দিনটা ছিল ১২ জুন, ২০২৫। লন্ডনে পোলে খেলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন করিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুর। তাঁর মৃত্যুর পরই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে নিয়ে শাশুড়িমা রানি কাপুর ও করিশ্মার সঙ্গে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব। শিল্পপতি সঞ্জয়ের (Sanjay Kapur) সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে এবার নয়া মোড়। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার সামনে পুত্রবধূকে নিয়ে বিস্ফোরক রানি কাপুর।
তিনি অকপটে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সম্পত্তি নিয়ে যে বিবাদ চলছে তাতে প্রিয়াকে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছেন। সঞ্জয়ের মায়ের কথায়, “আমি এখন ভয় পাচ্ছি। ও আমার সঙ্গে কী করবে আমি জানি না। সম্পত্তি পাওয়ার জন্য ও কী করতে পারে তা নিয়েও আমি বুঝতে পারছি না। শুধু এটুকু বলতে পারি এই ব্যবসা আমার স্বামীর হাতে তৈরি।”
আরও পড়ুন:
রানি কাপুরের বক্তব্য,” আমার স্বামী আর কে ট্রাস্ট তৈরি করেছিলেন। প্রিয়া আমার স্বামীর সারাজীবনের তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পত্তি, তাঁর দেখা স্বপ্নকে দখল করতে চাইছে। ও ভাবছে, সবকিছুই ওঁর হয়ে গিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতিটা আমার জন্য খুবই কষ্টের। কারণ আমার স্বামী আর কে ট্রাস্ট তৈরি করেছিলেন এবং সবকিছু আমার নামে করে গিয়েছিলেন। প্রিয়া আমার স্বামীর সারাজীবনের তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পত্তি, তাঁর দেখা স্বপ্নকে দখল করতে চাইছে। আমার স্বামীর ৪০ বছরের পরিশ্রম এভাবে অন্য কারও হয়ে যাতে পারে না। আমরা মুম্বই থেকে দিল্লি গিয়ে বাড়ি তৈরি করেছি। গাছের নিচে বসে সেই বাড়ির প্রতিটা ইঁট গাঁথতে দেখেছি। এখন ও ভাবছে, সবকিছুই ওঁর হয়ে গিয়েছে। মুম্বইয়ের বাড়িটা ছিল বলে বেঁচে গেলাম। ছেলে মারা যাওয়ার পর তো আমি দিল্লি ছেড়ে এখানেই থাকছি।”
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রানি কাপুর দিল্লি উচ্চ আদালতে অভিযোগ করেন, একটি ‘প্রতারণামূলক ফ্যামিলি ট্রাস্ট’ তৈরি করে তাঁকে তাঁরই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে সঞ্জয়ের মৃত্যুর পরই তিনি এই প্রতারণার কথা জানতে পারেন। আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে সংস্থার তথ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এমনকী তাঁর ইমেল অ্যাকাউন্টও হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্য একটি ইমেল আইডি ব্যবহার করে ‘আরকে ট্রাস্ট’-এ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রানি কাপুর।
অন্যদিকে, প্রিয়া সচদেব, যিনি আরকে ফ্যামিলি ট্রাস্টের একজন ট্রাস্টি ও উপভোক্তা, সম্প্রতি একটি নোটিস জারি করে রানি কাপুরকে ট্রাস্টি পদ থেকে সরিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, রানি কাপুর ব্যক্তিগত লাভের জন্য ট্রাস্ট ব্যবহার করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন মোতাবেক, প্রিয়া এই ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য।
২৫ মার্চ একটি নোটিস জারি করে শাশুড়িকে ট্রাস্টির পদ থেকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। সঞ্জয়ের ‘আরকে ফ্যামিলি ট্রাস্ট’ সংক্রান্ত নোটিসে জানানো হয়েছে, ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত ও অপরিবর্তনীয় ট্রাস্ট হিসেবে এই ট্রাস্টটি গঠন করা হয়েছিল। মৃত্যুর প্রাক্কালে সঞ্জয়ই ছিলেন ‘আরকে ফ্যামিলি ট্রাস্ট’-এর একমাত্র সুবিধাভোগী। কিন্তু, গত জুনে তাঁর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী ট্রাস্টের সুবিধাভোগ করতে পারবেন সন্তানরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পরিবেশের বন্ধু হতে চান? কেনার বদলে কাগজ-কাপড়ে বানিয়ে নিন রাখি, রইল ৪ অভিনব আইডিয়া
-
শেয়ার বাজারে ভয়? ৫০ লাখের এফডিতে ৫ বছরেই মিলবে বিপুল রিটার্ন!
-
চার্চিলে খেলতে চাইছেন না প্রণয়রা, জামশেদপুর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন ফুটবলাররা
-
তদন্তে ‘অসহযোগিতা’ সুমিতের, অভিষেকের আপ্তসহায়ককে হেফাজতে চেয়ে ‘সুপ্রিম’ দরবারে রাজ্য
-
বামপন্থী ও ‘আরশোলা’দের মিছিলে পড়ুয়াদের ‘না’! বিতর্কে পড়ে পিছু হটল বিজয় সরকার