‘অমৃত কাল’-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলা ভারতে কন্যাভ্রূণ হত্যার নির্মম বাস্তবের মধ্যেই কয়েক হাজার মা হতে চলা মহিলার আচমকা নিখোঁজ হওয়ার খবরে প্রবল চাঞ্চল্য। কোনও বিজেপিশাসিত রাজ্য নয়, এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা কংগ্রেসের শাসনে থাকা কর্নাটকের। দক্ষিণের এই রাজ্যের ইয়াদাগিরি জেলায় স্বাস্থ্য দপ্তরের সম্প্রতি নজরে এসেছে যে, ৩ হাজারের উপর নথিভুক্ত গর্ভবতী মহিলার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের ব্যাপারে কোনও তথ্য দপ্তরের কাছে নেই!
মোট ৩০ হাজারের ওপর গর্ভবতী মহিলার নথিভুক্তিকরণ হয়েছিল। কিন্তু এদের একটা বড় অংশের প্রসব সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিপত্রের সন্ধান মিলছে না। যা থেকে এমন আশঙ্কা প্রবল হয়েছে যে, কন্যাসন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর হাজারের উপর মহিলার বেআইনি গর্ভপাত করা হয়েছে। অতি সংগোপনে কন্যাভ্রূণ হত্যা ঘটানো হয়েছে গত বছর।
আরও পড়ুন:
১৮ মার্চ কন্নড প্রভা সংবাদপত্রে ‘ইয়াদাগিরি জেলায় ৭ মাসে ৩০ কন্যাভ্রূণ হত্যা’ শিরোনামে ছাপা হওয়া একটি বিশেষ প্রতিবেদন শোরগোল ফেলে দেয়। বিষয়টি গভীর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখ্যসচিব হর্ষ গুপ্তা অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেন। ৫ জন মেডিক্যাল অফিসারের রাজ্য স্তরের কমিটি গড়ে শুধু ইয়াদাগিরি নয়, গোটা রাজ্যের সব জেলায় বিস্তারিত খোঁজখবর করতে বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানেই গোপন রিপোর্ট পেশ হয়, যা উদ্ধৃত করে কন্নড় দৈনিকটি জানাচ্ছে, গত বছর এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৬৫২টি গর্ভপাত হয়েছে। গোটা রাজ্যের গর্ভপাতের হার ৫.২৪ শতাংশ, ইয়াদাগিরির ৩.১৬ শতাংশ।
২০২৪-‘২৫ এর পরিসংখ্যানও চমকে দিয়েছে। মোট ৩১,৪৩৫ জন গর্ভবতী মহিলা নাম লিখিয়েছিলেন। ২৬,৫৮৪ জনের সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। ১৮৮টি শিশু জন্মের সময় মারা যায়। আরও ২০৭টি বাচ্চার প্রসব হয়নি। ১৩২৯টি গর্ভপাত হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ২৮,৩০৮। তা হলে বাকি ৩১২৭ জনের কী হল! এই মহিলারা কি সন্তান প্রসব করেছেন? করলেও সেই বাচ্চারা কি বেঁচে আছে না মৃত? প্রশ্নের উত্তর নেই। কন্নড় দৈনিকটি জানিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সরকারি অফিসাররা প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই তিন হাজারের উপর মহিলার ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করে কন্যাসন্তান বলে জানার পর গোপনে গর্ভপাত করে ভ্রূণহত্যা করা হয়েছে। ৬ থেকে ১০ এপ্রিল রাজ্য স্তরের ওই কমিটি ইয়াদাগিরি জেলা ঘুরে হাতে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে চমকে উঠেছেন। শোনা যাচ্ছে, এখন স্বাস্থ্য দপ্তরে ফিসফাস চলছে, কাগজে কলমে টার্গেট পূরণের জন্য নাকি ভুয়া প্রসূতিকার্ড বানানো হয়েছে! ইয়েদাগিরির জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন, গর্ভপাতে জড়িত জাল ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
ছাব্বিশে ফিরল ʼ১৪-র স্মৃতি, ৭ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির
-
সই জাল কাণ্ডে কুণাল-অভিষেককে মুখোমুখি জেরা, বয়ানে অসংগতি সাংসদের! ফের তলবের ভাবনা সিআইডির
-
লেবানন নিয়ে ইজরায়েল-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা, ‘আমরা শান্তির দোরগোড়ায়’, বার্তা ট্রাম্পের
-
ক্রিকেট মাঠে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভারতের, পাকিস্তানকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু স্মৃতি-দীপ্তিদের
-
হাতের সঙ্গে জুড়ছে মমতার তৃণমূল? জল্পনার মাঝেই ২১ জুলাই ‘শহিদ তর্পণে’ রাহুলকে আনার প্রস্তুতি প্রদেশ কংগ্রেসের