চেক বাউন্স মামলার অভিশাপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না! ফের বিপাকে রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। বকেয়া টাকা মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত জুলাই মাসেই অভিনেতাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। এমনকী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজপালকে অত্মসমর্পণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বলিউডের ‘ছোটে পণ্ডিত’। সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতেই এবার বিপাকে খোদ রাজপাল যাদব। অভিনেতাকে কড়া শর্ত বেঁধে দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম নির্দেশ, ৫ কোটি টাকা জমা না দিলে ফের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাঁকে।
১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বলিউডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পালটা দিল্লি উচ্চ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম দুয়ারে যান রাজপাল।
আরও পড়ুন:
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে দিল্লি হাই কোর্ট। তবে জামিন মঞ্জুর হলেও বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল অভিনেতাকে। কিন্তু আদালতের নির্দেশানুযায়ী মামলাকারীকে বকেয়া টাকা মেটাতে ব্যর্থ হন রাজপাল। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে ফের তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আদালতের তরফে জানানো হয়, মামলার নিষ্পত্তির জন্য একাধিক সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও অভিনেতা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বকেয়া মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই মর্মেই ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বলিউডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পালটা দিল্লি উচ্চ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম দুয়ারে যান রাজপাল। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ রাজপালের বিরুদ্ধে শর্তসাপেক্ষে নোটিস জারি করে ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নতুবা ফের জেলের সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয় অভিনেতাকে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।

২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি।
‘হাম কোই মন্দির কা ঘণ্টা হ্যায়, কি কোই ভি আকে বাজা যাতা হ্যায়?’, রাজপাল যাদবের এহেন বিখ্যাত সংলাপ আমজনতার পেটে খিল ধরালেও এই কথাগুলিই যেন তাঁর বাস্তবজীবনের ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে খাটে! ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এদিকে কয়েকবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া না মেটাতে পারায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব। জেলযাত্রার প্রাক্কালে করুণ সুরে বলেছিলেন, “আমার কোনও বন্ধু নেই যে বকেয়া টাকা মেটাবে।” এর আগে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। চেক বাউন্সের মামলায় সেসময়ে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও রাজপালের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা অর্থ ফেরত দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই আশা করেছিল আদালত। কিন্তু দু’দফায় ২.২৫ কোটি টাকা মেটালেও বাকিটা বকেয়া রয়ে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার রাজপাল যাদবকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মেয়ে-জন্ম এক সামাজিক নির্মাণ! যে ভাষায় কথা বলি সেখানেও লুকিয়ে লিঙ্গবৈষম্যের শিকড়
-
বলিউডে ‘কন্ট্রোভার্সি ক্যুইন’, পাকিস্তানে ‘ঈশ্বর’ রাখি সাওয়ান্ত! নিষিদ্ধ ফতোয়া উড়িয়ে কী এমন করলেন?
-
যুদ্ধে পুড়ছে ইউক্রেন, হরমুজে হাহাকার, ট্রাম্পের ভ্রূ কুঁচকে দিল্লির দরবারে পুতিন-পেজেস্কিয়ান
-
দিল্লিতে শুরু মোদি-পুতিন বৈঠক, ব্রিকস বিন্যাসে মার্কিন ভ্রূকুটি ফুৎকারে ওড়াল ‘ধুরন্ধর’ ভারত
-
১৩ মাসের ব্যবধানে ফের হাসপাতালে সৌরভের মা, এখন কেমন আছেন নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়?