Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১১ জুন ২০২৬
Moon

চাঁদের উলটো পিঠে মানুষ! ৩৭০ কোটি বছরের সময় ভ্রমণের তাৎপর্য অসীম

মানুষ সেই না-দেখা অন্তরালের নাম রেখেছে 'মারে ওরিয়েন্ডালে'। চাঁদের ও-পিঠের এই রহস্যময় অন্তরাল তৈরি হয়েছিল অন্তত ৩৭০ কোটি বছর আগে উল্কাপাতের ফলে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১৭:৫৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১৭:৫৭

options
link
চাঁদের উলটো পিঠে মানুষ! ৩৭০ কোটি বছরের সময় ভ্রমণের তাৎপর্য অসীম zoom
পৃথিবী থেকে কোনও মানুষ এত দূরে কখনও যায়নি, জানাচ্ছে 'নাসা'।

‘ওরিয়ন’ চার মহাকাশচারীকে নিয়ে পৌঁছল চাঁদের উল্টো পিঠে। সেই শুভদৃষ্টির অকল্পনীয় অভিঘাত কী হতে পারে তার হদিশ পাওয়া কি সহজ?

মানুষের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। মহাকাশে চারজন মানুষ: ক্রিস্টিনা কখ, জেরেমি হ্যানসেন, ভিক্টর গ্লোভার, রিডওয়াইজম্যান। তাঁদের মহাকাশযানের নাম ‘ওরিয়ন’। তাঁদের মিশনের নাম, ‘আর্তেমিস টু’। তাঁরা পৃথিবী থেকে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৬৮ কিলোমিটার দূরে। পৃথিবী থেকে কোনও মানুষ এত দূরে কখনও যায়নি, জানাচ্ছে ‘নাসা’।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিন, যাঁরা চাঁদে নেমেছিলেন, তাঁরাও আসেননি। তার কারণ এই চার মহাকাশচারী চাঁদের ওপারে, তার উলটো দিকটা দেখতে গিয়েছেন। ১৯৬৭ সালে লুনার অর্বাইটার পাঠিয়ে চাঁদের ও-পিঠের কয়েকটি ছবি পৃথিবী পেয়েছে বটে। কিন্তু কোনও মানুষ নিজের চোখে চাঁদের পিছনের দিকটা এখনও দেখেনি। চাঁদের ওপিঠ থেকে গিয়েছে আড়ালে। মানুষ সেই না-দেখা অন্তরালের নাম রেখেছে ‘মারে ওরিয়েন্ডালে’। চাঁদের ও-পিঠের এই রহস্যময় অন্তরাল, মারে ওরিয়েন্ডলে, তৈরি হয়েছিল অন্তত ৩৭০ কোটি বছর আগে উল্কাপাতের ফলে, জানাচ্ছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। ওরিয়ন ক্যাপসুল চারজন মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের প্রায় ৬২ হাজার ৭৬৪ কিলোমিটার দূরে। তাঁদের চোখে চাঁদ এখন অতীব বৃহৎ এবং স্পষ্ট। লক্ষ লক্ষ কিমি দূরে পৃথিবী ততই ছোট এবং প্রায় অচেনা।
তবে নাসা মুহূর্তের জন্যও ওরিয়েনের সঙ্গে সংযোগ হারায়নি। কিন্তু ভারতীয় সময় সোমবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারেই ওরিয়ন পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ হারাল। কারণ, সে তখন পুরোপুরি চাঁদের উলটো পিঠে।

পৃথিবী আর ওরিয়নের মাঝখানে চাঁদের অনতিক্রম্য বাধা। সংযোগ তো ছিন্ন হবেই। পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশচারীদের সংযোগ ফিরে পাওয়ার কথা মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে। কিন্তু তার আগে চারজন মহাকাশচারী হয়ে উঠেছেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ, যাঁরা নিজের চোখে দেখলেন, সমস্ত অন্তরাল সরিয়ে, মারে ওরিয়েন্ডালের ৯০০ কিলোমিটার ব্যাসের দু’টি আলাদা পর্বতশ্রেণি, মন্তেস রুক আর মন্তেস কার্দিরেলা! সেই দেখার বর্ণনা আমার এখনও পাইনি। সেই শুভদৃষ্টির অকল্পনীয় অভিঘাত কী হতে পারে তার হদিশ পাওয়া কি সহজ?

শুধু জানি মানুষের মহাকাশ অভিযান নিঃসন্দেহে পৌঁছল এক নতুন অধ্যায়ে। কিন্তু শেষ হল কি মানুষের অনন্ত বিহ্বলতা আলোকবর্ষ দূরত্বে বিছিয়ে থাকা মহাকাশ ও মহাবিশ্বের সামনে? চাঁদের ৩৭০ কোটি বছরের পুরনো পিঠ অন্তরাল থেকে সামনে এল ঠিকই। কিন্তু ৩৭০ কোটি বছর ঠিক কতটা সময়, তা কি আমরা কল্পনাও করতে পারি? ৩ লক্ষাধিক কিলোমিটারের দূরত্ব। ৩৭০ কোটি বছরের টাইম ট্রাভেল। মর-মানুষের স্বাভাবিক সংবেদনের পক্ষে এই অভিঘাত গ্রহণ করা কঠিন বইকি। এমন ভৌগোলিক দূরত্ব ও সময়ের অতীতচারী পলির কথা ভাবলেই যেখানে স্নায়ু ভোঁতা হয়ে যেতে পারে, সেখানে চাঁদের ও-পিঠে মানুষের অভিযান সম্ভব হল অজানার প্রতি অপার আকাঙক্ষার কল্যাণে। মানুষের প্রতি এ-কারণে এখনও বিশ্বাস হারানো পাপ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.