BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘চোখের জলে নয়, খুশি মনে বিদায় জানান চিন্টুকে’, ব্যক্তিগত শোকের মাঝেই বার্তা কাপুরদের

Published by: Sandipta Bhanja |    Posted: April 30, 2020 3:01 pm|    Updated: April 30, 2020 3:01 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “জীবন কে দিন ছোটে সাহি, হাম ভি বড়ে দিলওয়ালে…” আটের দশকের ‘বড়ে দিলওয়ালা’ সিনেমার গান। হিট জুটি ঋষি-টিনা মুনিম। প্রকৃতপক্ষে বাস্তবজীবনেও এমনই তো ছিলেন ঋষি কাপুর- ‘বড়ে দিলওয়ালা’, হ্যাঁ বড় মনের মানুষ। মারণ রোগ ক্যানসারও তাঁর প্রাণবন্ত, স্বচ্ছল ভাব কেড়ে নিতে পারেনি। লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মার্কিন মুলুক থেকে চিকিৎসা করে ফিরেছিলেন গত বছরই। সেটে ফেরার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। বলিউডের ‘কাপুর খানদান’-এর বংশধর বলে কথা, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন, খাওয়া-দাওয়া, জমাটি পার্টি এটাই তো ছিল জীবন। ফিরেও ছিলেন শুটিংয়ে। কিন্তু শরীর ধকল সইতে পারেনি। কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছু ছবির কাজ অসমাপ্ত রেখেই চিরনিদ্রায় গেলেন বলিউডের ‘চার্মিং চিন্টু’। আর তার এই প্রাণবন্ত স্বভাবের জন্যই কাপুর পরিবারের তরফে ভক্তদের কাছে আরজি জানানো হয়েছে- “চোখের জলে নয়, হাসিখুশিভাবে স্মরণ করুন ওঁকে। তাহলেই চিন্টু খুশি হবে।”

প্রাণবন্ত তো বটেই! উচিত কথাও মুখের উপর সাফ বলা পছন্দ করতেন ঋষি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বক্ষণ সক্রিয়। বহু গরম ইস্যু নিয়েই ঋষিকে সরব হতে দেখা গিয়েছে একাধিকবার। দিন কয়েক আগের কথা। লকডাউনে মদের দোকান খোলা রাখার আরজি জানিয়েছিলেন। সেই টুইটে যতটা বাস্তববাদী ঋষির মনোভাব দেখা গিয়েছে, এক খোলামেলা, শিশুসুলভ-সহজ মানসিকতারও ইঙ্গিত মিলেছে। আত্মীয়া পতৌদি বেগম শর্মিলা ঠাকুর তাই বলেছেন, ‘একথা বলার সাহস ঋষি ছাড়া আর কেউ করতেন না!’ লকডাউন যাতে দেশের নাগরিকরা ঠিকভাবে পালন করেন, দেশে জরুরী অবস্থা চালু করার আরজিও জানিয়েছিলেন কিছু দিন আগে ঋষি। টুইটারে সেটাই ছিল তাঁর শেষবার্তা। আর তাই আইন সচেতন, যিনি কিনা দেশের জন্যেও ভাবতেন, তার প্রয়াণে যেন কেউ লকডাউন ভেঙে শেষ যাত্রায় শামিল না হন, সেই আরজিই জানানো হয়েছে কাপুর পরিবারের তরফে।

“ওঁর মৃত্যুর পর চোখের জল নয়, ওঁকে হাসি মুখে মনে করলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন ঋষি। ব্যক্তিগত এই শোকের মধ্যেও আমরা সবাইকে একটাই অনুরোধ করব, সারা দুনিয়া যে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা মাথায় রাখবেন এবং আইন অনুযায়ী চলবেন। উনিও তাই চাইতেন”, জানানো হল কাপুর পরিবারের বিবৃতিতে।  

মুম্বই কালবাদেবির চন্দনওয়ারি শ্মশানে সম্পন্ন হবে ঋষি কাপুরের শেষকৃত্য। ইতিমধ্যেই নীতু ও রণবীরের পাশে থাকার জন্যে হাসপাতালে হাজির হয়েছেন সইফ আলি খান, করিনা কাপুর ও আলিয়া ভাট। ঋষির মেয়ে ঋধিমা থাকেন দিল্লিতে। তিনিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দিল্লি থেকে মুম্বইতে যেতে পারেন।

[আরও পড়ুন:‘আমি শেষ হয়ে গেলাম!’, সহকর্মী ঋষি কাপুরকে হারিয়ে শোকাহত অমিতাভ ]

‘শর্মাজি নমকিন, ‘দ্য ইন্টার্ন’-এর কাজ অসমাপ্ত রেখেই পরজগতে পারি দিলেন অভিনেতা। ঋষির প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, স্নেহময় এবং প্রাণোচ্ছ্বল, এমনটাই ছিলেন ঋষি কাপুর’জি। প্রতিভাবান একজন মানুষ। ওঁর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার কথোপকথন মনে থাকবে চিরকাল। তিনি সিনেমাজগত ও দেশের অগ্রগতির কথা ভাবতেন। তাঁর মৃত্যু ভীষণই বেদনাময়। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।”

শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও, টুইটে লিখেছেন, “এই খবরে আমি হতবাক! দুঃখিতও। সিনেদুনিয়ার আইকনিক চরিত্র এবং বহুমুখী প্রতিভের অধিকারী একজন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন অভিনেতা। ১৫০টিরও বেশি ছবিতে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। নিজের অসুস্থতাকেও সেভাবে কোনও দিন প্রকাশ্যে আসতে দেননি। তাঁর পরিবার, বন্ধু, ভক্ত-সহ গোটা চলচ্চিত্র জগতের সমস্ত মানুষের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বিনোদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে তাঁর সঙ্গে বেশ ভাল সম্পর্ক ছিল ঋষি কাপুরের। অভিনেতার প্রয়াণে মনে করলেন সেই পুরনো দিনের কথা, যেদিন দিল্লিতে শপথ নিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ঋষি বলেছিলেন, ভাগ জলদি দিল্লি পাগল (তাড়াতাড়ি দিল্লি যাও)। শেষবার শুটিং সেটে দেখা হয়েছিল। সেভাবেই তাঁকে মনে রাখবেন কেন্দ্রীয় ম্নত্রী স্মৃতি ইরানি, জানালেন টুইটে।  শোকপ্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধীও। 

[আরও পড়ুন: ‘সেটে একটু বকাঝকা করতেন’, ঋষি কাপুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন পরিচালক শিলাদিত্য]

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement