Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Ghaizabad

ভারতের নামেই রেগে যেত গাজিয়াবাদের তিন কিশোরী! অত্যধিক কোরিয়া-আসক্তিই কাড়ল প্রাণ?

তিনজনই সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের ভারতীয় নাম বর্জন করে কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১৬:০৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১৬:০৫

options
link
ভারতের নামেই রেগে যেত গাজিয়াবাদের তিন কিশোরী! অত্যধিক কোরিয়া-আসক্তিই কাড়ল প্রাণ? zoom
তিন বোনই অনলাইন গেমিং অ্যাপে দিনরাত বুঁদ হয়ে থাকত বলে জানা গিয়েছে।

গাজিয়াবাদে তিন কিশোরী বোনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমেই যেন স্পষ্ট হচ্ছে মোবাইল ও কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি আসক্তি! মৃত মেয়েগুলির বাবা চেতন কুমারের দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতির থেকে ক্রমশ দূরগামী হয়ে উঠছিল তাঁর তিন কন্যা। আর সেই পথেই মৃত্যু হল তাদের। চেতনের আর্থিক সমস্যার দিকটিও উঠে এসেছে তদন্তে। তবে এর সঙ্গে তাঁর মেয়েদের মৃত্যুর কোনওরকম যোগ নেই বলেই দাবি তাঁর।

সংবাদমাধ্যমের সামনে অবশ্য আসেননি চেতন। কথা বলেছেন দরজার আড়াল থেকেই। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”আমাকে কোরিয়া নিয়ে যেতে বলত ওরা। আমি বলতাম, আমরা তো ভারতীয়। কিন্তু ভারতের নামেই রেগে যেত ওরা। এমনকী খেতেও চাইত না। ওরা এমনও বলেছিল, কোরিয়া না নিয়ে গেলে ওরা মৃত্যুবরণ করবে।” মেয়েদের এই অস্বাভাবিক কোরিয়া-প্রীতির সংস্পর্শে তিনি মাস দুই-তিন আগেই এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন চেতন। এমনকী এও দেখা গিয়েছে, তিনজনই সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের ভারতীয় নাম বর্জন করে কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত।

Advertisement

মৃত মেয়েগুলির বাবা চেতন কুমারের দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতির থেকে ক্রমশ দূরগামী হয়ে উঠছিল তাঁর তিন কন্যা। আর সেই পথেই মৃত্যু হল তাদের।

Ghaziabad girls' father blames Korean game

কিন্তু কী হয়েছিল ঘটনার দিন? চেতন বলছেন, ”সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল সাতটা নাগাদ। আমি ওদের ফোন নিয়ে নিয়েছিলাম। পরে আবার ওরা ফোন ফেরত পেয়েছিল রাত দশটা নাগাদ। মাঝরাত পর্যন্ত ফোনই ঘাঁটছিল। এরপর আমার স্ত্রী ফের সেগুলো নিয়ে নেয়।” তাঁর দাবি, পরে নিজেদের বাড়ির প্রার্থনা কক্ষে আটকে রাখে তিন বোন। রাত ২টো ১৫ নাগাদ একসঙ্গে ব্যালকনি থেকে লাফ দেয়!

তদন্তে উঠে এসেছে, বাজারে প্রায় ২ কোটি দেনা রয়েছে চেতনের। কিন্তু সেই দাবি উড়িয়ে তাঁর দাবি, সব মিলিয়ে তাঁর ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে তাঁর মেয়েদের মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই বলেই বারবার দাবি করেছেন তিনি। এদিকে, তদন্তে এও উঠে এসেছে চেতনের বর্তমান স্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তিন কন্যার মেজো ও ছোট মেয়েটি এই দম্পতির সন্তান। বড় মেয়ে প্রথমপক্ষের। পুলিশ চাইছে সব দিক খতিয়ে দেখে মূল সমস্যাটির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে।

মৃত তিন কিশোরীর সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার উপরে লেখা রয়েছে, ‘সত্যি জীবনকাহিনি’। তারপর লেখা- ‘এই ডায়রিতে আমি যা লিখেছি সব পড়ে নিও। কেননা এসবই সত্যি। পড়ে নাও। আমি সত্যিই দুঃখিত। সরি পাপা।’ সঙ্গে রয়েছে পেনে আঁকা কান্নার ইমোজিও। হৃদয়বিদারক এই বার্তা পড়ার পর ডায়রিটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, এখান থেকেই মিলতে পারে সুরাহা। তাছাড়া তিনজনের মোবাইল ফোনও পাঠানো হচ্ছে ফরেনসিক তদন্তের জন্য। দেখা হবে চ্যাট হিস্ট্রি, অ্যাপের ব্যবহারও।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.