৪ আশ্বিন  ১৪২৬  রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২৭ বছর আগে ত্রিপুরায় শহিদ হয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের বিএসএফ জওয়ান মোহন সিং। দেশের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে তাঁর স্ত্রীকে অভিনব সম্মান জানালেন শহিদের গ্রামের লোকেরা। ১৯৯২ সালে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন মোহন। কিন্তু, তারপর থেকে তাঁর পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর স্ত্রী রাজু বাই বাস করছিলেন একটি কুঁড়েঘরে। যার ছাদে ফুটোও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, ২৭ বছর বাদে একটু হলেও বদলে গেল তাঁর জীবন। শহিদ স্বামীর আত্মবলিদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে পাকা বাড়ি বানিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার নিজেদের হাতের চেটোর উপর দিয়ে হাঁটিয়ে তাঁকে সেই বাড়িতে গৃহপ্রবেশও করানো হল। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট হতে ভাইরাল হয়েছে।

[আরও পড়ুন: বাজপেয়ীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর]

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির বাইরের রাস্তা থেকে সবাই দু’হাত মাটিতে দিয়ে বসে পড়েছেন। আর তাঁদের হাতের চেটোর উপর দিয়ে নতুন বাড়িতে প্রবেশ করছেন মোহন সিংয়ের স্ত্রী রাজু বাই। বাড়িতে ঢোকার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলের হাতে রাখি পরিয়ে দেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯২ সালে শহিদ হয়েছিলেন মোহন। তারপর থেকে তাঁর পরিবারের আশ্রয় বলতে ছিল কাঁচা বাড়ি, টালির ছাদ। সেখানে মাথা গুঁজেই দুই সন্তানকে কোনও রকমে বড় করেছিলেন তাঁর স্ত্রী রাজু বাই। বারবার সরকারকে জানানো হলেও কেউ সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে গ্রামের মানুষ ১১ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে বানিয়ে দিলেন নতুন বাড়ি। এর জন্য ‘একটি চেক-একটি স্বাক্ষর’ নামে একটি ক্যাম্পেনিং চালু করেছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস ও রাখি পূর্ণিমার পবিত্র মুহূর্তে সেই বাড়িতে গৃহপ্রবেশ করলেন শহিদের স্ত্রী।

[আরও পড়ুন: ‘কাশ্মীরিরা জন্তুর মতো খাঁচাবন্দি’, অমিত শাহকে চিঠি মেহবুবাকন্যার]

এই উদ্যোগে জড়িয়ে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা বিশাল রাঠি বলেন, ‘শহিদের বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার জন্য ১১ লক্ষ টাকা তুলেছিলাম আমরা। স্বাধীনতা দিবস ও রাখি বন্ধনের পবিত্র দিনে তাঁর হাতে সেই বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়। তিনিও আমাদের রাখি পরিয়ে দেন। সংগ্রহীত ১১ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বাকি একলক্ষ টাকা রেখে দেওয়া হয়েছে মোহন সিংয়ের মূর্তি তৈরির জন্য। মূর্তিটি প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছে। এটি তৈরি হলে গ্রামের রাস্তার ধারে বসানো হবে। এখানকার একটি সরকারি স্কুলও মোহন সিংয়ের নামে নামাঙ্কিত করা চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং