Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Bhutan Hill

তীব্র জলকষ্ট ভুটান লাগোয়া টোটোপাড়ায়, বন্ধ হোম-স্টে, লাটে কৃষি ও পশুপালন!

বছরের পর বছর পানীয় জলকষ্ট চললেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২৪, ১৪:৩১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২৪, ১৪:৩১

options
link
তীব্র জলকষ্ট ভুটান লাগোয়া টোটোপাড়ায়, বন্ধ হোম-স্টে, লাটে কৃষি ও পশুপালন! zoom

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: তীব্র পানীয় জলকষ্টের কবলে ভুটান পাহাড় লাগোয়া পদ্মশ্রী ধনীরাম টোটোর গ্রাম টোটোপাড়া। শুকিয়েছ তোর্সা, হাউড়ি নদী। পাইপ লাইন থাকলেও জল মিলছে না। ঝর্ণার জল চুরির অভিযোগও উঠেছে। জলের খোঁজে দিনভর চলছে দৌড়ঝাপ। জলের অভাবে দেশের ক্ষুদ্রতম জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামে কৃষিকাজ ও পশুপালন লাটে ওঠার জোগাড়। বন্ধ হয়েছে হোম-স্টে।

আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের পূবে তোর্সা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে হাউরি নদী ঘেরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো গ্রাম টোটোপাড়া। নদী ঘেরা হলেও জলের হাহাকার পাহাড়ি গ্রামের পঞ্চায়েতগাঁও, মণ্ডলগাঁও, সুব্বাগাঁও, মিত্রংগাঁও, পূজাগাঁও এবং ধুমচিগাও নামে ছয়টি পাড়া জুড়ে। এক সময় ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝোরা ও ঝর্ণার জলেই চাহিদা মিটেছে। কয়েক বছরে বেশিরভাগ ঝোরা শুকিয়ে যাওয়ায় শীত-গ্রীষ্মে জল মেলে না। এখন একমাত্র তংরে খোলা ঝর্ণার জল ভরসা। প্রবল তাপদহের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পানীয় জলকষ্ট শুরু হতে সেখানেও বিপত্তি দেখা দিয়েছে। টোটোপাড়ার বাসিন্দা ভবেশ টোটো জানান, তংরে খোলা থেকে পাইপ লাইনে জল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মঙ্গল গাওয়ের কাছে প্লাস্টিকের পাইপ ফুটো করে জল চুরি হওয়ায় টোটোপাড়ায় জল পৌঁছচ্ছে না।

Advertisement

[আরও পড়ুন: বছরভর কোমায়, ছিল না ভাষাজ্ঞানও, দ্বাদশে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেলেন সেই পড়ুয়াই]

তিনি বলেন, “স্কুল চৌপথির কাছে পিএইচই-র রিজার্ভার থাকলেও নিয়মিত জল মিলছে না। পাইপ লাইনেও জল নেই। তাই বাইরে থেকে সাইকেলে জল বয়ে আনতে হচ্ছে।” একই অভিযোগ পদ্মশ্রী ধনীরাম টোটোর। তিনি বলেন, “তিন মাস থেকে পাইপ লাইনে জল আসছে না। কেমন পরিস্থিতিতে বেচে আছি ঈশ্বর জানেন। জলের জন্য কতদিন থেকে চিতকার করছি কেউ শুনছে না।” ভুটান সীমান্তের তাদিং পাহাড়ের কোলে জলদাপাড়া থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের ওই জনপদে কয়েক দশক আগেও জনসংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ধনীরামবাবু জানান, ১৯৫১ সালে জনসংখ্যা কমে হয়েছিল ৩২১ জন। এরপর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিশেষ কিছু পদক্ষেপ করায় ২০০১ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১ হাজার ১৮৪ জন। এখন ১ হাজার ৬০০ জন টোটো রয়েছে। শুধু যে খাদের কিনারে থেকে জনসংখ্যায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে টোটোরা সেটাই নয়। অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে ওই জনজাতির মানুষেরা সাবেকিয়ানা ছেড়ে আধুনিক হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। বেড়েছে উচ্চ শিক্ষার ঝোক। কিন্তু জনসংখ্যা বাড়লেও পরিষেবার উন্নয়ন নেই বললে চলে। বছরের পর বছর পানীয় জলকষ্ট চললেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

ভবেশ টোটো বলেন, “এখানে পানীয় জলের সমস্যা মিটলে হোমস্টের সংখ্যা বাড়বে। এখন ২৬টি হোমস্টের মধ্যে ২৫টি টোটো পরিবারের। জলের সমস্যার জন্য কয়েকটি বন্ধ হয়েছে।” সমস্যার কথা জানেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল গোস্বামী। তিনি বলেন, “টোটোপাড়ায় পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আবার বলব।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.