১৯৭৪ সাল। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘মৌচাক’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন রঞ্জিত মল্লিক ও মিঠু মুখোপাধ্যায়। সিনেমার পর্দায় সীতেশ-নীপার রসায়ন দেখে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিল দর্শকমহলও। এরপর সাড়ে পাঁচ দশক পেরলেও মিঠু-রঞ্জিতের ‘মৌচাক’ আজও দর্শকমনে গাঁথা। মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের সঙ্গে সেই বহুল চর্চিত জুটিতে আজ যতিচিহ্ন পড়ল। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রঞ্জিত মল্লিক।
“ওঁর সঙ্গে কাজের বহু সুন্দর স্মৃতি আজ মনে পড়ছে। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’তে যা পার্ট করেছিল, তা ভোলার নয়। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, ছায়াদেবীর সঙ্গে সমান ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে কাজ করেছিল।…”
আরও পড়ুন:
রবিবার রাতে ইহজগতের মায়া কাটিয়ে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। সেকারণেই সোমসকালে একের পর এক ফোন এসেছে রঞ্জিত মল্লিকের কাছে। মিঠু নেই, প্রথমটায় এই খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি প্রবীণ অভিনেতা। রঞ্জিত মল্লিক জানালেন, “ভীষণ হৃদয়বিদারক! মন থেকে মেনে নেওয়া শক্ত। কারণ মিঠু আমাদের থেকে বয়সে অনেক ছোট। এরকম একটা খবর আমার কাছে আসবে, আমি ভাবিনি। কী বলব, সেটাই বুঝতে পারছি না। এতদিন একসঙ্গে কাজ করেছি আমরা, তাই আজ যখন খবরটা শুনলাম প্রথমে একটু বিশ্বাস করতে অসুবিধে হচ্ছিল। কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেব আমি বুঝতেই পারছি না।”

সাত-আটের দশকে ‘শেষ পর্ব’, ‘মর্জিনা আবদুল্লাহ’, ‘নিশিকন্যা’, ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-সহ একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। তবে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’য় তাঁর রসায়ন সবথেকে বেশি নজর কাড়ে দর্শকের। স্মৃতির সরণিতে হেঁটে প্রয়াত মিঠুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন রঞ্জিত মল্লিক। বর্ষীয়ান অভিনেতার মন্তব্য, “মিঠু অসাধারণ একজন অভিনেত্রী। ওঁর সঙ্গে কাজের বহু সুন্দর স্মৃতি আজ মনে পড়ছে। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’তে যা পার্ট করেছিল, তা ভোলার নয়। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, ছায়াদেবীর সঙ্গে সমান ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে কাজ করেছিল। উত্তমদার (কুমার) সঙ্গে অসাধারণ কাজ করেছিল ‘মৌচাক’-এ। এছাড়াও একটা ছবি করেছিল। সেই দিনগুলোর কথা ভীষণভাবে মনে পড়ছে আজকে। নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া তো আমার আর কিছুই নেই। একজন অসাধারণ অভিনেত্রী এবং ভালো মানুষকে হারালাম আমরা। বাংলা চলচ্চিত্রে ওঁর অবদান এবংস্মৃতি চিরকাল থেকে যাবে। যেখানে থাকুক শান্তিতে থাকুক। ওঁর আত্মা শান্তি পাক।”
“এক অদ্ভুত সম্মোহনী আকর্ষণ ছিল, যা খুব বেশি অভিনেত্রীর মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না বলেই আমার মনে হয়। গালের একটা অদ্ভুত সুন্দর তিল আর দুটো টোল – এটাই বোধহয় তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। …”

মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও। অভিনেত্রী জানালেন, “অনেক অভিনেত্রীই আসেন, একটা দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে একসময় চলে যান। মিঠু মুখোপাধ্যায় তেমনই একজন অভিনেত্রী, যিনি হয়তো খুব বেশি কাজ করেননি, কিন্তু যতটুকু করেছিলেন তা আমাদের কাছে চিরকাল একটা অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে থাকবে। তাঁর ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘আশ্রিতা’, ‘মৌচাক’-এর মতো ছবি, আরও অনেক ছবি সত্যিই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। এক অদ্ভুত সম্মোহনী আকর্ষণ ছিল, যা খুব বেশি অভিনেত্রীর মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না বলেই আমার মনে হয়। গালের একটা অদ্ভুত সুন্দর তিল আর দুটো টোল – এটাই বোধহয় তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। তাঁর হেয়ারস্টাইল, তাঁর স্টাইল, তাঁর সেক্স অ্যাপিল, আর ছবির প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ কমিটমেন্ট। একটা সময়, অনেক বছর পর যখন তিনি ‘আশ্রিতা’ ছবি দিয়ে ফিরে এসেছিলেন, তখন দেখেছিলাম কীভাবে বিজলী সিনেমায় হইহই করে মাসের পর মাস, প্রায় বছরখানেক ধরে হল ভর্তি ছিল – ছবিটা কখনও নামেইনি।”
ঋতুপর্ণা জানালেন, “দু’দিন আগেই একজন খুব ভালো পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম- মিঠু মুখোপাধ্যায়কে কোনও ছবিতে আনা যায় কিনা, তাঁর সঙ্গে কোনও কাজের সুযোগ তৈরি করা যায় কিনা। আর ঠিক তার দু’দিন পরেই তিনি চলে গেলেন। কী আশ্চর্য! তাঁকে মনে করছিলাম বলেই হয়তো – এটাকেই বোধহয় বলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে আমাদের সংযোগ। ওঁর কাছ থেকে আরও কিছু কাজ, সান্নিধ্য পেলে ভালো লাগত। তবে তিনি চিরকাল ‘গ্ল্যামার গার্ল’ ইমেজেই থেকে যাবেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু, পলাতক ভুয়ো ডাক্তার, মৃতের মা’য়ের নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!
-
এআইয়ের সাহায্যে ভয়ংকর বিস্ফোরক বানাচ্ছে বোকো হারাম, জঙ্গি হানার ছকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
-
অ্যাক্রোপলিস মলে মহিলার ‘শ্লীলতাহানি’, গ্রেপ্তার ৬
-
মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় মোটা অঙ্কের জরিমানা! শাস্তির মুখে কী সাফাই আইআইএম জম্মুর?
-
হাসিনা কাঁটার মধ্যেও বাণিজ্য সম্পর্কে শান, ভারত-বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্স গড়তে আলোচনা!