৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সাত বছর স্ট্রাগলের পর সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন আয়ুষ্মান খুরানা। এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তাঁর। মুম্বইয়ে আড্ডায় শ্রীময়ী মুখোপাধ্যায়।

অনেক শুভেচ্ছা! জাতীয় পুরস্কার অবশেষে এল ঝুলিতে। কেমন লাগছে?

ধন্যবাদ! আমার না প্রথম কয়েকদিন ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। ধীরে ধীরে হজম করছি ঘটনাটা। জানেন, আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করেছিলাম এই পুরস্কারটার জন্যে। যখন অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রথম মুম্বই আসি, তখন থেকেই ভেবে রেখেছিলাম, একদিন না একদিন জাতীয় পুরস্কার আমাকে পেতেই হবে। এতদিন পর অবশেষে আমার প্রতীক্ষার অবসান হল!

মনে হয় এই পুরস্কারটা আরও আগে পাওয়া উচিত ছিল?

দেখুন আমি যে ধরনের ছবি করি, তাতে মূলত বিষয়বস্তুই প্রাধান্য পায়। ‘ভিকি ডোনার’-এর সময় আশা করেছিলাম জাতীয় পুরস্কার পাব। কারণ ছবির বিষয়বস্তু একেবারে নতুন ছিল। পাইনি। যদিও ছবিটা একাধিক বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। তারপর থেকে আর কখনও কোনও পুরস্কারের কথা ভাবিনি। এ বছর আমার দুটো ছবি ‘অন্ধাধুন’ আর ‘বাধাই হো’ জাতীয় পুরস্কার পাবে, এতটা আশা করিনি।

[আরও পড়ুন:  ‘শুধু সানস্ক্রিন মেখে শুট করেছি’, ‘পরিণীতা’র শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার শুভশ্রীর]

বাড়িতে সবাই কী বলছে?

আমার বাচ্চারা খুবই ছোট। জাতীয় পুরস্কার কী সেটা ওরা বোঝে না। বাড়ির বাকিরা খুব খুশি। খবরটা পাওয়ার পর তাহিরা (স্ত্রী) খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় বাবার গলা বুজে আসছিল বারবার। আমার চেয়েও বোধহয় বাবা বেশি খুশি হয়েছেন আমি এই সম্মান পাওয়ায়।

যখন খবরটা পেলেন, তখন কী করছিলেন?

একটা অ্যাড ফিল্মের শুটিং করছিলাম। হঠাৎ ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেসেজ আসতে শুরু করল। সেটে সবাই আমাকে জড়িয়ে ধরে হইচই শুরু করে দিল। ওখানেই একটা ছোটখাট সেলিব্রেশন করা হল।

ভিকি কৌশল আর আপনি, দুজনেই এ বছর সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। ওঁর সঙ্গে কথা হয়েছে?

খবরটা পাওয়ার পরে প্রথম ফোনটা ভিকির কাছ থেকেই পাই। আমরা পাঞ্জাবি ভাষায় শুভেচ্ছা বিনিময় করলাম। ভিকি তো পারলে ফোনের ওপার থেকেই আমাকে জড়িয়ে ধরে! ওর সঙ্গে সেরা অভিনেতার পুরস্কার ভাগ করে নিতে পেরে আমার খুব গর্ব হচ্ছে। কারণ ভিকি একজন প্রতিভাবান অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি একজন অসাধারণ মানুষও।

কলেজ জীবনে যখন ট্রেনের স্লিপার কামরায় চেপে মুম্বই আসতেন, সেখান থেকে আজকের জাতীয় পুরস্কার জয়, স্বপ্নের মতো লাগে?

ট্রেনগুলো খুব লেট করত জানেন। কখনও আটচল্লিশ ঘণ্টা লেগে যেত মুম্বই পৌঁছতে। কিন্তু রেডিও জকি থেকে টেলিভিশন পার হয়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হয়ে ওঠার জার্নিটা বোধহয় তার চেয়েও অনেক বেশি লম্বা!  

আপনি এখন ‘গুলাবো সিতাবো’ ফিল্মের শুটিং করছেন। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগছে?

এক কথায় অসাধারণ! এই বয়সেও ওঁর যা এনার্জি, হাসতে খেলতে একজন ২৫ বছর বয়সীকে টক্কর দিতে পারেন। এই জন্যই তো উনি এখনও সবার উপরে। পরপর শুটিং করলেন ‘বদলা’ আর ‘গুলাবো সিতাবো’-র। এখন আবার ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ শুরু হতে চলেছে। সমান উৎসাহ নিয়ে সবটা করছেন। এই বয়সে সকলে কিন্তু এটা করতে পারবে না। ওঁর থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। 

[আরও পড়ুন: ‘১২ বছর বয়সেই প্রথম যৌন সম্পর্ক’, অকপট স্বীকারোক্তি রণবীর সিংয়ের!]

আপনার পরবর্তী ছবি ‘ড্রিম গার্ল’-এ আপনি এমন একজন পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করছেন যিনি হুবহু মেয়েদের গলায় কথা বলতে পারেন। বাস্তবে এমন কাউকে চেনেন যিনি মেয়েদের গলা নকল করতে পারেন?

ব্যক্তিগতভাবে এমন কাউকে চিনি না। তবে এই চরিত্রের জন্য হোমওয়ার্ক করার সময় পরিচালক রাজ শাণ্ডিল্য আমাকে বেশ কিছু ভিডিও দেখিয়েছিলেন, যেখানে ছেলেরা মেয়েদের গলা বা বডি লাঙ্গুয়েজ নকল করছে। সেগুলো দেখে মোটামুটি একটা আইডিয়া পেয়েছিলাম।

মেয়েদের গলা নকল করা কতটা কঠিন ছিল?

প্রথমে খুবই কঠিন মনে হয়েছিল। তবে ডাবিং করার সময় রেডিও জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে এসেছে। রেডিওতে আমাকে ভয়েস মডিউলেশন করতে হত। অনেক নাটকও করেছি রেডিওতে। ফলে ছবির জন্য মেয়েদের গলার আওয়াজ বের করতে সুবিধা হয়েছে। তা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমি এমন কোনও চরিত্র করিনি যেটা খুব সোজা। প্রত্যেকটা চরিত্রের পিছনেই আমাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে।  

‘ড্রিম গার্ল’ বলতেই আজও হেমা মালিনীর মুখ সবার চোখে ভেসে ওঠে। এবার থেকে কি ‘ড্রিম গার্ল’ শুনলে আপনাকে কল্পনা করতে হবে?

(হাসি) না না। আমি তো শুধু একটা ছবিতে ড্রিম গার্ল। বাস্তবে উনিই ড্রিম গার্ল ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং