Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
WhatsApp

দেশের মানুষকে নেশা ধরাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ! সুপ্রিম সতর্কতায় কতটা অস্বস্তিতে মেটা?

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়ছে। এমন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের এই সতর্কবাণী বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১৭:০৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১৭:০৭

options
link
দেশের মানুষকে নেশা ধরাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ! সুপ্রিম সতর্কতায় কতটা অস্বস্তিতে মেটা? zoom
হ্যাকারদের রুখতে এগিয়ে এল হোয়াটসঅ্যাপ।

এ-দেশে ব্যবসা করতে হলে এ-দেশের আইন মানতে হবে। মানুষকে নেশা ধরিয়ে পরে তথ্য চুরি করা যাবে না। সুপ্রিম সতর্কতা হোয়াটসঅ্যাপকে।

‘দয়া করে জানাবেন, গত রাতে আপনি কোন হোটেলে ছিলেন?’ অত্যন্ত নিরামিষ এই প্রশ্নের মুখে ভারি বিব্রত বোধ করেন ‘মেটা’-র কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ। লজ্জামাখা মুখে ও নত-স্বরে তিনি বলেন, ‘না। এটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন হয়ে গেল!’ তখন আর-একটি প্রশ্ন তাঁকে করা হয়: ‘গত এক সপ্তাহে আপনি কাকে কাকে মেসেজ করছেন যদি বলেন?’ এবারও মার্ক জুকারবার্গকে অসহায় দেখায়। প্রশ্নটি ‘ব্যক্তিগত’ এই যুক্তি পেশ করে তিনি বলেন, ‘এর উত্তর দিতে স্বচ্ছন্দ নন’। বলে রাখা উচিত, ২০১৮ সালে মার্ক জুকারবার্গ এ-ধরনের ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন মার্কিন সেনেটে। যে-সেনেটর এসব প্রশ্ন করেছিলেন, তঁার যুক্তি প্রণিধানযোগ্য, সহজ কথায় যা দাঁড়ায়– ‘কানেকটিং পিপল’ এমন বুলি ঝেড়ে আপনি লোকসংযোগ ঘটাচ্ছেন, আর মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সর্বসমক্ষে বাজারে চলে আসছে। আপনি (এখানে, জুকারবার্গ) যদি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য জানাতে স্বচ্ছন্দ বোধ না-করেন, তাহলে কেন অন্যদের তথ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন? প্রশ্নোত্তরের মাঝে মার্ক জুকারবার্গকে জল খেতে দেখা গিয়েছিল।

Advertisement

নিভৃতির সঙ্গে গোপনতার যোগটি সহজাত। ভারতে ‘গোপনতার অধিকার’ সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। মেটা-র দ্বারা অধিকৃত হোয়াটসঅ্যাপ কি পারে ব্যবসার খাতিরে সেই গোপনতার অধিকারকে খণ্ডন করতে, মাড়িয়ে দিতে? মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট হোয়াটসঅ্যাপ ও পেরেন্ট সংস্থা মেটা-র প্রতি কঠোর বার্তা রেখেছে, মার্কিন সেনেটের ঢঙেই। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ: দেশের মানুষকে নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। তারপর ব্যবসায়িক স্বার্থে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হচ্ছে। এটি প্রতারণার সমতুল্য। এ-দেশে ব্যবসা করতে হলে এ-দেশের আইন মানতে হবে, এ-দেশের মানুষের আবেগ ও গোপনতা রক্ষার মৌলিক অধিকারকে সম্মান করতে হবে, নতুবা ব্যবসা গুটিয়ে চলে যান।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ: দেশের মানুষকে নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। তারপর ব্যবসায়িক স্বার্থে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হচ্ছে। এটি প্রতারণার সমতুল্য।

হোয়াটসঅ্যাপের হয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী মুকুল রোহতাগি যথেষ্ট সওয়াল করলেও তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তঁার মতে, হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিটি ‘মেসেজ’ আদ্যোপান্ত সুরক্ষিত, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড। ব্যবসায়িক কারণে যে-ডেটা ‘শেয়ার’ করা হয় মেটাকে, তাও অতি অল্প পরিমাণে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে ডেটা প্রাইভেসির ভাষা বোঝা দুষ্কর। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা চালাচালি হলে, হতে পারে তা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, রোগীর কাছে তদনুরূপ ওষুধের বিজ্ঞাপন চলে আসে। তথ্য সুরক্ষিত থাকলে এমন তো হওয়ার কথা নয়? তাছাড়া ব্যবহারকারীর সম্মতি আদায় করাও হয় খুব প্যঁাচ কষে, সেই নীতিসমূহের অর্থ বোঝা সাধারণের পক্ষে কঠিন।
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের উপভোক্তার সংখ্যা সর্বোচ্চ, এবং সংখ্যাটি আরও বাড়ছে। এমন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের এই সতর্কবাণী বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিবিধ ‘টেক দৈত্য’ ও সামাজিক মাধ্যমের চক্রব্যূহে ধনেপ্রাণে খতম হওয়ার আগে ব্রেক কষা দরকার। গোপনতার আবেগকে সম্মান দেওয়া উচিত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.