চব্বিশ সালের ‘বহুরূপী’দের নিয়ে এসে বক্স অফিসের ‘গেমচেঞ্জার’ তকমা অর্জন করেছিলেন। পঁচিশ সালে ছিল ‘রক্তবীজ’ সিক্যুয়েল সারপ্রাইজ। চলতিবারেও পুজো রিলিজের জন্য কোমর বঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee)। হাতে আর মাত্র ২৩ দিন। সময় বেশি নেই। এইমুহূর্তে ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’র শেষমুহূর্তের কাজে ব্যস্ত পরিচালক-অভিনেতা। তার মাঝেই পুজোর প্রেম, ভুরিভোজ থেকে আড্ডা, সিনেমা রিলিজ, বক্স অফিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কথা বললেন শিবপ্রসাদ।
এই ক’দিন প্রত্যেক সকালেই বক্স অফিস কালেকশন কিংবা প্রেক্ষাগৃহে দর্শকসংখ্যা কেমন হচ্ছে? সেদিকে চোখ থাকবে।
আরও পড়ুন:
চাব্বিশ সালের গোড়াতেই যিশু সেনগুপ্তকে পাশে নিয়ে আগেই পুজোর বক্স অফিস ‘লুটে’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে এবার নাকি নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের! কীরকম? অভিনেতা জানালেন, “বক্স অফিস প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা এবার পুরোটাই নিজেদের সঙ্গে নিজেদের লড়াই। মানে লড়াইটা হচ্ছে, ‘বহুরূপী পার্ট ওয়ান’ ভার্সেস ‘বহুরূপী পার্ট টু’। প্রথম পর্ব না দ্বিতীয় পর্ব, কোনটা বেশি ভালো হয়েছে? সেটারই অনুসন্ধান চলবে। সেই প্রেক্ষিতেই বললাম, এবারে পুজোর বক্স অফিস প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা একান্তই আমাদের নিজেদের সঙ্গে নিজেদের।” রিলিজের ব্যস্ততার মাঝে চলতিবারের দুর্গোৎসবটা কীভাবে কাটাবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন? শিবপ্রসাদ জানালেন, “যেহেতু ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ মুক্তি পাচ্ছে, তাই রিলিজ প্ল্যান, ডিস্ট্রিবিউশন, পাশাপাশি হল ভিজিটও করতে হবে। সেই জিনিসগুলি নিয়েই ব্যস্ত থাকব। ষষ্ঠী, এমনকী সপ্তমীর দুপুর অবধি ছবির জন্যই বরাদ্দ রয়েছে। তবে সপ্তমীর বিকেল থেকে আমার স্ত্রী জিনিয়া (সেন), বন্ধুবান্ধব, অফিসের কলিগদের সঙ্গে সকলকে নিয়ে আমাদের মতো করেই সময় কাটাব। পাশাপাশি এই ক’দিন প্রত্যেক সকালেই বক্স অফিস কালেকশন কিংবা প্রেক্ষাগৃহে দর্শকসংখ্যা কেমন হচ্ছে? সেদিকে চোখ থাকবে।”

‘শৈশবের দুর্গাপুজো’- বললেই কোন স্মৃতি সবার প্রথমে মনে উঁকি দেয়? শিবপ্রসাদ বলছেন, “বরানগরে রিকশাকরে ঠাকুর দেখতে যেতাম। আমার দিদিদের সঙ্গে ঘুরতে বেরোতাম। এছাড়াও বাবা, কাকা-দাদাদের সঙ্গে তো ঘোরাঘুরি হতই। পরিবারের সকলে মিলে হাতিবাগানে গিয়ে পুজোর কেনাকাটা হত। অষ্টমীর দিন আবার বরানগরের ময়রাডাঙ্গা শিবমন্দিরে আমরা সকলে অঞ্জলি দিতে যেতাম। যখন একটু বড় হলাম, মানে নবম-দশম শ্রেণীতে পড়ি, তখন বন্ধুবান্ধবরা মিলে ম্যাডক্স স্কোয়ারে যেতাম। সেই সুবাদে একডালিয়া, সিংহীপার্কের ঠাকুরও দেখা হয়ে যেত। তবে এক-দু’বার আমি, মা, আমার দুই দিদি, দুই ভাই সকলেই পুরো পুজোটা শান্তিনিকেতনে কাটিয়েছি। সেখানে সুরুলের জমিদার বাড়ি, তালতোরের জমিদার বাড়িতে যেতাম পুজো দেখতে।” পুজোর প্রেম, অষ্টমীর অঞ্জলি কিংবা বিসর্জনের কোনও বিশেষ স্মৃতির প্রসঙ্গ উঠতেই ‘বহুরূপী’ অভিনেতা ফিরে গেলেন অতীত সরণিতে। জানালেন, “শিবমন্দিরে যখন অঞ্জলি দিতে যেতাম, তখন হয়তো কাউকে ভালো লাগত, অঞ্জলি দেওয়ার সময়ে এরকম অনেকের সঙ্গে চোখাচোখি হত। কখনও বা সকলের হাতে ফুল দেওয়ার দায়িত্ব পড়ত, তো তাদের হাতেও ফুল দিতাম। তারপর সে তার মতো, আমি আমার মতো। এরকম অজস্র স্মৃতি রয়েছে। তবে আমার পুজোর প্রেম বলতে জিনিয়া। সপ্তমীতেই আমাদের প্রেম শুরু হয়। তারপর আমরা বিয়ে করি। তাছাড়া পুজোর সঙ্গে প্রেমের যোগ কিন্তু দারুণ। তবে বিসর্জনের স্মৃতিগুলো বড় মজার।” কীরকম?
“একহাতে সিগারেট, আরেক হাতে চকোলেট বোম! বোম ফেলতে গিয়ে সিগারেটটাই ফেলে দিয়েছিলাম। আর বোমটা ফেটেছিল একেবারে আমার…”

শিবপ্রসাদের সংযোজন, “জোরকদমে নাচানাচি হত। ওই ভাসান ডান্স যাকে বলে। আমার আবার ভাসান নাচ নাচতে ভীষণ ভালো লাগে। আমি তো সেভাবে নাচতে পারি না, তাই অর্থহীন নাচের মধ্যে যে একটা উন্মাদনা আছে, সেটা আমার ভালো লাগে। একবার মনে আছে, একহাতে সিগারেট, আরেক হাতে চকোলেট বোম! বোম ফেলতে গিয়ে সিগারেটটাই ফেলে দিয়েছিলাম। আর বোমটা ফেটেছিল একেবারে আমার কানের সামনে। ওটা একটা ট্রমায় পরিণত হয়েছিল।” ছোটবেলার মতো এখন প্যান্ডেল হপিং করেন? পরিচালক-অভিনেতা জানালেন, “সারাবছর যেহেতু ব্যস্ত থাকি, তাই এখন আর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার থেকে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বাড়িতে আড্ডা দিতে বেশি ভালো লাগে। কিন্তু আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, আমার শ্যালকের পরিবার আর জিনিয়া আমরা সবাই বের হই ঠাকুর দেখতে। কারণ আমার শাশুড়িমা ঠাকুর দেখতে খুবই পছন্দ করেন।”
“পুজোর সময়ে আমাদের বাড়িতে মূলত নানা ধরনের নিরামিষ পদই হয়। রান্নার ঠাকুর এসে রাঁধেন। অনেকের পাত পড়ে।…”
আর পুজোর ফ্যাশন? শিবপ্রসাদের মন্তব্য, “পুজোয় সাধারণত পাজামা-পাঞ্জাবীটাই কেনা হয়। ধুতি-পাঞ্জাবিও পরি। নইলে খানিক ঢিলেঢালা লিনেনের পোশাক পছন্দ। হল ভিজিটের সময়ে অবশ্য কমফরটেবল পোশাকই পরতে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করি।” সারাবছর যেমনই হোক পুজোয় বাঙালির উদরপূর্তির নানা ফর্দ থাকে, আপনার তালিকায় কী কী পদ মাস্ট? পরিচালক বলছেন, “বাড়িতে যা খাবার হবে, সেটাই খেতে হবে। নইলে বউয়ের মার খেতে হবে! যেমন সপ্তমীতে মাছ, অষ্টমীতে নিরামিষ, নবমীতে মাংস- প্রতিদিন এরকম ভাগ থাকে। তবে পুজোর সময়ে আমাদের বাড়িতে মূলত নানা ধরনের নিরামিষ পদই হয়। রান্নার ঠাকুর এসে রাঁধেন। অনেকের পাত পড়ে।” থিম পুজো নাকি সাবেকিয়ানার প্রতি টান বেশি? এপ্রসঙ্গে শিবপ্রসাদ জানালেন, “দুটোই পছন্দের। থিম যদি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়, সেটা যেমন ভালো লাগে, তেমনই সাবেকি পুজো আমার বরাবরের পছন্দের।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, অপসারণের দাবিতে এবার সংসদের দু’কক্ষেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব!
-
দুধের তৈরি না হলে বলা যাবে না ‘পনির’, ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া নিয়মের পথে কেন্দ্র
-
পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র
-
SIR-এ বাদ, ট্রাইব্যুনালেও ওঠেনি নাম, হতাশায় চরম সিদ্ধান্ত কালনার যুবকের!
-
নাম জড়ায় ভূপেশ বাঘেল, রণবীর কাপুরদের! গ্রেপ্তার সেই মহাদেব বেটিং অ্যাপের কিংপিং