৫ ভাদ্র  ১৪২৬  শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

দোরগোড়ায় পুজো। বাকি মাত্র ৬০ দিন। পারবেন তার মধ্যে ঝরাতে? প্রিয়দর্শিনী রক্ষিত কথা বললেন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে৷

ওয়েস্ট সাইজ দেড় ইঞ্চি বেড়েছে। পুজোর আগে ২৮ করতেই হবে।‘ডাবল চিন উঁকি মারছে। পুজোর মধ্যে ঝরিয়ে ফেলব ঠিক।’ ‘ভিড় এড়াতে নতুন শাড়ির ব্লাউজগুলো আগেই বানিয়ে ফেলেছি। এখন দেখছি টাইট হচ্ছে।’ সারা বছর করছি-করব করে এখন শিরে সংক্রান্তি, তাই তো? হাতে জাস্ট দুটো মাস। এর মধ্যে স্লিম অ্যান্ড ট্রিম হতেই হবে। না হলে নতুন কেনা ওয়েস্টার্নওয়্যার আর সেক্সি ব্লাউজগুলোর কী হবে? গোলগাল বঙ্গললনার গায়ে সেগুলো যে মানাবে না।আসলে সারা বিশ্বের যেমন নিউ ইয়ার রেজোলিউশন, তেমনই বাঙালি মহিলার পুজো রেজোলিউশন। নতুন বছরে শপথ নিই না নিই, জুলাই-আগস্ট নাগাদ পুজো রেজোলিউশন নেওয়াটা প্রায় নিয়ম। আর তার এক নম্বর আর্তি-ওজন কমাও! সম্ভব? ইয়েস, সম্ভব। কীভাবে? কিন্তু পড়তে যে কয়েক মিনিট লাগবে, তার চেয়ে বেশি সময় নষ্ট করবেন না প্লিজ। আর হ্যাঁ, প্রথমেই জেনে রাখুন, নিজের প্রতি নির্মম হতে হবে। ওজন কমানোটা কঠিন সমস্যা, তাই তার সমাধানও কঠিন। লেখাটা পড়তে পড়তে নিজেকে বলতে শুরু করুন, সারা বছর অনেক আতুপুতু হয়েছে। এবার গেট সেট গো।

[আরও পড়ুন: পশ্চিমি পোশাকে ভারতীয় ছোঁয়া, আধুনিকাদের মন ভোলাচ্ছে খাদি-ইক্কত]

কিটো ম্যাজিক:
ভাত সরে যাক প্লেট থেকে৷ ডায়েট দুনিয়ায় নতুন এন্ট্রি এবং অবিসংবাদী সুপারস্টার। পোশাকি নাম ‘কিটোজেনিক ডায়েট’। করণ জোহর থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, আলিয়া ভাট থেকে রণবীর সিং, সবাই আপাতত মজে কিটোয়। বাংলার এক তরুণ পরিচালক তো চল্লিশ দিনে কুড়ি কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন। হ্যাঁ, ঠিক পড়েছেন। চল্লিশ দিনে কুড়ি কেজি! বেশির ভাগ ডাক্তার কিটো ডায়েট প্রেসক্রাইব করেন না। কিন্তু ওজন কমানোর নেশায় ডাক্তারের কথা শুনছে কে?
কিটো ডায়েটের মূলমন্ত্র সহজ৷ খাবারদাবার থেকে কার্বস বাদ দিয়ে বেশি করে ফ্যাট খেতে হবে। ভাত-রুটি খাওয়া যাবে না, কিন্তু চিকেন-মাটন-মাছ-ডিম-মাখন-ঘি-চিজ সব চলবে। পছন্দের খাবারকে গুডবাই বলে শাকপাতা চিবোতে হয় না বলেই হয়তো কিটো ডায়েট জনপ্রিয়।
কীভাবে কাজ করে কিটো ম্যাজিক? এই ডায়েটে প্রোটিন, ফাইবার আর ক্যালশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। পদার্থগুলো শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়ায় এবং ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে। তাই আপাতদৃষ্টিতে ‘আনহেলদি’ খাবার খেয়েও দ্রুত ওজন কমে।
রূপকথা? এবার তাহলে বাস্তবে নামা যাক। ভাববেন না যত খুশি পিৎজা-চিজ-বেকন-ওমলেট খেয়েই স্রেফ ওজন ঝরিয়ে ফেলা যাবে। কিটো ডায়েট মানতে গেলে প্রথমেই প্লেট থেকে ব্যান করতে হবে ভাত। সঙ্গে রুটি, কোল্ড ড্রিংক, আইসক্রিম, দুধ, প্যাকেজড খাবার, চকোলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি। মোট কথা, সুগার জাতীয় সব কিছু ডায়েট থেকে ছাঁটতে হবে।
আমাদের শরীর দুটো জায়গা থেকে শক্তি শুষে নেয় সুগার আর ফ্যাট। কিটো ডায়েট মানতে গেলে সুগার বাদ দিয়ে ফ্যাট জাতীয় খাবার খেতে হবে। মানে চিজ, মাছ, মাংস, মাটির উপরের সবজি, বাদাম, ডিম ইত্যাদি। এই খাবার থেকে লিভার শক্তি সংগ্রহ করবে, ব্রেন সচল রাখবে। ফ্যাট ঝরবে। ঝরঝরে লাগবে।
কী খাবেন ভেবে মাথার চুল ছিঁড়তে হবে না। ইন্টারনেটে প্রচুর কিটো ডায়েটের রেসিপি রয়েছে। সেখান থেকে পছন্দমতো বেছে নিলেই ‘জব ডান’।

[আরও পড়ুন: দুর্দান্ত ফিগার ধরে রাখবেন কী করে? যোগা দিবসের আগে টিপস শিল্পার]

তবে কয়েকটা জিনিস মনে রাখা দরকার।
১. কিটো ডায়েটে যেহেতু খুব দ্রুত ওজন কমে, তাই একটানা এই ডায়েট ফলো না করাই ভাল। ভাত-রুটি আমাদের রোজকার খাদ্য। ডায়েট থেকে হঠাৎ সেগুলো সরিয়ে দিলে কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা। তাই এক্সপার্টদের টিপস, প্রথমে পনেরো দিনের জন্য কিটো ডায়েট ফলো করুন। তারপর চার-পাঁচ দিন বিশ্রাম, স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া। আবার পনেরো দিন কিটো।
২. যাঁরা ইনসুলিন নিচ্ছেন, যাঁরা হাই ব্লাড প্রেশারের রোগী বা যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন, কিটো ডায়েট তাঁদের জন্য নয়।
৩. কিটো ডায়েট মানতে গেলে খরচ একটু বেশি পড়বে। ভাত-রুটি বাদ দিয়ে শুধু মাছ-মাংসে পেট ভরাতে গেলে দু’এক পিস মাছ বা মাংস খেলে তো চলবে না। সেটা মাথায় রেখে ডায়েট শুরু করুন।

উপোসে রূপসী
ব্রেকফাস্ট ডিলিট ওজন কমানোর প্ল্যান বি। এহেন ডায়েটের ফলোয়ার লিস্টও কম ঝলমলে নয়। ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি। ইন্ডিয়া কোচ রবি শাস্ত্রী। আমাদের ‘দাদা’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সরকারি নাম ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ডায়েট’। যা শাস্ত্রী আর সৌরভকেও এক করে দিয়েছে। নাম খটমট, কিন্তু ব্যাপারটা সহজ। যাঁরা ফলো করেন তাঁদের মতে এর চেয়ে সহজ ডায়েট হয় না। কারণ এই ডায়েট ‘কী খাবেন’ নিয়ে ভাবে না। বরং বলে, ‘কখন খাবেন’?
গোদা বাংলায়, উপোস করে ওজন কমানো। কখন খাচ্ছেন আর কখন খাচ্ছেন না-এই দুটো ভাগে একটা দিন বা সপ্তাহ ভাগ করে ডায়েট শুরু। যখন খাবেন, সাধারণ খাবার খাবেন। বড়সড় বদল আনার দরকার নেই। কিন্তু যে সময়টা খাবেন না, কিচ্ছু খাবেন না। খেলেও যৎসামান্য। একটু চা বা কফি, ব্যস। অফ কোর্স চিনি ছাড়া। এতে খাওয়ার পরিমাণ কমবে আর ক্যালরি বেশি বার্ন হবে। ইকুয়েশন সহজ-টু প্লাস টু ইকুয়ালস ফোর। ‘ফোর’ অবশ্যই ওয়েট লস।
কীভাবে এগোবেন? ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের তিনটে প্রধান উপায়:
রোজ ১৪/১৬ ঘণ্টা উপোস
সপ্তাহে দু’বার ২৪ ঘণ্টা উপোস
সপ্তাহে দু’দিন (টানা দু’দিন নয়) ৫০০-৬০০ ক্যালরি খেয়ে বাকি পাঁচ দিন স্বাভাবিক পরিমাণে খাওয়া।

[আরও পড়ুন: টাইট জিনস নয়, মেকআপ হোক ন্যাচরাল- গরমে সাজগোজের টিপস দিলেন বিশেষজ্ঞরা]

এর মধ্যে প্রথম রাস্তাটা সবচেয়ে জনপ্রিয় আর সহজ। ৮ ঘণ্টা স্প্যানে (যাকে বলা হচ্ছে ‘ইটিং উইন্ডো’) খেয়ে দিনের বাকি ১৬ ঘণ্টা উপোস। মেয়েরা হলে ১৪ ঘণ্টা। মজা হল, আমরা অনেকে অজান্তেই এটা করে থাকি। জাস্ট ব্রেকফাস্ট স্কিপ করে! এই পদ্ধতি চালু করা একেবারেই কঠিন নয়। ধরুন আপনি আজ রাত আটটায় ডিনার করলেন। কালকের প্রথম খাবারটা খেলেন দুপুর বারোটায়। ব্যস, নিয়ম করে রোজ এটা করলেই হয়ে গেলেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ডায়েটের ফলোয়ার। এর চেয়ে সহজ কিছু হতে পারে?
তবে ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগারের সমস্যা থাকলে। ব্লাড প্রেশার লো অথবা প্রেগন্যান্ট হলে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে হুট করে উপোস করবেন না। উপোস করার দুশ্চিন্তায় যে সময়টা খাচ্ছেন, মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেলবেন না। মেয়েদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা উপোসের সময়টা ঘণ্টাখানেক কম রাখতে বলেন। পুরুষরা যদি ১৬ ঘণ্টা উপোস করেন, মেয়েরা ১৪ ঘণ্টা করলেই যথেষ্ট।
প্লাস পয়েন্ট প্রচুর। দ্রুত ওজন কমানো শুধু নয়, নিয়মিত উপোসে জিন-হরমোন-সেল সব কিছুর উন্নতি ঘটে। আয়ু বাড়ে। আর হ্যাঁ, এতে বাড়তি এক পয়সা খরচ তো হবেই না, উলটে দিনের একটা ‘মিল’ বাদ দেওয়ায় খাওয়া খরচ কমবে।

[আরও পড়ুন: কিম্ভূত না সাহসী? মেট গালায় প্রিয়াঙ্কার পোশাক নিয়ে কী বলছে টলিউড]

রবি শাস্ত্রী এককালে ভোজনরসিক হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। এখন বলেন যত প্রবলেম সব খাওয়া থেকে। নিজের জন্য তাঁর নতুন স্লোগান ‘খাওয়া কমাও স্বাস্থ্য বাড়াও’। বিরাট কোহলি টুইটারে মাঝে মাঝে তাঁর পুরনো দিনের ছবি পোস্ট করেন। যখন আলুর পরোটা আর পাঞ্জাবি খাবারদাবার কবজি ডুবিয়ে খেতেন। তারপর লেখেন, ওটা না ছাড়লে এই চেহারাটা আসত না। বাকি থাকেন দাদা। অসমর্থিত সূত্রের খবর, যে বিরিয়ানি এত প্রিয় ছিল তাকে নাকি এখন ডিপ থার্ড ম্যান বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যে করে হোক ওজন কমাতে হবে। নইলে ‘দাদাগিরি’ হবে না। কমেন্ট্রিও না।
জীবনে এত কিছু অ্যাচিভ করা মানুষেরা যদি খাবার লোভ বিসর্জন দিয়ে সুস্থ থাকাকে প্রাধান্য দিতে পারেন, আমি-আপনি তার বাইরে পড়ব কেন?
সেক্সি ব্ল্যাক ড্রেস পরে ম্যাডক্স স্কোয়ার প্যান্ডেল থেকে ফেসবুকে ছবি আপলোড করতে নিশ্চয়ই চাইবেন। বা বালিগঞ্জ কালচারালের সেলফি জোনে দাঁড়িয়ে? কিন্তু চেহারাটা ঠিক না হলে যাবতীয় চেষ্টা যে স্প্যামে চলে যাবে। তাই দ্রুত ঠিক করুন কোন হাইওয়েতে যাবেন? কিটো? না ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং? ইওর টাইম স্টার্টস নাও।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডঃ কল্যাণ বসুর মতে,
কিটো ডায়েট: আমার পরিচিত অনেকেই কিটো ফলো করেন। কিন্তু আমি একেবারেই এর পক্ষপাতী নই। ফ্যাড ডায়েটের ধাক্কায় জীবন দুর্বিষহ করে কী লাভ? সব কার্বস বন্ধ করে মানুষ ক’দিন ভাল থাকতে পারে? এত প্রোটিন খেলে কনস্টিপেশন অবশ্যম্ভাবী। বেশি মাখন-চিজ খাওয়াও ঠিক নয়।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ডায়েট: এর গ্রহণযোগ্যতা আমার কাছে সামান্য বেশি। আগেকার দিনে মা-ঠাকুরমারা ব্রতর জন্য উপোস করতেন। ইন ফ্যাক্ট গোটা পৃথিবীতেই নানাভাবে উপোস করার রীতি আছে। তবে এই ডায়েটের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। শরীর ফিট না হলে উপোস করাটা ট্রম্যাটিক। বেশিক্ষণ না খেলে গলস্টোনের অসুখ হতে পারে। অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে।

তাহলে উপায়: কোনও রেজিমেন্টেড ডায়েট আমি প্রেসক্রাইব করি না। পুজোর আগে দু’মাসে ওজন ঝরাতে আমার সাজেশন – কী খাচ্ছেন দেখে খান। কার্বস কমান। তিনবেলার জায়গায় একবেলা ভাত খান। সেটাও কম পরিমাণে। তিনটে রুটির বদলে খান একটা রুটি। আলু যতটা সম্ভব কম থাকুক। মিষ্টি আর ভাজা – এই দুটো একদম বাদ। আমার বটমলাইন, যেটা আমি রোগীদেরও বলি, প্রিয় সব খাবারের একটা লিস্ট করুন। এবার ডায়েট থেকে সেগুলো বাদ দিয়ে দিন!

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং