২৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  বুধবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সমাজের অচলায়তন ভেঙে সবরীমালা মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছিলেন কনকদুর্গা এবং বিন্দু৷ বিপ্লব ঘটিয়েছেন তাঁরা৷ কিন্তু তাঁদের ঘরের কোণেই অন্ধকার৷ পরিজনদের হাতেই অত্যাচারিত৷ আয়াপ্পা দর্শনের পর থেকে প্রাণের ভয়ে গোপন ডেরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ বাড়ি ফিরে এসেও রক্ষা পাননি৷ জীবন বিপন্ন সাহসিনীদের৷ শাশুড়ির অত্যাচারে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভরতি কনকদুর্গা৷ প্রাণনাশের হুমকি নিয়েই বাঁচছেন বিন্দু৷ দুই লড়াকু মহিলার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট৷ তাঁদের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ৷

[‘বিতর্কিত’ তেজ বাহাদুরের ছেলের রহস্যমৃত্যু, আত্মহত্যার তত্ত্ব খারিজ পরিবারের]

২৮ সেপ্টেম্বর সবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে যুগান্তকারী রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ তারপর থেকেই বিক্ষোভের আঁচে ফুঁসছে কেরল৷ হিন্দুত্ববাদীদের চোখরাঙানিকে অগ্রাহ্য করে ২ জানুয়ারি ভোররাতে মন্দিরে ঢোকেন কনকদুর্গা এবং বিন্দু৷ ওই ভোরটা ছিল নিয়মভাঙার৷ কারণ, সূর্য ওঠার আগেই প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আয়াপ্পার পুজো দেন দু’জনে৷ অচলায়তন ভেঙে মন্দিরে ঢুকে বিপ্লব ঘটালেন যাঁরা, সেই দুই মহিলাই আজ সমাজে ‘ব্রাত্য’৷ ‘ব্রাত্য’ পরিবারেও৷ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গোপন ডেরা থেকে বাড়ি ফেরেন কনকদুর্গা৷ কিন্তু সেখানেও বিপ্লবের স্বীকৃতি হিসাবে জুটেছে মার৷ নিয়ম ভেঙে মন্দিরে ঢোকার ‘অপরাধে’ শাশুড়ির হাতে মারধরও খান কনক৷ মাথায় গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন৷ ছুঁৎমার্গের বিরুদ্ধে যাওয়ার স্বীকৃতি পাননি বিন্দুও৷ তাঁর অবস্থাও প্রায় একইরকম৷ মাঝে মাঝেই পাচ্ছেন প্রাণনাশের হুমকি৷ সমাজের চেনা গতে হাঁটেননি সেটাই তাঁর বড় ‘অপরাধ’৷ তাই তো মেয়েকে স্কুলেও ভরতি করাতে পারছেন না বিন্দু৷ শতাব্দী প্রাচীন রীতি মেনে মন্দিরে ঢুকে বাঁচাই যেন দায় হয়ে গিয়েছে দু’জনের৷

[মেঘালয়ের অভিশপ্ত খনিতে দেহের সন্ধান পেল নৌসেনা]

কনকদুর্গা এবং বিন্দুর পরিস্থিতিই এখন চিন্তার কারণ হয়ে গিয়েছে কেরল প্রশাসনের৷ বিষয়টি ভাবাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদেরও৷ শুক্রবার কনকদুর্গা এবং বিন্দুর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ৷ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে কনকদুর্গা যে হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন, সেখানে চব্বিশ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ বিন্দুর বাড়ির সামনেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং