১৪  আশ্বিন  ১৪২৯  সোমবার ৩ অক্টোবর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

বস্তাবন্দি পাটকাঠির ছাই যাচ্ছে চিনে, কারণ অজানা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 20, 2016 11:29 am|    Updated: November 20, 2016 11:29 am

Why China is taking Jute Stick Charcoal from Beldanga

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ‘যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই…’- ছাই উড়িয়ে নয়, ছাই বিক্রি করে রতনের খোঁজ পেয়েছেন বেলডাঙার সাবির শেখ৷ তা-ও আবার কয়লা বা কাঠের ছাই নয়৷ পাটকাঠি পোড়ানো ছাই৷ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশীয় বাজারে নয়, একেবারে চিনে এই ছাই রফতানি করে ভালই মুনাফা করছেন সাবির শেখ৷ চিনের কারবারিরা বেলডাঙায় ঘাঁটি গেড়ে বসে একেবারে হাতেকলমে শিক্ষা দিয়ে এই ছাই তৈরি করাচ্ছেন৷ তবে পাটকাঠির ছাই চিনে কী কাজে লাগে তা জানেন না কেউই৷ আস্ত একটি কারখানা গড়ে এই কারখানা চললেও এ বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ জানেন না জেলা শিল্পকেন্দ্রের আধিকারিকরাও৷ ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-১ ব্লকের বেগুনবাড়ি পঞ্চায়েতের কাজিসাহা গ্রাম৷ কাজিসাহা মোড় থেকে নওদার ত্রিমোহিনীর দিকে কিমি দুই এগোলেই চোখে পড়বে প্রায় দু’বিঘা জমির উপর ১২টি চিমনিওয়ালা একটি কারখানা৷ চিমনির উপর বাঁশের মাচা বাঁধা হয়েছে৷ সেই মাচার উপর রয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক৷ তাঁরা চিমনির মুখে অনর্গল পাটকাঠি দিয়ে চলেছেন৷ সেই পাটপাঠি নিচে বয়লারে গিয়ে দাউদাউ করে জ্বলে ছাই হয়ে যাচ্ছে৷ সেই ছাইকে আবার গম পেষাই মেশিনের মতো এক মেশিনে দিয়ে একেবারে মিহি ডাস্ট করা হচ্ছে৷ সেই গুঁড়ো বস্তাবন্দি করা হচ্ছে৷

jute-1

কারখানার এক শ্রমিক জানান, ১২টি চিমনি থাকলেও গড়ে দু’টি চিমনিতে কাজ হয়৷ দু’টি চিমনির জন্য দৈনিক সাত কুইণ্টাল পাটকাঠি লাগে৷ প্রতি চিমনি থেকে ছ’বস্তা ছাই পাওয়া যায়৷ প্রতি বস্তায় ১২ কেজি ছাই ভরা হয়৷ কারখানার মালিক সাবির শেখ বলেন, “একটি লরিতে ৬০ বস্তা ছাই ভরে খিদিরপুর ডকে পাঠানো হয়৷ সেখান থেকে জাহাজে করে তা চিনে চলে যায়৷” চিনের কারবারিরাই যে তাঁকে এই অভিনব ব্যবসায় নামিয়েছেন, তা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন সাবির সাহেব৷ যদিও এই ছাই চিনে কী কাজে লাগে, তা তিনি বলতে পারেননি৷ সাবির শেখের এই কারখানার ধাক্কায় বেলডাঙার বিভিন্ন গ্রামে পাটকাঠির দর বেড়েছে৷ আড়াই থেকে চার টাকা কেজি ধরে পাটকাঠি কেনা হচ্ছে৷

তবে কারখানার লাইসেন্সের ব্যাপারে সাবির শেখ কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি৷ স্থানীয় বেগুনবাড়ি পঞ্চায়েত থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন৷ এছাড়া জেলা শিল্পকেন্দ্রে মৌখিকভাবে জানানো আছে বলেও দাবি করেন তিনি৷ অবশ্য জেলা শিল্পকেন্দ্রের আধিকারিকরা এ বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছেন বলে জানান৷ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা খোঁজখবর করবেন বলে আশ্বাস দেন৷ চুলের মাধ্যমে অনেকদিন ধরেই চিনের সঙ্গে বেলডাঙার যোগসূত্র স্থাপন হয়েছে৷ এই কাজিসাহা গ্রাম থেকেই বাড়ি বাড়ি চুল সংগ্রহ করে তা চিনে পাঠানো হয়৷ এবার চুলের সঙ্গে যোগ হল ছাইও৷ যদিও এই ছাইয়ের ব্যবহার নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাটকাঠির ছাই পরিবেশ সংরক্ষণ, জল পরিশুদ্ধ করতে ও বাড়ির দেওয়ালের তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে৷ ওষুধ তৈরিতেও নাকি কাজে লাগে৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে