Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Durga Puja 2023

Durga Puja 2023: ১২ বছর অপেক্ষা করেছি পুজোয় ছবি আনার জন্য: নন্দিতা-শিবপ্রসাদ

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ‘রক্তবীজ’ রিলিজ করবে

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২৩, ২০:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২৩, ২০:২২

options
link
Durga Puja 2023: ১২ বছর অপেক্ষা করেছি পুজোয় ছবি আনার জন্য: নন্দিতা-শিবপ্রসাদ zoom

পুজো রিলিজ ‘রক্তবীজ‘ নিয়ে নন্দিতা রায় শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথনে শম্পালী মৌলিক

এই প্রথম নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ‌্যায় পরিচালিত ছবি পুজোয় আসছে। পুজোর ছবির লড়াইয়ে ঢুকে পড়লেন আপনারাও, কেমন লাগছে?

Advertisement

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ‌্যায় : ভাল লাগছে। আমার ধারণা, চারটে বাংলা ছবিরই কনটেন্ট খুব ভাল। এবং চারটে ছবির মধ্যেই খুব সুন্দর বৈচিত্র আছে। মনে হচ্ছে, এই সিনেমাগুলো মানুষ দেখবে। শুধুমাত্র হল-এ বসে তো আজকাল ছবি দেখে না, মানুষ ওটিটি-তেও দেখে। মোবাইলে হোক, উড়োজাহাজে হোক বা ঘরে বসে স‌্যাটেলাইটে হোক দেখবে। আমার মনে হয়, ব‌্যবসার নিরিখে এই চারটে সিনেমারই ক্ষমতা ছিল আরও বেশি দর্শককে হল-এ নিয়ে আসার। সবকটার সমানভাবে সেই পোটেনশিয়াল আছে। এটা একটু আনফরচুনেট যে চারটে সিনেমাকে একই সঙ্গে আসতে হচ্ছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী চারটেই ভালো ব‌্যবসা করবে বলে
আমার বিশ্বাস।

‘রক্তবীজ’-এর পুজোয় আসার সিদ্ধান্তে কতটা সহমত ছিলেন?
নন্দিতা রায় : আমার খুবই ভালো লাগছে। কারণ ছবিটা যখন তোমরা দেখবে বুঝতে পারবে। এই ছবিটা আর অন‌্য কোনও সময় আনা যেত না। পুজোর প্রেক্ষাপটের ছবি, এই সময়েই আসতে হত।

পলিটিক‌্যাল থ্রিলার ঘরানার ছবি আপনারা কখনও করেননি। তার ওপর পুজো। এই ফেস্টিভ মুডে এই ধরনের ছবি নিয়ে আসা ঝুঁকির নয়?
শিবপ্রসাদ : না, না একদমই নয়। বরঞ্চ বলব, আমরা ১২ বছর অপেক্ষা করেছি একটা পুজোতে ছবি আনার জন‌্য। যেরকমভাবে পুজোতে ছবি রিলিজ করছে, সেটা যে কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা পরিচালকের কাছে স্বপ্নের মতো। বাংলায় শ্রেষ্ঠ উৎসবের সময় ছবি রিলিজ, আমরা চেয়েইছিলাম। একফোঁটাও ঝুঁকি নেই।
এখনও পর্যন্ত যা ‘বাজ’ বা উন্মাদনা টের পাচ্ছেন ‘রক্তবীজ’-এর জন‌্য সেখান থেকে কতটা আশাবাদী?
নন্দিতা : খুবই আশাবাদী। ‘বাজ’-টা ক্রিয়েট হয়েছে বুঝতে পারছি। আমাদের যে দর্শক যারা মুখিয়ে থাকে আমাদের ছবির জন‌্য, এবারও তারা বসে আছে রিলিজের অপেক্ষায়, যে তারা কখন গিয়ে ছবিটা দেখবে। সেটা খুবই আনন্দের ব‌্যাপার।

এ ছবি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে। যাকে রূপদান করেছে আপনাদের চিত্রনাট‌্য। জোরালো কাস্টিং। সেটাও কি ছবির অন‌্যতম ইউএসপি?
শিবপ্রসাদ : ব্রিলিয়ান্ট কাস্টিং। আমার মনে হয়, আজ অবধি যা সিনেমা করেছি, তার মধ্যে অন‌্যতম সেরা কাস্টিং, যথোপযোগী কাস্টিং।

ভিক্টর বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের মতো হেভিওয়েট স্টার-অভিনেতাকে সামলানো বা ওইরকম একজন অভিনেতাকে নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
শিবপ্রসাদ : (হাসি) সামলানো খুব কঠিন ছিল। এটা সত্যি বড় ব‌্যাপার যে, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের সঙ্গে কাজ করলাম আমরা। ফাইনালি যে উনি রাজি হয়েছেন সিনেমাটা করতে, এতটা সময় দিয়েছেন, সেটাই বড় পাওয়া আমাদের কাছে।

মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে আপনারা কাজ করেছেন আগে। আর আবির চট্টোপাধ‌্যায় আপনাদের প্রোডাকশনের কাজ করেছেন আগে। এই দু’জনকে একসঙ্গে পাওয়াও দারুণ ব‌্যাপার। একদিকে নবীন প্রজন্ম, অন‌্যদিকে প্রবীণ অভিনেতারা।
শিবপ্রসাদ : একদমই। আবির-মিমি জুটি হিসাবেও তো প্রথমবার আসছে। ভিক্টরদা-অনসূয়াদি আরেক দিকে। ডিফারেন্ট কাস্টিংয়ের একটা মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে এই ছবিতে। যেমন আরেক দিকে অম্বরীশ-কাঞ্চন। অন‌্যদিকে নতুন সারির অভিনেতারা। যেমন– দেবাশিস, সত‌্যম, উমা, গুলশনারার সঙ্গে প্রথম কাজ করলাম। অঙ্কিতা মাঝির সঙ্গেও তাই। অঙ্কুশ, পারমিতার সঙ্গে প্রথম কাজ। এই সিনেমাটা পরিচালক হিসাবে আমার কাছে অনেককিছু। আমি পরতে পরতে শিখেছি এই সিনেমাটা করতে গিয়ে। ভিক্টরদা-আবির সকলের কাছেই শিখেছি। সত‌্যমের কাছেও শিখেছি। গুলশনারা কী অভিনয় করেছে! রিলিজের পর মানুষ গুলশনারা, পারমিতা, অঙ্কিতা সকলের কথা বলবে। এক একজন পাওয়ারহাউস।

আপনার কাছে জানতে চাই, এরকম অ‌্যাকশন ভরপুর ছবি ডিরেক্ট করতে কেমন লেগেছে?
নন্দিতা : খুব মজা লেগেছে। এরকম তো কখনওই করিনি। নতুন অভিজ্ঞতা হল। তার মধ‌্য দিয়ে যে যেতে পেরেছি সেটাই বিশাল বড় ব‌্যাপার। ভাবিনি, এই বয়সে এসে অ‌্যাকশন থ্রিলার ডিরেক্ট করব।

খুব খুঁতখুঁত করেছেন নিশ্চয়ই অ‌্যাকশন সিন নিয়ে?
নন্দিতা : শিবু খুবই খুঁতখুঁত করেছে। ওর ইন্টার‌্যাকশন আমাদের ফাইটমাস্টার মনোহর ভার্মার সঙ্গে ছিল, দেখার মতো (হাসি)। ওঁদের কোরিওগ্রাফির স্টাইল তো আলাদা, সেটায় শিবু অধৈর্য হয়ে যেত।

সকলেই এতদিনে জানে যে, এই ছবি খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। সেটাও ছিল পুজোর সময়। ঘটনার সঙ্গে একটি জঙ্গি সংগঠনের যোগ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ক্লু পাওয়া যায়। সেই তদন্ত ভিত্তি করে এই ছবি। এমন কড়া বিষয় নির্বাচন করলেন কেন?

শিবপ্রসাদ : এই বিষয়টা নিয়ে আমরা ২০১৪ সালেই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন বাজেট বড় বেশি ছিল আমাদের পক্ষে। এটাই আমাদের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি। যা এর আগে ভাবিনি। ইন টার্মস অফ কাস্টিং ও বৃত্তটা বড়। এই সিনেমার পুরো শুটিংই কলকাতার বাইরে। যে পরিমাণ জুনিয়র আর্টিস্ট কাজ করেছেন কী বলব। আমাদের সিনেমায় এই প্রথম এত ইল‌্যাবোরেট অ‌্যাকশন রয়েছে। তো তখন ওই বাজেট আমরা করতে পারতাম না, এখন সেটা সম্ভব। আর আমরা সবসময়ই হার্ড হিটিং কিছু করতে চেয়েছি। যখন ‘মুক্তধারা’ করেছিলাম আমরা, সেই সময় সংশোধনাগারে কালচার থেরাপি সারা দেশকে নড়িয়ে দিয়েছিল। যখন কেষ্টপুর খালে বাস পড়ে গিয়েছিল, উইন্ডোজ চেয়েছিল ‘অ‌্যাকসিডেন্ট’ ছবিটা করতে। সেই সময় আমরা যা যা বলেছিলাম, কিছুদিন আগে বেহালায় দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর পর ইন্টারনেটে একই চিত্র, অর্থাৎ ‘অ‌্যাকসিডেন্ট’-এর ক্লিপ চলল। ‘হামি’ যখন হল, সারা ভারতে ‘হামি’-ই ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বা ‘কণ্ঠ’-র কথা যদি বলি, ল‌্যারিঞ্জিয়াল ক‌্যানসার নিয়ে ছবি আমরাই প্রথম করেছিলাম।

আপনারা সবসময়ই সত্যি ঘটনা, নিউজ বা ইস্যু ধরে ছবি বানানোর চেষ্টা করেন। ‘রক্তবীজ’-ও তাই। যেখানে রাজ‌্য বনাম কেন্দ্রের লড়াই থাকবে। একটুও ভয় করেনি?
শিবপ্রসাদ: না, না ভীষণ মজার। তুমি কীভাবে বিষয়টা হ‌্যান্ডল করছ সেটা গুরুত্বপূর্ণ। মিমি হচ্ছে স্টেটের আর আবির সেন্ট্রালের, ট্রেলার দেখেই বুঝবে (হাসি)। ছবিজুড়ে এটা রয়েছে। ওই সময়ে এটাই হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করি একটা বিষয়কে মোটিভ হিসাবে ব‌্যবহার করতে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ যদি মূল জায়গা হয়, আমরা তার চারপাশ দিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যে কারণে রাষ্ট্রনায়কের কথা আছে। যে কারণে, ক্ষমা আর রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কথা আছে। কনস্ট‌্যান্ট এই দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ রয়েছে ছবিতে।

হিন্দি এবং বাংলায় ‘রক্তবীজ’ আসছে।
শিবপ্রসাদ : আমরা ১৯ অক্টোবর চারটে ভাষায় একসঙ্গে রিলিজের পরিকল্পনা করেছি। গুরুত্ব দিচ্ছি অসম আর বাংলাকে। বোধহয় এটাই প্রথম বাংলা সিনেমা, যেটা অসমে ৩৫টা হল-এ অহমিয়া ভাষায় মুক্তি পাবে। ওড়িয়াতে এক সপ্তাহ পরে রিলিজ করব। হিন্দিতেও সাইমালটেনিয়াসলি রিলিজ। কত হল পাব এখনই বলতে পারছি না। গুরুত্ব দিচ্ছি অসম ও উড়িষ‌্যাকে। সাউথের ছবি রিলিজ করলেও দেখবে, কন্নড়, তামিল, তেলুগু, মালয়ালমে জোর দেওয়া হয়।
নন্দিতা : এখানে আমরা চেষ্টা করছি ইস্টার্ন জোনকে ধরার।
শিবপ্রসাদ : অসমের ছবিকেও কিন্তু আমাদের জায়গা দিতে হবে, একইভাবে। আরও একটা সুখবর হল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ‘রক্তবীজ’ রিলিজ করবে (হাসি)।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.