সেখানকার বাসিন্দাদের জীবনে শাপমোচন হয়েছে। তাই প্রশ্ন ফিরছে উঁচা গোবিন্দপুরের হাল কী কোনওদিন ফিরবে না! স্থানীয় বাসিন্দা অমল সরকার বলেন, “ভারতীয় হয়েও দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রাখতে পারি না। অথচ বাংলাদেশে অবাধে যাতায়াত করছি। কাঁটাতারের আমরা আজও অনেকটাই পরাধীন।” এখানে বাসিন্দাদের প্রত্যেকের পরিচয়পত্র রয়েছে। সেটা বিএসএফ জওয়ানদের দেখিয়ে নির্ধারিত সামান্য সময়ে ভারতের মূল ভূখন্ডে যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় যুবক রতন মন্ডল বলেন, “এরপরও ভোট দেই কারণ আমরা তো ভারতীয়। তাই দায়িত্ব ভুলি কেমন করে !”

 [আরও পড়ুন: আঁচলে মমতা, কুচিতে মোদি, বডিতে হাত, ভোটের বাজারে বিকোচ্ছে ‘পার্টি শাড়ি’]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ