২৬ আষাঢ়  ১৪২৭  শনিবার ১১ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

করোনা আবহেই জলের সমস্যা! মাথায় হাত পশ্চিমের রাজ্যের ধান চাষিদের

Published by: Sucheta Chakrabarty |    Posted: May 16, 2020 9:46 am|    Updated: May 16, 2020 9:46 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবহেই ফসল ও জলের জন্য লড়াই শুরু পশ্চিমের রাজ্যগুলির মধ্যে। করোনা আবহে এই রাজ্যের কৃষকদের এক চিন্তার বিষয় হল গ্রীষ্মের দাবদাহে জলের সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকার কোন ফসলের উপর এখন বেশি গুরুত্ব আরোপ করছেন? সেই মত তারা চাষ করবেন।

ধান চাষে জলের প্রয়োজন সর্বাধিক। অন্যদিকে চাষের জন্য পর্যাপ্ত জল ব্যবহার করতে গেলে জলাধারগুলি থেকে মিলবে না পর্যাপ্ত জল। তাই ১৯৭০ সালে সবুজ বিল্পবের সময়ের পর ২০০০ সালে পাঞ্জাবে একটি নীতি প্রণয়ন করা হয়। তৎকালীন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং জানান, রাজ্যেচ কৃষকরা কখন ধান বপন করবেন। কিন্ত তখন কেউ তা কিনবেন না। অবশেষে ২০০৯ সালে পাঞ্জাবে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, সরকার কৃষকদের ধান রোপনের তারিখের বিষয়ে অবহিত করবে। ফলে রাজ্যে একদিকে যেমন ধান চাষও হবে তেমনই জলের অভাবও দেখা দেবে না। পাঞ্জাবের এই আইনটির অনুকরণ করে প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা। এই আইন রাজ্য সরকারকে জমি বাঁচানোর জন্য ধানের ফসল বা নার্সারি ধ্বংস করারও অধিকার দেয়। পাঞ্জাব সরকার এই আইনের ভিত্তিতে, চাষের জন্য জল সাশ্রয় করতে ধান বপনের তারিখগুলি জেনে নেন। ফলে এপ্রিল-মে মাসে ধানের বপন করলে প্রতিকেজি ধানের উৎপাদন করতে তারা সাড়ে চার হাজার লিটার জল ব্যবহার করতে পারবেন। তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা থাকায় ধানের চাষ শুরু করলে রাজ্যের জলাধারগুলি থেকে জলের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হয়। এপ্রিল-মে মাসে যেখানে সাড়ে চার হাজার লিটার ব্যবহার হয় সেখানে এই সময় মাত্র দেড় থেকে ২ হাজার লিটার জলেই কাজ হয়ে যায়। এরপরেই পাঞ্জাবের কৃষকরা ধানের পরিবর্তে তুলোর চাষ করতে শুরু করেন। তবে পাঞ্জাব, হরিয়াণার মত তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওও রাজ্যের চাষিদের ধান বপনের নির্ধারিত সময় স্থির করে দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কৃষকরা চাষের ফসল বপন করলে তিনি কৃষকদের ন্যূনতম আর্থিক সাহায্য করবেন বলে আশ্বাসও দেন।

[আরও পড়ুন:‘পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব রাজ্যের’, ফের চিঠি দিল কেন্দ্র]

তেলেঙ্গানা সরকার রাজ্যে রায়থু বন্ধু নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছেন। সেই প্রকল্পরে অধীনে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে চাষ করলে কৃষকদের একর প্রতি ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়। সেখানে কৃষকদের ধানের পরিবর্তে তুলো ও ছোলার চাষে বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়। এভাবেই গ্রীষ্মে রাজ্যের চাষের জল বাঁচাতে ও চাষিদের ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হরিয়ানার বেশ কয়েকটি জায়গায় ধানের চাষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই খরা থেকে বাঁচার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

[আরও পড়ুন:বিপদের দিনে ‘বন্ধু’ মোদির পাশে ট্রাম্প, ভারতকে বহু ভেন্টিলেটর দিচ্ছে আমেরিকা]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement