নতুন পথে চলুন৷ বাড়িতে বসেই করুন রোজগার৷ অর্থ উপার্জনের নতুন দিশা নিয়ে লিখলেন ঐন্দ্রিলা বসু সিংহ৷
ইভেন্ট প্ল্যানার
ম্যানেজমেন্টে ওস্তাদ? তাহলে এই পেশার কথা ভেবে দেখতে পারেন। তবে ইভেন্ট প্ল্যানিংয়ের জন্য যেটা দরকার, তা হল ধৈর্য আর ঠান্ডা মাথায় একাধিক বিষয় নিয়ে ভাবার ক্ষমতা। দ্রুত সমস্যার সমাধান করার আত্মবিশ্বাস। আর এসবের জন্য দরকার ভাল পিআর, মানে জনসংযোগ দক্ষতা।
ঘরোয়া ক্যাফে
বাড়ির একটা কিংবা দুটো ঘর ফাঁকা পড়ে রয়েছে? সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে বানিয়ে ফেলুন ক্যাফে। চা, কফি, স্ন্যাকস কিংবা হালকা খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে আন্তরিকতার স্পর্শ। সঙ্গে আড্ডার খোরাক হিসেবে অতিথিদের দিতে পারেন কিছু থিম। বেড়ানো হোক বা সিনেমা কিংবা ভাল কোনও বই। যা খুশি হতে পারে এই থিম।

হোম অ্যান্ড কেটারিং সার্ভিস
অনেক মহিলাই দল বেঁধে এখন এই কাজ করছেন। যে রান্না রোজই করেন, তাকেই পেশা বানিয়ে নেওয়া। নিউক্লিয়ার পরিবারের দৌলতে অনেকেই এখন হোম সার্ভিসের খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তেল-মশলা কম দেওয়া হালকা ঘরোয়া রান্নাই এদের পছন্দের। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে রান্নার এই ব্যবসা শুরু করলে লাভ বই ক্ষতি হবে না। অনেকেই এখন বাড়িতে ছোট অনুষ্ঠান বা জমায়েতে নিজেরা রান্না না করে বাইরে থেকে খাবার বানিয়ে নেন। সেসব কাজে সুনাম তৈরি করে ফেললে জেটগতিতে এগোবে ব্যবসা।
[উচ্চমাধ্যমিক পাশ হলেই রেলে চাকরির সুযোগ, কীভাবে করবেন আবেদন?]
অনলাইন বুটিক
স্মার্ট ফোনের দৌলতে অনলাইন বুটিকের এখন রমরমা বাজার। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে গ্রুপ বানিয়ে তাতে শাড়ি, গয়না, পাঞ্জাবি এমনকী ডিজাইনার ব্লাউজের ছবি পড়তে না পড়তেই সোল্ড আউট হয়ে যায়। ফ্যাশনের এই মৌচাকের মৌতাতে তা দিতে পারেন আপনিও। যোগাযোগ করুন হোলসেলারদের সঙ্গে। বা অর্ডার দিয়ে বানান শাড়ি-পোশাক। আপনার সৃষ্টিশীলতা মিশিয়ে দিন তাতে। ব্যস, তাহলেই কেল্লা ফতে।
ইউটিউব চ্যানেল
যে ইউটিউবে সর্বক্ষণ মগ্ন আপনি, সিনেমা দেখতে বা গান শুনতে, তাকেও ব্যবহার করা যেতে পারে উপার্জনের উপায় হিসেবে। তবে এক্ষেত্রে একটু ধৈর্য দরকার। আর দরকার নতুন কিছু আর ভাল কিছু দিতে পারার প্রতিভা। তবেই না আপনার চ্যানেলে চোখ রাখবেন ভিউয়াররা। প্রথমেই যা করতে হবে, তা হল আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মনিটাইজেশন। অর্থাৎ আপনার চ্যানেলটিকে যে আপনি বাণিজ্যিক অর্থে ব্যবহার করতে চান, তা জানাতে হবে ইউটিউবকে। তারপর আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট জুড়ে দিন ইউটিউবের সঙ্গে। যাতে আপনার প্রাপ্য টাকা সেখানে জমা পড়ে। আর তারপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে আপনার চ্যানেলের জন্য প্রচুর পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার জোগাড় করতে হবে আপনাকে। আর সেটা সম্ভব নিয়মিত ভাবে ওই চ্যানেলে দর্শকদের ভাল ভিডিও দিয়ে। কেননা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিডিও ভিউইং-এর উপরেই নির্ভর করবে আপনার উপার্জন। যা আসবে আপনার ভিডিওতে দেওয়া ইউটিউবের বিজ্ঞাপন থেকে। অনেকক্ষেত্রে ভিডিওর জনপ্রিয়তা দেখে অন্যান্য সংস্থাও প্রস্তাব দিতে পারে বিজ্ঞাপন দেওয়ার। সেখান থেকেও হতে পারে উপার্জন। মেক আপ কী করে করতে হয় থেকে মোচার ঘণ্ট রান্নার উপায়, এমনকী গান, নাচ, আবৃত্তি-সবরকম ভিডিও দেওয়া যেতে পারে ইউটিউবে।
[স্নাতক হলেই মিলতে পারে ফুড কর্পোরেশনে চাকরি, জেনে নিন আবেদনের পদ্ধতি]
কনটেন্ট রাইটার
ঘরে বসে উপার্জনের আরও একটি দারুণ জায়গা এখন কন্টেন্ট রাইটিং। দরকার শুধু স্মার্টফোন, কয়েকটা অ্যাপ্লিকেশন আর একটু সময়। ডিজিটাল দুনিয়ায় অনেক সংস্থাই বাইরে থেকে সাহায্য নিচ্ছে এ ব্যপারে। ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে লেখা হোক বা কোনও বিষয়ে আলোচনা বা একটু পড়াশোনা করে কোনও বিষয় নিয়ে বিস্তারিত লেখা লিখে বাড়িতে বসেই উপার্জন করা যায়। ভাল গুণমানের লেখার কদরও মেলে এসব ক্ষেত্রে।

কেক বেকার
কেক বানাতে সিদ্ধহস্ত? আপনার বানানো কেক খেয়ে কি প্রশংসায় পঞ্চমুখ আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধব? কেক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট যদি আপনার নেশা হয়, তাহলে এই নেশাকেই নয় পেশা বানিয়ে ফেলুন। দরকার পড়লে ছোট করে নিয়ে ফেলুন কেক সাজানোর একটা ট্রেনিং। ব্যস। নানারকম কেক বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিন। অনলাইনেই চলতে পারে ব্যবসা। এখন অনেকেই ফেসবুকে বানানো কেকের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন করছেন। অর্ডারও পাচ্ছেন নিয়মিত। ঘরোয়া পার্টিতে কিংবা জন্মদিনে কাস্টমাইজড ডিজাইনের সেই কেক রীতিমতো হিট।
কুকিং ক্লাস
তবে কেক বানানোর সঙ্গে কেক তৈরি করা শিখিয়েও উপার্জন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কেকের পাশাপাশি অন্যান্য রান্নাও শেখানো যেতে পারে। এখন অনেক মহিলাই কুকিং ক্লাসে যোগ দেন। তাঁদের রান্নার শিক্ষাগুরু হয়ে নয়, আখের গোছান আপনিও।
ক্রাফট শিল্পদ্রব্য ঘর সাজানোর জিনিস
শিল্পীমনের উপযুক্ত পেশা। কাগজ, কাঠ, রং, পেনসিল কিংবা ফেলে দেওয়া অব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখলেই যদি কিছু একটা বানিয়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়, তবে এই পেশা আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে। ঘর সাজানোর নানা জিনিস বানানোর সঙ্গে সঙ্গে এ পেশায় থেকেই সাহায্য করতে পারেন ঘর সাজানোতেও। পেশাদার ইন্টিরিয়র ডিজাইনার নাই বা হলেন। ডিগ্রিই কি সব? সৃষ্টিশীল আর শিল্পমনস্কতা দিয়েও অন্দরসজ্জায় নাম কিনতে পারেন আপনি। সঙ্গে বোনাস তৃপ্তি।
[ক্লার্ক পদে রাজ্যে প্রচুর কর্মী নিয়োগ, মাধ্যমিক পাশ হলেই করা যাবে আবেদন]
অনলাইন টিউটরিং
প্রাইভেট টিউটর এখন অনলাইনেও পড়ান। বিভিন্ন এ ধরনের পোর্টাল রয়েছে। কী বিষয়ে পড়াতে চান, তা জানিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন এইসব পোর্টালের সঙ্গে। ডিগ্রি এক্ষেত্রে জরুরি অবশ্য। কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমেও টিউটর নিয়োগ করে পোর্টালগুলি।
গ্রাফিক কার্ড ডিজাইনার
বিয়ের কার্ড হোক বা যে কোনও আমন্ত্রণ পত্র৷ অতিথিদের চমকে দিতে চলছে দেদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। গ্রাফিক ডিজাইন, ফটোশপ বা ওই ধরনের কোনও প্রশিক্ষণ যদি কখনও নিয়ে থাকেন, তবে তাকে ঝালিয়ে নেওয়ার সময় এটাই। বাড়িতে বসে একটা কম্পিউটারেই চলতে পারে রাজ্যের ক্রিয়েটিভিটি। শুধু কার্ডে আটকে না থেকে কফি মাগ, টি-শার্ট কিংবা কাপড়ের ব্যাগকেও ক্যানভাস বানিয়ে ডিজাইন ম্যানিয়ায় দিন দম। সোশ্যাল দুনিয়ায় হোক তার প্রচার। ব্যস, আপনাকে আটকায় কে? চাইলে অনলাইন পোর্টাল খুলে নিজের ডিজাইন পৌঁছে দিতে পারেন আমজনতার দরবারে।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার