একসময়ে বড়পর্দায় যেমন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি নিয়ে চর্চা হত, তেমনই ছোটপর্দায় রাহুল-সন্দীপ্তা জুটি মানেই ধারাবাহিক হিট। ‘তুমি আসবে বলে’, ‘আয় খুকু আয়’ সিরিয়ালে জুটি বেঁধেছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপ্তা সেন। কয়েক বছর আগেও টেলিপর্দার এই জুটিকে নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে চর্চার অন্ত ছিল না! তবে তালসারির মর্মান্তিক পরিণতিতে বর্তমানে সবটাই যেন কেমন স্মৃতির পাতায় বন্দি হয়ে গেল। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের দিন পাঁচেক পেরলেও কিছুতেই তাঁর মৃত্যুর খবর বিশ্বাস করতে পারছেন না সন্দীপ্তা সেন।

আরও পড়ুন:
“ছোট্ট সহজ, মাত্র ১৩ বছর বয়সে, বন্ধু-বাবা কে হারালো, এইটা বোঝা বা বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই। আর প্রিয়াঙ্কা, নিজের মন শক্ত রেখে, এই অবস্থাতে একা হাতে মিডিয়া, পরিবার, কাজ সবটা সামলাচ্ছে। এরকম একটা সময়ে, এত খারাপ লাগার মধ্যে, আরও কষ্ট হয় যখন সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখি।…”
মাত্র তেরো বছর বয়সে এই পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা কীভাবে সামলাবে সহজ? রাহুলের মৃত্যুর দায়ই বা কে নেবে? গত কয়েক দিনে বারবার ঘুরেফিরে এহেন নানা প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে জনসাধারণের মনে। কাঠগড়ায় উঠেছে, সিনেইন্ডাস্ট্রির কাজের নিয়মবিধিও। অনেকেই এহেন মর্মান্তিক পরিণতির দায় প্রয়াত রাহুলের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। এই কঠিন সময়ে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার এবং পুত্র সহজের সহমর্মী হয়ে কলম ধরলেন সন্দীপ্তা সেন। পিতৃহারা সন্তানের মনের অবস্থা অনুধাবন করতে পেরে সোশাল মিডিয়ায় গর্জে উঠেছেন তিনি। অভিনেত্রীর মন্তব্য, “আমরা প্রত্যেকে গভীরভাবে শোকাহত। খুব কাছের মানুষ চলে গেলে যে দুঃখটা হয়, এটা ঠিক সেই অনুভূতি। আর এই মনখারাপের শুধু শুরু আছে, শেষ নেই। সব থেকে বেশি কষ্ট হয় পরিবারের সদস্যদের, কাছের মানুষদের। কাকিমা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, আদরের বাবিনকে হারিয়েছেন তিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে দাদার কথা, বউরাণীর কথা, রাহুলের স্কুলের বন্ধুদের কথা, আত্মীয়দের কথা , বাবলুদার কথা, সহজের কথা আর অবশ্যই প্রিয়াঙ্কার কথা ভেবে। এ যে কি ভয়ংকর কষ্ট সেটা আমি-আপনি বুঝতে পারব না। ছোট্ট সহজ, মাত্র ১৩ বছর বয়সে, বন্ধু-বাবা কে হারালো, এইটা বোঝা বা বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই। আর প্রিয়াঙ্কা, নিজের মন শক্ত রেখে, এই অবস্থাতে একা হাতে মিডিয়া, পরিবার, কাজ সবটা সামলাচ্ছে। এরকম একটা সময়ে, এত খারাপ লাগার মধ্যে, আরও কষ্ট হয় যখন সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখি। সব বিষয়ে বিচার না করে মানুষরা যদি একটু সংবেদনশীল হয়, একটু নিরপেক্ষভাবে নিজেদের কষ্ট-যাপন করে, তাহলে মনে হয় রাহুলের পরিবার, একটু ভালো, একটু শান্তিতে, একটু আড়ালে, নিজেদের মতো করে থাকতে পারবে।” এখানেই অবশ্য থামেননি সন্দীপ্তা সেন।

“আমরা তো প্রত্যেকেই আলাদা মানুষ, আলাদা পার্সোনালিটি। আমাদের দুঃখপ্রকাশের ধরনও আলাদা। কিন্তু সোশাল মিডিয়াতে ঘটে চলা এই অস্বাভাবিক শুনানি, ‘ভার্ডিক্ট’ মাত্র ১৩ বছর বয়সি একটা বাচ্চা ছেলের সমাজ সম্পর্কে কী ধারণা তৈরি করতে পারে…।”
সন্দীপ্তা আওয়াজ তুললেন নেটপাড়ার সেসব নীতিপুলিশদের নিয়ে যারা অভিনেতার শেষকৃত্যের ছবি-ভিডিও দেখে প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী’র পোশাক, অভিব্যক্তি নিয়ে সমালোচনায় রত হয়েছেন। এহেন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে ‘মান এবং হুঁশ’ হারিয়ে যারা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছেন কিংবা অভিনেতার অকালপ্রয়াণ নিয়েও নানা কটু কথা বলছেন, কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন, তাদের তোপ দেগেই সন্দীপ্তা সেনের মন্তব্য, “আমরা তো প্রত্যেকেই আলাদা মানুষ, আলাদা পার্সোনালিটি। আমাদের দুঃখপ্রকাশের ধরনও আলাদা। কিন্তু সোশাল মিডিয়াতে ঘটে চলা এই অস্বাভাবিক শুনানি, ‘ভার্ডিক্ট’ মাত্র ১৩ বছর বয়সি একটা বাচ্চা ছেলের সমাজ সম্পর্কে কী ধারণা তৈরি করতে পারে, সেটা কি আমরা ভেবে দেখছি? একটু বোঝার চেষ্টা আমাদের সবাইকেই করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের একটু সংবেদনশীল, একটু পরিণত হওয়া উচিত। তবে এটাও সত্যি, গাফিলতি তো হয়েছেই। যথাযথ, নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। গাফিলতি ছাড়া এরকম ঘটনা তো ঘটতে পারে না। এখন শুধু সত্যিটা সামনে আসার অপেক্ষা। এই অপেক্ষার মাঝেই আমাদেরকে খুঁজে নিতে হবে একটু ভালো থাকা। রাহুল তো নিজেই ভালো থাকার প্রতি বেশি ঝুঁকে থাকতো।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা
-
সাতসকালে শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ হানা, তল্লাশির আগেই ‘পলাতক’ তৃণমূল নেতা
-
৪ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন