Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
পুরুলিয়া

মানবিকতার নজির, বাস থামিয়ে সহযাত্রীর কাটা আঙুলে অস্ত্রোপচার চিকিৎসকের

বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন ওই মহিলা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১১:৪৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১১:৪৯

options
link
মানবিকতার নজির, বাস থামিয়ে সহযাত্রীর কাটা আঙুলে অস্ত্রোপচার চিকিৎসকের zoom

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: মানবিকতার ছবি দেখল পুরুলিয়া। রবিবার চলন্ত বাসের জানলা পড়ে আঙুল কেটে গিয়েছিল এক যাত্রীর। সেই বাসে থাকা শল্য চিকিৎসকই বাস থামিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই কাটা আঙুলের অস্ত্রোপচার করে নজির গড়লেন। আর এই চল্লিশ মিনিটের অস্ত্রোপচারে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকল পুরুলিয়া থেকে কলকাতাগামী দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একটি বাস। অস্ত্রোপচার শেষে জখম যাত্রী ও চিকিৎসক দু’জনকেই ওই সরকারি বাসটি গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। জখম যাত্রীর পাশে এভাবে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিলেন চিকিৎসক থেকে ওই সরকারি বাসের চালক ও কন্ডাক্টর।

[আরও পড়ুন: মারধরের জেরে লকআপে বন্দি মৃত্যুর অভিযোগ, প্রতিবাদে পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন]

দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় পুরুলিয়া ডিপোর কাঁসাই নামে কলকাতাগামী বাসটি এদিন সকাল ন’টা পনেরো তে পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ে। তারপর রঘুনাথপুর, আসানসোল হয়ে কলকাতা যাওয়ার সময় নিতুড়িয়া থানার গো-বাঘের কাছে ঘটে এই অঘটন। রঘুনাথপুরের নতুনডি থানা এলাকার বছর ছাব্বিশের বাসিন্দা নার্গিস বিবি ওই বাসের একেবারে শেষ দিকে বসেছিলেন। দ্রুত গতিতে ওই বাস চলতে থাকায় ওই যাত্রীর পাশে থাকা জানালাটি আচমকা পড়ে ডান হাতের চতুর্থ আঙুলটি কেটে যায়। পাশের যাত্রীদের তখন চিল চিৎকারে থেমে যায় বাস। ওই বাসেই ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের বাসিন্দা শল্য চিকিৎসক অর্ণব চক্রবর্তী। তিনি পুরুলিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ সেরে ওই বাসেই বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি জখম যাত্রীর ওই অবস্থা দেখে জানিয়ে দেন ওই কাটা আঙুলের অস্ত্রোপচার করবেন তিনি।

Advertisement

চিকিৎসকের কথায়, “তখন ওই মহিলার হাত রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। কপাল ভাল বাসের ভারি জানালা পড়ে যাওয়ার পরেও আঙুল দু’খণ্ড হয়ে যায়নি। ওই আঙুল কাপড় জড়িয়ে রাখার পর বুঝতে পারলাম শিরা ছিঁড়ে গিয়েছে।” সঙ্গে সঙ্গে গো-বাঘ থেকে প্রায় ছ-সাত কিমি দূরে নিতুড়িয়া ব্লকের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যায় ওই সরকারি বাস। কলকাতাগামী দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার ওই বাস হাসপাতালে দাঁড়ানোয় অবাক হয়ে যান সকলে। চিকিৎসক, কন্ডাক্টর-সহ আরও কয়েকজন যাত্রী মিলে জখম নার্গিস বিবিকে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ওই শল্য চিকিৎসক ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসারকে সমগ্র বিষয়টি বলতেই তাঁকে অপারেশনে সহযোগিতা করেন। এগিয়ে আসেন ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবিকারা।

[আরও পড়ুন: পুজোর মরশুমে রাস্তায় রাণুর প্রাণখোলা নাচ! ভাইরাল ভিডিও]

এরপর মিনিটি চল্লিশের অস্ত্রোপচারের পর ওই জখম যাত্রীর মুখে যেন হাসি ফোটে। ওই শল্য চিকিৎসকের কথায়, “আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি এই যা। ওই যাত্রীর ডান হাতের চতুর্থ আঙুলের একটি শিরা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যায়। আরেকটি শিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” বাসের মধ্যে ঘটে যাওয়া এমন দুর্ঘটনার পর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বল্প পরিকাঠামোয় সেখানে শিরার অস্ত্রোপচার করে ওই জখম যাত্রীকে সুস্থ করে তোলায় ওই চিকিৎসকের তারিফ করছেন সকলেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.