Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
Price Hike

লাফিয়ে বাড়ছে খাদ্যদ্রব্যের দাম, প্রতিকারে সরকার যেন নীরব না থাকে

বাজারে আগুন লেগেছে। কিন্তু দমকলের পাত্তা নেই! নিদেনপক্ষে দূর থেকে হলেও ভেসে আসছে না তার আগমনের ঘণ্টা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১৮:৩৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১৮:৩৬

options
link
লাফিয়ে বাড়ছে খাদ্যদ্রব্যের দাম, প্রতিকারে সরকার যেন নীরব না থাকে zoom
খাদ্যদ্রব্যের দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
Advertisement

সবজি-মাছ-মাংস-ডিমের পর বঙ্গে এবার বাড়তে চলেছে পাউরুটির দামও। খাদ্যদ্রব্যের এই বহুমূল্যতা প্রতিকারে সরকার নীরব যেন না থাকে।

বাজারে আগুন লেগেছে। কিন্তু দমকলের পাত্তা নেই! নিদেনপক্ষে দূর থেকে হলেও ভেসে আসছে না তার আগমনের ঘণ্টা। মাঝে একদিন খবরের কাগজে দেখলাম, মাছ-মাংস-সবজির বাজারে হঠাৎ সরকারি নজরদারির ছবি। কিন্তু তাতে বাজারদরের এতটুকু হাল ফিরেছে বলে তো মনে হচ্ছে না। বরং দাম ক্রমাগত আরোহী। আলু থেকে কচু, কাঁচালঙ্কা থেকে পেঁয়াজ, ঝিঙে থেকে পটল, বেগুন থেকে টমেটো- যাতেই আঙুল দেবেন, অবধারিতভাবে ছ্যাঁকা লাগতে বাধ্য!

Advertisement

এই ভুবনে সুখী কে? বকরাক্ষসের এই দার্শনিক প্রশ্নের অব্যর্থ প্র্যাকটিকাল উত্তরে যুধিষ্ঠির নাকি বলেছিলেন, যে-ব্যক্তি দিনের শেষে অঋণী অবস্থায় শাকান্ন খেয়ে নির্বিঘ্নে নিদ্রায় যেতে পারে, সে-ই সুখী। এই মুহূর্তে বঙ্গের বাজারে শাকের আঁচও কম নয়। শাক-ভাত খেয়েও বেশি দিন আর অঋণী থাকতে পারবে না দিন আনা-দিন খাওয়া মানুষ।

এই ভুবনে সুখী কে? বকরাক্ষসের এই দার্শনিক প্রশ্নের অব্যর্থ প্র্যাকটিকাল উত্তরে যুধিষ্ঠির নাকি বলেছিলেন, যে-ব্যক্তি দিনের শেষে অঋণী অবস্থায় শাকান্ন খেয়ে নির্বিঘ্নে নিদ্রায় যেতে পারে, সে-ই সুখী। 

সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, দিঘায় নাকি ইলিশের আকস্মিক প্লাবন। সেই সংবাদে কিছু ইলিশ-উৎসাহী ছুটেছিল বাজারে। এবং তাদের ইলিশ-স্বপ্নে বাস্তবের ঘা পড়তে বিলম্ব হয়নি। গেরস্ত বাঙালি বাড়িতে কোনও এককালে রোববার দুপুরে খাসির মাংস রান্নার রেওয়াজ ছিল। এখন গেরস্ত বাঙালির সংসারে খাসির মাংস অপরিমেয় বিলাসিতা। একটা সময় ছিল, হিন্দু বাঙালি বাড়িতে মুরগির ডিমের চলন ছিল না। চলত এক এবং একমাত্র হাঁসের ডিম। এখন মধ্যবিত্ত বাঙালির ট্যাকে হাঁসের ডিমের রেস্ত কোথায়? ১২ থেকে ১৫ টাকা দাম ডিমপ্রতি। ক্রমশ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত বাঙালির তো বটেই, সামান্য খেয়েপরে বেঁচে থাকার দামও চলে যাচ্ছে তাদের নাগালের বাইরে। সদা আরোহী দামের মুখে লাগাম লাগানো যাবে বলেও তো মনে হচ্ছে না।

তার একটি কারণ নিশ্চয়ই বঙ্গের কতিপয় মানুষ ফুলেফেঁপে উঠছে নানা উপায়ে অর্জিত অর্থে ও সম্পদে। এমনই বিপুল সেই অর্থ যে তারা ভূগছে অর্থের ব্যয়-সংকটে। মধ্যবিত্ত দর্শন থেকে বলা যেতে পারে: অপ্রয়োজনীয় খরচ-সংকটে। তাদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ এতটাই যে, কী উপায়ে খরচ করে ঘাড় থেকে অর্থের চাপ কমানো যাবে, সে বিষয়ে ভেবে কূল পাচ্ছে না। তারা, ৮০ টাকা কেজির পালং শাক ১৮০-তেও কিনতে রাজি। তিন থেকে চার হাজার টাকায় ইলিশের জোড়া তাদের কাছে নস্যি!

বঙ্গে এমন ধনী মানুষের অভাব নেই নিশ্চয়ই যাদের মনে জাগতে পারে জ জাক রুশোর ‘কনফেশনস’-এ মহান রাজকুমারীর গরিবদের বিষয়ে সেই অবাক প্রশ্নটি: পাউরুটির বদলে ওরা কেক খাচ্ছে না কেন?

বাংলা বাজারের এমন অবস্থায় আরও এক ‘সুখবর’-১৭ আগস্ট থেকে পাউরুটির দাম বেশ খানিকটা বাড়ছে। ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জানায়, কাঁচামালের দাম বাড়ায় পাউরুটির দাম বাড়ছে (Price Hike)। রাজ্যজুড়ে প্রতি পাউন্ডে ৪ টাকা করে বৃদ্ধি পাবে পাউরুটির দাম। হাফ পাউন্ডের দাম ২ টাকা বাড়বে। তবে বঙ্গে এমন ধনী মানুষের অভাব নেই নিশ্চয়ই যাদের মনে জাগতে পারে জ জাক রুশোর ‘কনফেশনস’-এ মহান রাজকুমারীর গরিবদের বিষয়ে সেই অবাক প্রশ্নটি: পাউরুটির বদলে ওরা কেক খাচ্ছে না কেন?

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.