২২ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

ত্রাণ পেয়ে আপ্লুত,পঞ্চব্যঞ্জনে বিরসা-বিদীপ্তাকে খাওয়ালেন আমফান দুর্গতরা

Published by: Bishakha Pal |    Posted: June 1, 2020 2:43 pm|    Updated: June 1, 2020 5:26 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সুপার সাইক্লোন আমফান তছনছ করে দিয়েছে সবকিছু। কলকাতা তো বটেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা রীতিমতো বিধ্বস্ত। এমন পরিস্থিতিতে আমফান দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারকারা। নুসরত জাহান, পার্ণো মিত্র, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রূপম ইসলাম, চৈতি ঘোষাল, রুদ্রনীল ঘোষরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার বিরসা দাশগুপ্ত ও বিদীপ্তা চক্রবর্তীও গিয়েছিলেন আমফান বিধ্বস্ত মানুষদের সাহায্য করতে। কিন্তু পরিবর্তে যা পেলেন, তাতে তাঁরা অভিভূত।

সপ্তাহ দুয়েক আগে দক্ষিণবঙ্গে তাণ্ডব দেখায় সুপার সাইক্লোন আমফান। পরিস্থিতি যে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, তার আশঙ্কা ছিল আগেই। তাই উপকূল অঞ্চলে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। প্রয়োজনমতো সব ব্যবস্থাই করেছিল প্রশাসন। কিন্তু আমফান যে আশঙ্কাকেও ছাপিয়ে যাবে, তা বুঝতে পারেনি বঙ্গবাসী। বিধ্বংসী এই ঝড়ের পর দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। জায়গায় জায়গায় উপড়ে গিয়েছে গাছ। এক সপ্তাহের উপর বহু এলাকায় ছিল না বিদ্যুৎ সংযোগ। দুই ২৪ পরগনার অবস্থা তো এখনও বেশ খারাপ। ঝড়ে উড়ে গিয়েছে একাধিক মানুষের বাড়ির ছাদ। নদী ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে বাড়ি। ঠাঁই নেই বহু মানুষের। তাঁদের পাশেই দাঁড়াতে গিয়েছিলেন বিরসা বিদীপ্তারা। দমদম তরুণ দলও পৌঁছে গিয়েছিল আমফান দুর্গতদের কাছে। সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন অনিত ঘোষ, ক্রিকেটার অর্ণব নন্দী, ক্রিকেটার দীপ চট্টোপাধ্যায়। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন রঞ্জিত বাজাজ, সৃঞ্জয় বোস, অমরিন্দর সিংয়ের মতো বিশিষ্টজনেরা। 

[ আরও পড়ুন: ‘একজন হাসিখুশি শিল্পী চলে গেলেন’, ওয়াজিদ খানের প্রয়াণে শোকবার্তা অমিতাভের ]

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাহেবখালি, ছাতরা, হিঙ্গলগঞ্জে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। আমফান এলাকার অনেকের বাড়িকে গ্রাস করেছে। গোটা গ্রামে এখনও রয়েছে নোনাজল। পানীয় জলের অভাব সর্বত্র। এইসম আমফান দুর্গতদের বিরসা-বিদীপ্তা খাওয়ার জল, ওষুধ, জামাকাপড়, চাল, ডাল দিয়ে সাহায্য করেন। কিন্তু কলকাতা থেকে যাওয়া, ত্রাণ দেওয়া, এসব কাজ করতে গিয়ে বেল গড়িয়েছিল অনেকটাই। খিদেও পেয়েছিল বিরসা ও বিদীপ্তার। কীভাবে যেন সেই গ্রামের মানুষ বুঝতে পারেন সেকথা। বিরসা তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, “আমাদের খিদে পেয়েছে বুঝতে পেরে, এই দুঃসময়েও, ওরা আমাদের রেঁধে, পাত পেড়ে খাওয়ালো।” মেনুও নেহাত সাদামাটা নয়। তারকাদের ওই বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যেই ভাত, মুসুর ডাল, বাগদা চিংড়ি দিয়ে কুমড়োর ছেঁচকি, পটল বাগদা চিংড়ি, গোলমরিচ দিয়ে দিশি মুরগির ঝাল আর কাঁচা আমের চাটনি খাওয়ালেন গ্রামের মানুষ। বললেন, “বাগদাগুলো ঝড়ে ভেসে ঘরে এসেছিলো, কুমড়ো আর পটল আমাদের ক্ষেতের, চাল ডাল যেটুকু বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি…”

এই দুঃসময়ের মধ্যে এমন আপ্যায়ণ পেয়ে আপ্লুত তারকারা। বিরসা লিখেছেন, “আমরা এসেছিলাম ওদের সাহায্য করতে, আর ওরা আমাদের জানান দিলো ভালোবাসা কাকে বলে! আর এও শেখালো যে জীবনের ঝড়-ঝাপটা কিভাবে হাসিমুখে অতিক্রম করতে হয়! রোজই কিছু না কিছু শিখি, তবে আজ যা শিখলাম তা কোনওদিন ভুলবো না!”

[ আরও পড়ুন: বলিউডে করোনার থাবা, প্রয়াত বিখ্যাত সংগীত পরিচালক ওয়াজিদ খান ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement