২৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত গল্প নয়। এই গল্প ভীষণভাবে আধুনিক। চরিত্রের মিল থাকলেও অধিকাংশই বদল হয়েছে মূল উপন্যাসের সঙ্গে। টলিউডের নতুন ছবি নিয়ে লিখছেন নীল মালাকার

বাকিটা ব্যক্তিগত ছবির পর দীর্ঘ ছয় বছর পরে আবার ছবি করলেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। এর মধ্যে টেলিভিশনে বেশ কিছু ছোট ছবি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রেখেছে দর্শকদের কাছে। তাঁর কথায়, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবিটি একেবারেই অন্য ধরনের এক ভাবনার প্রকাশ। যে ভাবনার জন্ম হয়েছিল আজ থেকে বহু বছর আগে ছাত্র জীবনে। রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত তাকে বারবার একটা অদ্ভুত টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড় করিয়েছে আর সেখান থেকেই এই ছবি করার ইচ্ছে জাগে তার। এর জন্য তাকে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার কথায় “ভাল কাজ করার জন্য এইটুকু অপেক্ষা করা যেতেই পারে! নিজের ভিতর থেকে সঠিক ভাবে যদি তাগিদ অনুভব না করি তাহলে কোনও কাজই সেই অর্থে ভাল কাজ হয়ে ওঠে না!”

রাজলক্ষ্মী, শ্রীকান্ত ও অন্যান্য চরিত্রগুলোকে আমরা খুঁজে পাবো ভীষণ ভাবে আধুনিক রূপে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর মূল লেখার সঙ্গে যা অনেকাংশেই বদল আছে চলচ্চিত্রে। রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত উপন্যাস (প্রথম পর্ব) এর ভাবনা নিয়ে ছবির গল্প এগিয়েছে।  মূল লেখার অনেক চরিত্রই আছে, আবার পাশাপাশি অনেক চরিত্র পরিচালক নিজে যুক্ত করেছেন চলচ্চিত্র এর প্রয়োজনে। তার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য চরিত্র এর সংযোজন “হুকুমচাঁদের চরিত্র” যেটি অভিনয় করছেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় এক অন্যমাত্রার অভিনয় দক্ষতায়। শ্রীকান্ত এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর রাজলক্ষ্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জ্যোতিকা। জ্যোতিকা ঋত্বিক এর সঙ্গে একেবারে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। জ্যোতিকার অভিনয় এর ছোঁয়ায় রাজলক্ষ্মী হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত চরিত্র প্রতিটা মুহূর্তে।

[ আরও পড়ুন: পুলিশের সঙ্গে প্রেম করছেন ক্যাটরিনা! ব্যাপারটা কী? ]

এই ছবিতে ঋত্বিকের অভিনয় দর্শক অনেক দিন মনে রাখবে, কারণ এর আগে ঋত্বিককে কখনওই এই ভাবে দেখেননি কেউ। শ্রীকান্ত রূপে ঋত্বিককে একেবারেই অন্য ভাবে দর্শক যে পাবে, সেটা ক্লোজডোর শোতেই বেশ বোঝা গেছে। যেইভাবে ঋত্বিক এই চরিত্রের জন্য নিজেকে ভেঙেছেন তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। প্রশংসার দাবি রাখেন অবশ্যই সায়ন ঘোষ। যাকে আমরা হ্যাপি টু ডিস্টার্ব এর আর.জে. হিসেবে চিনতাম এত দিন ধরে তার একশো আশি ডিগ্রি বিপরীতে গিয়ে চিন্তা করলেও কম বলা হবে! কারণ যেভাবে ইন্দ্রনাথ চরিত্রকে তুলে ধরেছেন সায়ন তা না দেখা পর্যন্ত কেউ বিশ্বাসই করতে পারবেন না। যে ইমেজ এতদিন ছিল আর জে হিসেবে সায়ন এর, সেই ইমেজ ইন্দ্রনাথ পুরোটা ভেঙে দিয়েছে। বাকিটা ব্যক্তিগত ছবির অপরাজিতা ঘোষ, অমিত সাহা আরও অনেকেই আছেন যাঁরা রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ততেও সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

প্রতিটা চরিত্র একেবারেই নিপুণ হাতে বোনা। রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত চরিত্রের মধ্যে এত ধরনের চড়াই উতরাই আছে যা জীবন্ত করে তোলা যে কোনও পরিচালক এর কাছেই একটা চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জটাই নিয়েছেন পরিচালক। গল্প বলার এক নতুনত্বের আঙ্গিক এর জন্য দর্শক যে নতুন স্বাদ উপলব্ধি করবে সেটা ছবির কয়েকটা দৃশ্য দেখলেই বেশ বোঝা যায়।

srikanta-1

“বাকিটা ব্যাক্তিগত” ছবিতে যেভাবে গল্প বলা হয়েছিল সম্পাদনার মুনশিয়ানায় ন্যারেটিভকে ভেঙে, এখানে কিন্তু সেইভাবে বলা হয়নি একেবারেই, পরিচালক নিজে যেহেতু সম্পাদনা করেন তাই তার ছবিতে গল্প বলার ধরণ প্রতিবারই বদলে যায় নতুন নতুন ছন্দে। এই ছবির সিনেমাটোগ্রাফি আর মিউজিক মনে রাখার মতো। ছবির প্রতিটা ফ্রেম খুব যত্ন করে ধরা আছে, অতীত থেকে বর্তমান দুটো সময়ই এত সুন্দরভাবে মিশেছে শুভদীপ দের ক্যামেরার মুন্সিয়ানায় তা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। প্রশংসার দাবি রাখে এই ছবির গান আর সাত্যকি বন্দে্যাপাধ্যায়ের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। প্রতিটা গানই মনে হয় জীবনের কথা বলছে, যা শুনলে মনে হবে এই গান যেন আমার জন্যই তৈরি। ক্লাসিকাল ও লোকসংগীত এক অদ্ভুত মাদকতা যুক্ত করেছে গোটা ছবি জুড়ে। সোহিনী চক্রবর্তী, তিমির বিশ্বাস, বাবলু সাঁই আর কানাই দাস বাউল এঁদের প্রত্যেকের গান এক অন্য প্রাণ দিয়েছে ছবিতে।

খুব কম বাজেটেও যে একটা ভাল ছবি তৈরি করা যায় “রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত” তারই উদাহরণ। খুব দ্রুতই দর্শক হলে গিয়ে ছবিটি দেখতে পাবেন, এখন শুধু ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায়।

[ আরও পড়ুন: OMG! প্রকাশ্যে স্ত্রীর প্রতি এভাবে ভালবাসা জাহির করলেন রণবীর ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং