প্রাণ বাঁচানোর সফরে অজ্ঞাতেই নেমে এল ভয়ংকর মৃত্যু। সোমবার রাঁচি থেকে দিল্লিগামী এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনায় (Air Ambulance Crash) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭। অর্থাৎ বিমানে থাকা সকল যাত্রীরই মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, সঞ্জয় কুমার নামে এক ধাবা মালিকের প্রাণ বাঁচাতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি।
চাতরার পুলিশ সুপার সুমিত আগরওয়াল জানিয়েছেন, দিন দশেক আগে ধাবায় অগ্নিকাণ্ডের জেরে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ধাবার মালিক সঞ্জয় কুমার। দুর্ঘটনার জেরে তাঁর শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। এতদিন রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও সঞ্জয়ের শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে সঞ্জয়ের উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরিবার। সেই মতোই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় সেই সফরই মৃত্যু সফরে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন:
ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিএসের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বিমানটি। এক সময় পাইলট ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার জন্য এটিএসের কাছে অনুমতি চায়।
রাঁচি থেকে দিল্লি যাচ্ছিল বিচক্র্যাফট কিং এয়ার বিই৯এল মডেলে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট নাগাদ রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়ান দেয়। রাত ১০টা নাগাদ দিল্লিতে অবতরণের কথা ছিল সেটির। কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিএসের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বিমানটি। এক সময় পাইলট ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার জন্য এটিএসের কাছে অনুমতি চায়। যদিও এর পরেই রাডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, মাঝপথে ঝাড়খণ্ডের ছাতরায় সিমারিয়া জঙ্গলে ভেঙে পড়ে সেটি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ছোট বিমানটিতে পাইলট, চিকিৎসক ও এক রোগী-সহ মোট ৭ জন ছিলেন। তাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।
ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিমানে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা খতিয়ে দেখতে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো একটি বিশেষ তদন্তকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ, দমকল এবং ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের স্থানীয় আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে তৃণমূল। পাশাপাশি দেশে বিমান যাত্রার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলার শাসকদল। ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পর্বতারোহীদের তাবু-স্লিপিং ব্যাগেও দুর্নীতি! এভারেস্টে মৃতদের খুঁজতে টাকা দেননি অরূপ? বিস্ফোরক পিয়ালি
-
বার বার আবেদনেও সাড়া দিচ্ছেন না তৃণমূল নেতারা! ভবন উদ্ধারে এবার আইনি পথের ভাবনা মালিকের
-
অমানিশার শেষ, টলিউডের ‘স্বরূপ’
-
খামেনেইয়ের কাছে বার্তা নিয়ে হাজির পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরানের সম্পত্তিতেই ক্ষতিপূরণের ভাবনা ট্রাম্পের
-
চাকরি দেওয়ার নামে কাটমানি! তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ স্থানীয়দের