সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কাশ্মীর নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই আজ, শুক্রবার তামিলনাডুর ঐতিহাসিক জনপদ মামাল্লাপুরমে মুখোমুখি হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগেই জিনপিং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার বাজওয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুধু বৈঠক করাই নয়, ইমরানকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে কাশ্মীরের পরিস্থিতির দিকে তাঁর নজর রাখছেন বলে মন্তব্যও করেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। কাশ্মীর যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সেকথা জানিয়ে ভারত রুটিন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মোদি-শি বৈঠকের ঠিক আগেই এই ঘটনায় কূটনৈতিকমহল ভ্রু কুঁচকেছেন।
[আরও পড়ুন: ক্রাইস্টচার্চ হামলা থেকে উদ্বুদ্ধ, লাইভ স্ট্রিমিং করে সিনাগগে ঢুকে গুলি জার্মান যুবকের]
জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফরকে ‘ইনফর্মাল’ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় যে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে তা নিশ্চিত। ভারতের তরফে স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানকে সন্ত্রাস নিয়ে কোণঠাসা করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আবার চিনও আমেরিকার সঙ্গে তাদের যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে, তা সামলানোর জন্য ভারতের বাজারের দিকে আরও নজর দেবে বলেই মনে করছে কূটনৈতিকমহল।
চিনা প্রেসিডেন্টকে ডেকে ভারত পাকিস্তানকে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছিল যে, বিশ্বের কোনও দেশই তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখেনি। তখনই জিনপিংয়ের কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য ভারতকে যে খানিকটা হলেও বিপাকে ফেলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চিন সব সময়ই নিজেদের সুবিধামতো ভারতের প্রতি তাদের মনোভাব ব্যক্ত করে। প্রয়োজনের সময় ভাল ব্যবহার, আবার কখনও পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করা। ভারত সফরের আগে সেই একই কাজ করেছেন শি। যদিও মোদি-শি বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠবে না বলেই মনে করছে কূটনৈতিকমহলের একাংশ। কারণ, চিনের তরফে ভারতের মাটিতে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে নয়াদিল্লির তরফে কড়া জবাব মেলারই সম্ভাবনা। দেশের মাটিতে নিজেদের ‘শক্তিশালী’ বিদেশনীতির প্রমাণ দিতে ভারতকে কড়া অবস্থান নিতেই হবে। আবার চিন নিজেদের আর্থিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এবারের সফরে এমন কিছু করবে না বলেই অনেকের মত।
আমেরিকার বাজার থেকে যে আর্থিক ঘাটতি হচ্ছে, তা ভারতের বাজার থেকে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা জিনপিং করবেন বলেই কূটনৈতিকমহলের ধারণা। যদিও ভারত সফরের আগে শি-র মন্তব্য নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছে বিরোধীরা। ভারত কেন হংকং নিয়ে চিনকে পাল্টা চাপ দিচ্ছে না, প্রশ্ন তুলছেন কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারি। কাশ্মীরের পাল্টা হংকংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতের নজর রয়েছে বলে চিনকে জবাব দেওয়া উচিত বলেই দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু ভারত এখনও জল মাপছে। কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করলেও জিনপিং তার জন্য বেজিংকে বেছে নিয়েছেন। ভারতের মাটিতে এমন কথা বললে তার জন্য মোদি সরকার তৈরি রয়েছে বলেই সূত্রের খবর। চিনকে সামলাতে যে শক্তিশালী বিদেশ নীতি প্রয়োগ করতে হবে, সেকথা কেন্দ্র তথা বিজেপিকে বহুদিন ধরেই বলে আসছে তাদের মতাদর্শগত অভিভাবক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। জিনপিংকে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করতে দিলে সরকারকে যে ঘরে সংঘ পরিবার এবং বাইরে বিরোধীদের চাপের মুখ পড়তে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সবকিছু এড়িয়ে কূটনৈতিক অস্ত্রেই চিনকে মাত করার জন্য ঘুঁটি সাজাতে মোদি সরকার বাকি রাখেনি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
[আরও পড়ুন: সিরিয়ায় কুর্দ মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল তুরস্কের ফৌজ]
সর্বশেষ খবর
-
রাজস্থানে পাড়ি দিল মালদহের লিচু, আয়ের নতুন পথ খুলতেই মুখে হাসি চাষিদের
-
মাতলা নদীর চর দখল করে ক্যাফে! শওকত-পুত্রকে নোটিস প্রশাসনের, ভাঙা হবে ‘অরণ্যের কূলে’?
-
জ্বালানি সংকটের মাঝেই আন্দামানে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস’ ভাণ্ডার! ‘সমুদ্র মন্থনে’ বিরাট সাফল্য
-
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের স্বস্তি দিয়ে অনুশীলনে মেসি, নেইমার নিয়ে কী ভাবছে ব্রাজিল?
-
সবুজই আসল সোনা, পরিবেশ সচেতনতায় শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর বিশেষ উদ্যোগ