২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর, দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফের ২৬/১১ মুম্বই হামলার আতঙ্ক! বাস্তবের সেই ভয়াবহতাকে চিত্রনাট্যের রূপ দিয়েছেন পরিচালক মনোজ তাপাডিয়া। ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার কথা উঠলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে সেই ‘অভিশপ্ত’ তাজ হোটেল, সিএসটি রেলওয়ে স্টেশনসহ সন্ত্রাসীদের ‘টার্গেট’ স্থানেগুলির মারাত্মক পরিণতি! মায়ানগরী মুম্বই শিহরিত ও আতঙ্কিত। বাইরে যখন চরম বিশৃঙ্খলা তখন কামা হাসপাতালের ভেতর থেকে শুধু ভেসে এসেছে কাতর আর্তনাদ, প্রাণে বাঁচার জন্য আকুতি! এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মী, নার্স, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, লিফট চালক, নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মীরা একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রায় চারশো জীবনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেরকমই একজন নার্স অঞ্জলি কুলথে, যাঁর নজিরবিহীন সাহসী পদক্ষেপ এবার দর্শকের দরবারে।
‘বীরাঙ্গনা’ অঞ্জলির বীরত্বের গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত কঙ্গনার (Kangana Ranaut) এই নতুন ছবি। গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’র পোস্টার যেখানে নার্সের ভূমিকায় নজর কেড়েছেন কঙ্গনা রানাউত। অঞ্জলি কুলথের ভূমিকায় অভিনয় করবেন বলিউডের ‘ক্যুইন’। আতঙ্ক ও ধ্বংসের মাঝে জীবনের পরোয়া না করে রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর লড়াইকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন কঙ্গনা। বাস্তবের সঙ্গে পর্দায় কঙ্গনার চরিত্রের সাদৃশ্য দর্শক খুঁজে পাবেন সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখছে না। স্পষ্টবক্তা এবং যে কোনও সাহসী পদক্ষেপ নিতে পিছপা হন না, তাই অঞ্জলির চরিত্রে কঙ্গনা পরিচালকের সেরা পছন্দ বলেও দাবি করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন:

এবার জেনে নেওয়া যাক কে এই অঞ্জলি কুলথে (Anjali Kulathe)? তিনি ছিলেন কামা হাসপাতালের সেবিকা। মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার সময় তিনি সেই হাসপাতালে কর্মরতা। ভয়ংঙ্কর পরিস্থিতিতে সকলে যেন দিশেহারা হয়ে প্রাণভয়ে ছুটছে তখন সাহসীকতার বেনজির দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন। সন্ত্রাসীরা যখন ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস স্টেশনে হামলার পর হাসপাতালের দিকে এগিয়ে আসে তখন একেবারে অকুতোভয় অঞ্জলি। কীভাবে রোগীদের রক্ষা করেছিলেন? হাসপাতালের ভিতরে গুলির শব্দ শোনা মাত্রই পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে কুড়ি জন গর্ভবতী মহিলাকে একত্রিত করে একটি ছোট প্যান্ট্রিতে নিয়ে যান। সেখানে আলো নিভিয়ে মোবাইল সাইলেন্ট করে দেন। সন্ত্রাসীদের নজর এড়াতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন অঞ্জলি।

সেই সময় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছতে না পারলে তিনিই হয়ে ওঠেন ‘মসিহা’। রোগীকে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে লেবার রুমে নিয়ে যান। অস্থির পরিস্থিতিতেই সেই মহিলার কোল আলো করে আসে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতিতে শিশুটির নাম রাখা হয়েছিল ‘গোলি’। বিভীষিকার মাঝেও অঞ্জলি কুলথের মতো মানুষের সাহস, মানবিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা প্রমাণ করে যে সংকটের সময় সাধারণ মানুষই অসাধারণ বীর হয়ে উঠতে পারেন। যাঁদের সেই বীরগাথা যুগে যুগে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতায় আটকে ছিল কাজ! বাধা কাটিয়ে অর্থনৈতিক করিডরের জমি দিল মুর্শিদাবাদ
-
বিশ্বকাপের মরশুমেও ভরপুর বিনোদন, ওটিটিতে মুক্তি পেল কোন কোন সিরিজ ও সিনেমা?
-
আর পাম্প থেকে সবাই কিনতে পারবে না পেট্রল-ডিজেল! সংকট কাটাতে নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের
-
সব প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’, সিআইডি জেরায় মেজাজ হারান অভিষেক! মমতার বাড়ি থেকে বেরলেন মুখ লুকিয়ে
-
‘গর্ভাবস্থায় ও আমার…’, রাঘবকে নিয়ে কোন সিক্রেট ফাঁস করলেন পরিণীতি?