৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘ওবামা আমাকে তুই তোকারি করে’, জানুন প্রধানমন্ত্রীর এই দাবির সত্যতা

Published by: Subhajit Mandal |    Posted: April 25, 2019 7:19 pm|    Updated: April 25, 2019 8:21 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোট যখন মধ্যগগনে, তখনই টেলিভিশন স্ক্রিন, সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ভেসে উঠল প্রধানমন্ত্রীর অরাজনৈতিক সাক্ষাৎকার। যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি যথাসম্ভব উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা হল। বিরোধীরা বলছে, যতই অরাজনৈতিক বলা হোক না কেন, আসলে মোদির এই সাক্ষাৎকার ছিল পুরোদস্তুর রাজনৈতিক। এবং এর একটাই উদ্দেশ্য, মোদির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। সাধারণ মানুষের মনে, মোদিকে ‘আমি তোমাদেরই লোক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু এসব করতে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রী হয়তো নিজের জন্যই বিড়ম্বনা বাড়ালেন। কারণ, বিরোধী তথা নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ওই সাজানো সাক্ষাৎকারে যে দাবিগুলি করা হয়েছে, তার সবটা মোটেই সত্যি নয়। বিশেষ করে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে মোদি যে দাবি করেছেন, তা একেবারেই মনগড়া।

[আরও পড়ুন: জল্পনার অবসান, বারাণসীতে মোদির বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের]

 প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গে মোদি সাক্ষাৎকারে বলেন যে ওবামার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ‘তুই-তোকারির’। বারাক ওবামা নাকি তাঁকে দেখা হলেই তুই-তোকারি করে কথা বলেন। তাঁকে এত বেশি পরিশ্রম করতে বারণ করেন। নিজের শরীর সম্পর্কে আরও ভাবতে বলেন। এ প্রসঙ্গে মোদি অক্ষয় কুমারকে বলেন, ‘‘দেখা হলেই বলে, তুই এমন কেন করিস। আসলে এটা তোর কাজের নেশা।…. এতে নিজেরই ক্ষতি করছিস।’’ প্রধানমন্ত্রীর এই তুই-তোকারির দাবিতেই আপত্তি নেটিজেনদের। কটাক্ষ করে তাঁদের প্রশ্ন, ওবামা কি  ইংরাজিতেই মোদিকে তুই-তোকারি করেন? কারণ, হিন্দি তিনি খুব একটা জানেন বলে তো বোধ হয় না। নমস্তে, ধন্যবাদ, জয় হিন্দের মতো শব্দ ছাড়া তাঁর মুখ থেকে আর কোনও হিন্দি শব্দ কেউ শোনেনি। সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী মিথ্যে বলছেন। কারণ, ইংরাজি সম্বোধনে আলাদা করে ‘তুই’-এর অস্তিত্ব নেই৷

[আরও পড়ুন: বিরাট রোড শো করে মনোনয়ন জমা দেবেন মোদি, সেজে উঠেছে বারাণসী]

কিন্তু আপনি জানেন কি মোদিকে গোপনে কী বলেছিলেন ওবামা? ২০১৭ সালে শেষবার ভারতে এসে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ফাঁস করেছিলেন মোদি-আর তাঁর ব্যক্তিগত আলোচনার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, মুসলিমদের সম্মান করতে। ভারত যাতে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ না হয়, তা নিশ্চিত করতে। তিনি বলেছিলেন, “ভারতের মতো দেশ, যেখানে সফল মুসলিমরা নিজেদের পুরোদস্তুর ভারতীয় মনে করেন, নিজেদের ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে মনে করে। সেই দেশে মুসলিমদের সম্মান পাওয়া উচিত।” এর বাইরে যদি মোদি-ওবামার মধ্যে কোনও কথা হয়ে থাকে, যাতে কিনা ‘তুই-তোকারি’ পর্যন্ত নৈকট্যের অবকাশ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত অপর পক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement