সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একেই দেশজুড়ে নিত্যদিন বাড়ছে করোনার কামড়, তার উপর পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে পঙ্গপালের দাপটে রাতের ঘুম উড়েছে চাষিদের। পঙ্গপালের হানায় কাঁপছে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ। এসব রাজ্য থেকে আবার উত্তরপ্রদেশেও ঢুকে পড়েছে তারা। ঝাঁসির উপর দিয়ে মহারাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পঙ্গপালের দল। প্রথমে বিষয়টিতে সেভাবে আলোকপাত না করলেও রাক্ষুসে পোকার আক্রমণ রুখতে দিন দুয়েক আগে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। চাষিদের দুর্দশা ঘোচাতে কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়। তবে সরকারি পদক্ষেপের আশায় বসে না থেকে পঙ্গপাল তাড়াতে নিজেরাই উদ্যোগী চাষিরা। কিন্তু কীটনাশক প্রয়োগ করে নয়, একেবারে অন্য পন্থায় পঙ্গপালকে দূর করার চেষ্টা করলেন তাঁরা। খেতে বাজানো হল ডিজে মিউজিক!
শুনে খানিকটা অবাকই হতে হয়। তবে চাষিদের মতে এতে পঙ্গপালের দল খেতের তুলনামূলক কম ক্ষতি করবে। ঝাঁসির এক পুলিশকর্মী রাহুল শ্রীবাস্তব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, খেতের মাঝে একটি গাড়িতে ডিজে সিস্টেম বসানো রয়েছে। সেখান থেকে জোরে ভেসে আসছে ডিজে মিউজিক। পুলিশকর্মী লিখেছেন, “ডিজের গানে শুধু মানুষ নাচেই না, পঙ্গপাল তাড়াতেও তা কাজে লাগে। আসলে অতিরিক্ত শব্দেই জব্দ হয় পঙ্গপাল।” ভিডিওটি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। তবে এই প্রথম নয়, এর আগে একই কারণে মুখে বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ করে, থালা বাজিয়ে পঙ্গপাল তাড়ানোর চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন প্রান্তের চাষিরা।
डीजे सिर्फ़ नाच गाने के लिये ही नहीं बल्कि टिड्डी दल भगाने में भी कारगर होता है ।
दिन सबके बदलते हैं !
आप मुँह से आवाज़ निकाल सकते हैं या थाली भी पीट सकते हैं ।#DiscJockey #Locustswarm #locustswarms #Locusts #Locustsattack #LocustInvasion #LocustSwarmsAttack pic.twitter.com/zUcpYiJTGb
— RAHUL SRIVASTAV (@upcoprahul) May 27, 2020
[আরও পড়ুন: লকডাউনের পর কোন পথে এগোবে দেশ, মতামত চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন অমিত শাহর]
ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার হেক্টর খেতের জমি নষ্ট করেছে পঙ্গপালের দল। কোটি কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। আগে থেকে এই পঙ্গপাল হানার সতর্কতা থাকলেও সেভাবে কোনও পদক্ষেপই করেনি কেন্দ্র। তবে কৃষকরা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ার পর ঘুম ভেঙেছে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের Ministry of Agriculture and Farmers Welfare)।
কৃষিমন্ত্রক সূত্রের খবর, পাঁচ রাজ্যে মোট ২০০টি অস্থায়ী পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রক দপ্তর তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণের কাজ করে চলেছে এই দপ্তরগুলি। এখনও পর্যন্ত রাজস্তানের ২১টি, মধ্যপ্রদেশের ১৮টি, পাঞ্জাবের একটি এবং গুজরাটের ২টি জেলায় পঙ্গপালের হানা নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। কীটনাশক ছড়ানোর জন্য দমকলের ৮৯টি ইঞ্জিন, ১২০টি পর্যবেক্ষক যান, ৪৭টি পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রক যান, এবং ৮১০টি ট্রাক্টর নামানো হয়েছে। ব্রিটেন থেকে আরও ৬০টি অত্যাধুনিক স্প্রে করার যন্ত্র আমদানি করা হচ্ছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকও কৃষিমন্ত্রককে তাদের পরিকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
[আরও পড়ুন: ভাঙল সাম্প্রতিককালের সব রেকর্ড, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত সাড়ে সাত হাজার ছুঁইছুঁই]
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক