BREAKING NEWS

২৮ শ্রাবণ  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

রুই-কাতলার মতো পুকুরে ইলিশ চাষ, চমক মগরার চণ্ডীচরণের

Published by: Sayani Sen |    Posted: June 14, 2019 7:29 pm|    Updated: June 14, 2019 7:29 pm

An Images

ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: পুকুরে ইলিশ মাছ! তাও আবার হয় নাকি? এমনটাই ঘটেছে এই রাজ্যে। কলকাতা থেকে মাত্র দু’ঘন্টার দূরত্বে হুগলি জেলার মগরায় প্রায় ৫৯একর জমিতে রুই,কাতলা, চিংড়ির সঙ্গে একসঙ্গে বড় হচ্ছে নোনা জলের ইলিশ। একেকটির বয়স আঠারো মাস।ওজন প্রায় পাঁচশো গ্রাম।

[ আরও পড়ুন: আমের মরশুমে মালদহে নিপার আতঙ্ক, ঠোঙার মোড়কে গাছে ঝুলছে ফল!]

মগরার বাসিন্দা চন্ডীচরণ চট্টোপাধ্যায়ের রয়েছে প্রায় ৫৯ একরের একটি হ্যাচারি। সেই হ্যাচারিতেই ডিম ফুটিয়ে চারা থেকে বড় করা হয়েছে ইলিশ মাছ। রাজ্যের প্রথম সারির কয়েকজন ইলিশ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সটান মগরা হাজির রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। জাল ফেলে তোলা হল পুকুরে জন্মানো ইলিশ মাছ। হাতে নিয়ে একরকম বিস্মিত মন্ত্রী। বলেছেন, “সোনার পাথরবাটির কথা গল্প শুনেছি। এ তো তাকেও হার মানালো। মিষ্টি জলে যে ইলিশ মাছ বড় হতে পারে তা এই প্রথম দেখলাম।” দপ্তর সূত্রে খবর, এই বর্ষার আগে এই হ্যাচারিতে ডিম ফুটে প্রায় দশ লক্ষ ইলিশ মাছের চারা হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের দুই জায়গায় গঙ্গার মোহনায় এই চারা ইলিশ ফেলা হবে। প্রাথমিকভাবে, ঠিক হয়েছে ডায়মন্ডহারবার ও খড়গপুরের কাছে গঙ্গায় ইলিশ ছাড়া হবে। আগামী ১০ জুলাই মৎস্যমন্ত্রী ইলিশ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ডায়মন্ড হারবার যাবেন ইলিশ ফেলতে। রাজ্যের ইলিশ বিষজ্ঞদের বক্তব্য, গঙ্গায় যেহেতু জোয়ার-ভাটা হয়, তাই ইলিশের ওজনও দ্রুত বাড়ে। গঙ্গায় আঠারো মাসে একটি ইলিশের ওজন হয় প্রায় এক কেজির কাছাকাছি। এই হ্যাচারিতে ইলিশের ওজন পাঁচশো গ্রাম।

[ আরও পড়ুন: আর্মি ওয়ার্মের সংক্রমণে কোচবিহারে আতঙ্ক, মাথায় হাত ভুট্টা চাষিদের]

কি করে এমন ঘটনা হল? জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে অন্তত তিন বছর। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের এক দুপুরে মগরার চন্ডীবাবু হাজির হলেন সল্টলেকের মীন ভবনে। মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকদের জানালেন তাঁর প্রস্তাবের কথা। শুনে প্রথমটায় কেউ তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে কথাটা কানে আসতেই চন্ডীবাবুকে নিজের ঘরে ডেকে নেন চন্দ্রনাথ সিনহা। সব শুনে সরকারি সাহায্যর প্রতিশ্রুতি দেন। আর ফিরে তাকাতে হয়নি চন্ডীবাবুকে। সরকারি সাহায্য আর অদম্য সাহস নিয়ে পুকুরের মিষ্টি জলেই নোনা ইলিশ করে দেখিয়েছেন। যার স্বাদ, গন্ধ হুবহু ইলিশ। থুড়ি রুপালি শস্য। চন্ডীবাবুর কথায়, “ইলিশ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে হবে। সেই থেকে জেদ চেপেছিল। আজ আমি সত্যিই খুশি।”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement