প্রবল ছাত্র বিক্ষোভের জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে হয় মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকে। বুধবার তথাকথিত সেই ছাত্র বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে প্রথমবার সরাসরি ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন হাসিনা। আর সেই ভাষণেই বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ‘আসল সত্য’ ফাঁস করলেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, “এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; গোটাটাই ছিল সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র।” শুধু তাই নয়, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ইঙ্গিতে ভারতকেও সতর্কবার্তা দিলেন তিনি।
পুলিশকে সমর্থন করে হাসিনা বলেন, “আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল থানা, সরকারি কার্যালয়। আওয়ামি লিগের ১০ হাজার সদস্য নিহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় ৫০ হাজারকে।”
আরও পড়ুন:
হাসিনা বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি বাংলাদেশকে ভুগতে দেখেছি। দেশটিতে এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। শুরুতে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে হিংসাত্মক রূপ দেয়। গোটা আন্দোলনটিকে হাইজ্যাক করে দেয়। আমরা কোটা ব্যবস্থা বাতিল করি। তিনজন মন্ত্রী আলোচনাতেও বসেন। কিন্তু ওরা আমার পদত্যাগের দাবি তোলে। মিথ্যা অপপ্রচার চালায়।” তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে গোষ্ঠীগুলি আন্দোলনটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। তাদের লক্ষ্য ছিল হিংসা ছড়ানো এবং সরকার পরিবর্তন করা।” পুলিশকে সমর্থন করে হাসিনা বলেন, “আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল থানা, সরকারি কার্যালয়। আওয়ামি লিগের ১০ হাজার সদস্য নিহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় ৫০ হাজারকে।”
এদিকে গত মাসেই দিল্লির বুকে বিশাল এক ছাত্র অন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রথমে রাজধানীতে তা শুরু হলেও পরে কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই আবহেই বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ‘আসল সত্য’ ফাঁস করলেন হাসিনা। ‘আরশোলা’র আড়ালে কি তবে রয়েছে বাংলাদেশের মতোই দেশবিরোধী কোনও গোষ্ঠী? ভারতে ‘ককরোচ’দের আন্দোলন কি নিছকই ছাত্র আন্দোলন না কি এর নেপথ্যে রয়েছে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র? ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, ইঙ্গিতে নয়াদিল্লিকে সেই সতর্কবার্তাই দিলেন হাসিনার।
কলকাতায় ‘ককরোচ’দের মিছিল শেষে ‘জঙ্গিপনা’র ছবিই চোখে পড়েছে। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জুতো-জলের বোতল। পালটা আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। তাতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ। এনিয়ে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ডোরিনা ক্রসিং। আন্দোলনের নামে এহেন অরাজকতা সৃষ্টি কি ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে সম্ভব? তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এগুলি ‘বহিরাগত’দের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
সর্বশেষ খবর
-
চোর পালালে আর বুদ্ধি নয়! পুজোর আগে বড় নির্দেশ লালবাজারের
-
বিহারের দুই ‘ভাই’ বৈভব-ঈশানের সঙ্গে দেখা করতে চান জাপানের ‘বিহারি’ ক্রিকেটার
-
অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর মাথায় কাটারির কোপ! খুনের দায়ে গ্রেপ্তার শ্বশুর
-
ভাঙল ‘মৌচাক’ জুটি! ‘কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেব…’, প্রিয় মিঠুর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রঞ্জিত মল্লিক
-
‘ছেড়ে দিন প্লিজ’, ছাত্রীর আকুতি সত্ত্বেও কোচিং থেকে ফেরার পথে শ্লীলতাহানি, সঙ্গীকেও হেনস্তা