২১ চৈত্র  ১৪২৬  শনিবার ৪ এপ্রিল ২০২০ 

Advertisement

‘শিষ্যদের যোগ্য উত্তরসূরি করে তুলতে চাই’ বললেন পদ্মভূষণ পেতে চলা পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী

Published by: Sandipta Bhanja |    Posted: January 26, 2020 9:17 pm|    Updated: January 26, 2020 9:17 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আজ সাধারণতন্ত্র দিবস। শনিবারই রীতি মেনে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। মোট ১৪১ জন পদ্ম সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন। যার মধ্যে পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন ৭ জন। ১৬ জন পাচ্ছেন পদ্মভূষণ পুরস্কার। এছাড়া ১১৮ জন পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। আর এই পুরস্কার প্রাপকের তালিকাতেই রয়েছে ৫ বঙ্গ সন্তানের নাম। যাঁদের মধ্যে সংগীতদুনিয়ায় বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হচ্ছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী এবং ড. মণিলাল নাগ।

উল্লেখ্য, এবছর বাংলা থেকে পদ্মভূষণে একমাত্র সম্মানিত হচ্ছেন পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী। ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত জগতে যে নাম এক প্রতিষ্ঠানসম। কিংবা প্রতিষ্ঠান বললেও ভুল হবে না! কারণ আজও পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী একনিষ্ঠভাবে নিরলস প্রচেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রজন্ম গঠনের কাজ। দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর প্রতিষ্ঠান শ্রুতিনন্দনে পা রাখলেই সেই আবহের উপলব্ধি হয়। ১৯৯৩ সালে তাঁর গুরু পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের অনুপ্রেরণায় সেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শ্রোতা দরবারে অজয় চক্রবর্তী বরাবরই সমাদৃত, একইরকমভাবে। তাঁর সৃজনশৈলীতে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব সংগীত দরবার। এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে বহু নবীন প্রতিভা। 

অজয় চক্রবর্তী বললেন, “বর্তমানে অনুষ্ঠানে পরাফর্ম করা আমার জন্য গৌণ হয়ে উঠেছে। তার থেকে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি। শিষ্যদের যোগ্য উত্তরসূরি করে গড়ে তুলতে চাই। আশা করি সেই কাজ করে যেতে পারব।”

[আরও পড়ুন: ‘প্রকৃত ভারতীয় না হয়েও কেন আদনানকে পদ্মশ্রী?’ প্রশ্ন তুলল রাজ ঠাকরের দল]

বাবা অজিত কুমার চক্রবর্তী ছিলেন অজয় চক্রবর্তীর প্রথম গুরু। এরপর পান্নালাল সামন্ত ও কানাইদাস বৈরাগির কাছে সংগীতের তালিম নেন। পরবর্তীকালে পদ্মভূষণপ্রাপ্ত পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কাছে দীক্ষিত হন তিনি। ইন্দোর, দিল্লি, জয়পুর, আগ্রা, গোয়ালিয়র-সহ দক্ষিণী সংগীতেও তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য রয়েছে। ২০১১ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয় তাঁকে। রাজ্য, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঘরানাকে বিদেশের মাটিতেও এক অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী।

মণিলাল নাগ, সংগীতজগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রদের মধ্যে একজন। যে সেতারশিল্পীর সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হয়েছে ভারত তথা আন্তর্জাতিক শ্রোতাবৃন্দ। বছর পাঁচেক আগে, ২০১৫ সালেও মণিলালবাবুর নাম মনোনীত হয়েছিল পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য। কিন্তু সেবার হয়নি। এবার ৫ বছর পর পদ্ম সম্মান পেয়ে আনন্দিত ৮১ বছর বয়সি সেতারশিল্পী। মণিলাল নাগের কথায়, “এই পুরস্কার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের বিষ্ণুপুর ঘরানার ধ্রুপদী সঙ্গীতের স্বীকৃতি।”

প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো বিষ্ণুপুর ঘরানা। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও যে ঘরানার সংগীতের গুণগ্রাহী ছিলেন। এমনকী, তালিমও নিয়েছিলেন। একাধিক সম্মান পেয়েছেন জীবনে। সেই ঘরানার মুকুটেই মণিলালবাবুর পদ্মশ্রী যেন নতুন পালক। যিনি নিজেকে বাংলা ধ্রুপদী সংগীতের উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। মণিলালবাবু বর্তমানে বাগবাজারের বাসিন্দা। যে বাড়িতে পদধূলি পড়েছে পণ্ডিত কিষাণ মহারাজ, পণ্ডিত কানাই দত্ত, পণ্ডিত মহাপুরুষ মিশ্রের মতো দুনিয়া কাঁপানো তবলাবাদকদেরও।

[আরও পড়ুন: মোদি-ভক্তির পুরস্কার! কঙ্গনা-একতা-আদনানদের ‘পদ্মশ্রী’ নিয়ে জোর বিতর্ক নেটদুনিয়ায়]

নয়ের দশকে একবার নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে এক কনসার্টে উদ্যোক্তারা জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তাঁকে কী বলে সম্বোধন করা হবে? জবাবে মণিলাল নাগ বলেছিলেন, “বাংলা ধ্রুপদী গানের উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে চলা সেতারবাদক। আর কিচ্ছু না।” সেই শিল্পীরই পদ্ম সম্মানের খবরে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা গুণমুগ্ধদের শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement