BREAKING NEWS

১০  আশ্বিন  ১৪২৯  বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

‘লক্ষ্মী ছেলে’ ছবিতে নিজের ছেলে উজানকে নেওয়ার নেপথ্যে স্বজনপোষণ? উত্তর দিলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

Published by: Akash Misra |    Posted: August 19, 2022 10:29 am|    Updated: August 19, 2022 2:39 pm

kaushik ganguly's interview on new Movie Lakhhi chele | Sangbad Pratidin

তিন বছর পর নতুন ছবি নিয়ে আসছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।  ‘লক্ষ্মীছেলে’ ছবিতে ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায় ও ছবি নিয়ে বিশেষ আড্ডায় পরিচালক। শুনলেন বিদিশা চট্টোপাধ‌্যায়

প্রায় তিন বছর পর আপনার ছবি রিলিজ করছে। ‘লক্ষ্মী ছেলে’-তে এই প্রথম আপনার পরিচালনায় উজান কাজ করেছে। ‘পরিচালক’ না ‘বাবা’, কোন সত্তাটা বেশি কাজ করেছে?
কৌশিক: কোভিডের আড়াই-তিন বছর পর প্রত্যেকের ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে। একটা ব‌্যাকলগ তৈরি হয়েছে বলা যায়। এর মধ্যে রিলিজ না হওয়ায় পরিচালক হিসাবে এটাতে আমার একটা অন‌ভ‌্যাস তৈরি হয়েছে। শরীর-মন-স্নায়ুর একটা অভ‌্যাস থাকে, ছবি মুক্তির ধকল বা পদ্ধতি, তার উৎকণ্ঠা, তার অ‌্যাগনি– সবকিছুকে ফেস করার। এখন একটু আউট অফ টাচ হয়ে গিয়েছি। তবে এই যে বললে ‘পরিচালক’ না ‘বাবা’–সত্যি আমি ‘বাবা’-কে উড়িয়ে দিতে পারছি না। আমি নিজের ক্রাফট-এর প্রতি খুবই দায়বদ্ধ। শুটিংয়ের সময় অভিনেতারা কেমন কাজ করেছে, সেটা বুঝতে পারি। ‘রসগোল্লা’-তে প্রথম ছবি হিসাবে যেমন কাজ করা উচিত, উজান তেমনই করেছে। আর ও খুব পরিশ্রমী ছেলে। এটা অনেকটা লম্বা রাস্তা, ওর অনেকটা পথ বাকি। তবে ওকে এই ছবির জন‌্য যখন ফ্লোরে পেয়েছি তখন ও অনেকটাই তৈরি। আর এই প্রথম আমরা তিনজনে একসঙ্গে কাজ করলেও উজানকে একুশ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আমার সঙ্গে কাজ করার জন‌্য।

উজানকে নিজের ছবিতে কাস্ট করবেন এটা আগে ভেবেছিলেন?

কৌশিক: উজান যখন খুব ছোট, তখন থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল, ওকে নিয়ে ছবি করার। কিন্তু এই পেশার অনিশ্চয়তা আমি আর চূর্ণি দু’জনেই জানি। তাই ওকে জোর করিনি কোনওদিন। পরিবারের ব‌্যবসা আছে বলে সেই দোকানে আমরা ওকে বসিয়ে দেব, সেটা কোনওদিনই করতে চাইনি। ও যেদিন দোকানে এসে বসবে, ওর জন‌্য সবসময় চেয়ার রাখা থাকবে। আর এই চরিত্রের জন‌্য উজান মানানসই বলেই ওকে নিয়েছি। উজান, পুরব এবং ঋত্বিকা তিনজনেই খুব ভাল করেছে। এবং সেটে আমি পরিচালক, বাবা নই। এমনকী, চূর্ণির সঙ্গেও এতবছর কাজ করেছি, আউটডোরে গিয়ে আমি আর চূর্ণি কোনওদিন একঘরে থাকিনি। তবে হ্যাঁ, অন‌্য ছবির সঙ্গে এই ছবির তফাত কি নেই! আছে। আমার অন‌্য ছবির অভিনেতা– পরমের ভাল হোক, আবিরের ভাল হোক, ঋত্বিক ফাটিয়ে দিক– আলাদা করে সেটা ভাবিনি। ছবিটা সবার ভাল লাগুক, চেয়েছি। কিন্তু এই প্রথম আমি কোনও অভিনেতার ভাল চাইছি। আমি চাই উজানকে দর্শকের ভাল লাগুক, পছন্দ করুক। এর আগে আলাদা করে কোনও অভিনেতার ভাল চাইনি।

[আরও পড়ুন: ‘আমি এসবে ভয় পাই না’, কলকাতায় এসে ‘বয়কট বলিউড’ বিতর্কে মুখ খুললেন তাপসী পান্নু]

স্বজনপোষণের অভিযোগও তো উঠতে পারে?
কৌশিক: যারা অভিযোগ করবে, তারা সম্পূর্ণ নিজেদের দায়িত্বে সেটা করবে। কিন্তু অভিযোগ করার আগে তারা একবার ভেবে দেখতে পারে, একুশ বছর একটা ছেলেকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বাবার কাছে অ‌্যাক্টিং করার জন‌্য। স্বজনই বা কোথায় আর পোষণই বা কোথায়!

‘লক্ষ্মী ছেলে’-র ব‌্যাকস্টোরিটা একটু বলবেন?
কৌশিক: এটা সত্যি ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। এমন শিশুর জন্ম হয় আমরা খবরে পড়ি। ‘বাচ্চা’টা ছবির কেন্দ্রে থাকলেও আমরা অন‌্য একটা জায়গা অ‌্যাড্রেস করার চেষ্টা করেছি। মানুষের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারের দিকটা তুলে ধরেছি। ‘লক্ষ্মী তাতমা’ নামের একটি মেয়ে জন্মেছিল ২০০৫ সালে, বিহারে, চারটে হাত, চারটে পা নিয়ে। এই মেয়েটিই আমার মূল অনুপ্রেরণা। দুর্গার দশ হাত আমরা দেখতে পাই কিন্তু সেটা তো রূপক। ধর্মের মধ্যে থাকা রূপককে ডিকোড করতে না পারলে কী করে হবে। এই ছবিতে সেই চেষ্টাই করেছি। একটি গ্রামে এক শিশুর জন্ম হয় যার চারটে হাত। সেটা দিয়ে শুরু। আর এদিকে তিনজন জুনিয়র মেডিক‌্যাল স্টুডেন্ট ঘটনাচক্রে সেখানে পৌঁছয় কর্তব্যের খাতিরে।

আপনার কিছু ছবিকে একটা ব্র‌্যাকেটে ফেলা যায়, যেমন ‘শব্দ’, ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘নগরকীর্তন’, ‘অপুর পাঁচালি’, ‘ছোটদের ছবি’– একটা নির্দিষ্ট ইস্যুকে অ‌্যাড্রেস করা হয়েছে। এটা কি সচেতনভাবেই করেন?
কৌশিক: হ্যাঁ, এটা আমি খুব সচেতনভাবে করি। এটা আমার প্রবণতা বলেই আমার মনে হয়। বিনোদনের জন‌্য বিনোদন করার অনেক লোক রয়েছে। তাদের ছোট করছি না, সেটা তাদের ধরন। আমার ছবিতে আজকের সময়ের একটা দলিল থাকবে, সেই সময়ের গল্প বলা থাকবে। বিশাল সেট, রাজবাড়ি, ঝাড়লণ্ঠন নিয়ে ফ‌্যাসিনেটেড নই। প্রয়োজনে থাকতে পারে। আমার কাছে শ‌্যাওলাপড়া দেওয়াল, শিয়ালদার অলি গলি আকর্ষণ করে। তবে বিষয়কেন্দ্রিক ছবির পাশাপাশি ‘বাস্তুশাপ’-এর মতো ছবিও আছে। বিষয়ভিত্তিক ছবির একটা ফিউচার থাকে, তা সে ন‌্যাশনাল অ‌্যাওয়ার্ড বা অন‌্যান‌্য পুরস্কার হোক না কেন। বছরে একটা ইস্যুভিত্তিক ছবিই যথেষ্ট নয়তো যেখানেই পাঠাব, ফোকাস হারিয়ে যাবে। একসঙ্গে দুটো ইস্যুভিত্তিক ছবি বানালে সেটার সারকুলেশন কমে যাবে। তাই বছরে তেমন ছবি একটাই করি। তবে একটা ছবি করলে আমার সংসার চলবে না। তখন কী হবে? তাই একটা উচ্চাঙ্গ সংগীত হলে, একটা লঘু সংগীত হবে।

আপনি কী মনে করেন ছবির ফিউচার একটা জাতীয় পুরস্কার বা কোনও আন্তর্জাতিক পুরস্কার? সিনেমার ‘শেলভ-লাইফ’-এ বিশ্বাস করেন না তাহলে?

কৌশিক: না না, অবশ‌্যই ছবিটা কতদিন থেকে যাবে সেটাই আসল। আমি বিশ্বাস করি আমার ছবি থেকে যাবে। এই নিয়ে কারও সঙ্গে আমার আলোচনারও প্রয়োজন নেই। বক্স অফিসের মধ্যে একটা আনন্দ আছে ঠিকই। প্রযোজকের মুখে হাসি থাকে। ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’, ‘নগরকীর্তন’ সেই হাসি এনে দিয়েছে। কিন্তু ‘ছোটদের ছবি’-র মতো ব্রিলিয়ান্ট ছবি, এত পুরস্কার পেয়েছে, কিন্তু চলেনি। তাতে প্রযোজকের মুখে, ‘ঠিক হল না’– এটা লেখা থাকে। এখন এটা দেখতে আর ভাল লাগে না।

আপনার হিন্দি ছবি পরিচালনা কতদূর?
কৌশিক: ওহ! সে আঠেরো মাসে বছর। সে কাজ চলছে। আর আমারও কোনও তাগিদ নেই। যারা হিন্দি ছবিতে আমাকে পরিচালনা করতে বলেছে, সম্পূর্ণ তাদের তাগিদ। মুম্বই যাওয়ার তাগিদ কোনওদিন ছিল না। আমি এখানে খুব হ‌্যাপি। আমার এই বাঁশবাগানে শিয়াল সেজে থাকাটা এত ভাল লাগে, কী বলব! এখানে দর্শক আমাকে সম্মান করে। মুম্বইয়ে গিয়ে চারদিন একটা হাউসে সম্মান পাব তারপর স্ট্রাগলারের ভূমিকায় অভিনয় আমি এই জীবনে করতে পারব না।

[আরও পড়ুন: করণের দরবারে গোপন কথা ফাঁস, সম্পর্কের গুঞ্জনে সিলমোহর কিয়ারা-সিদ্ধার্থের]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে