ক্ষমতায় এলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) ঘরে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিয়ে গালভরা ভাষণ ছাড়া বিশেষ কিছুই করেনি মোদি সরকার। নয়ের দশকের আতঙ্ক ফিরিয়ে ফের একবার কাশ্মীরি পণ্ডিতদের খুনের হুমকি দিয়ে পোস্টার পড়েছে উপত্যকায়। ঘাড়ে ঝুলছে সন্ত্রাসের খাঁড়া ঝুলতেই এবার বিশ্ব দরবারে সাহায্যপ্রার্থী হলেন কাশ্মীরের অসহায় হিন্দুরা। নিরাপত্তা চেয়ে রাষ্ট্রসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির কাছে আবেদন জানানো হল তাঁদের তরফে।
গত শতকের নয়ের দশকের প্রথম দিকে উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিত বিতাড়ন শুরু হয়েছিল। খুন হয়েছিলেন বহু পণ্ডিত। প্রাণ ভয়ে অনেককে ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশের অন্যত্র পালাতে হয়েছিল। সেই সময় যাঁরা উপত্যকায় থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করে কাশ্মীরি পণ্ডিত সংঘর্ষ সমিতি (কেপিএসএস)। তাঁদের অভিযোগ, উপত্যকায় শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে জায়গায় জায়গায় এই ধরনের হুমকি পোস্টার দেওয়া হচ্ছে। কাশ্মীর পুলিশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সিআরপিএফকে ট্যাগ করে লেখা ওই চিঠিতে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) কাশ্মীরি হিন্দুদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কাশ্মীর পুলিশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সিআরপিএফকে ট্যাগ করে লেখা ওই চিঠিতে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) কাশ্মীরি হিন্দুদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এইসব সন্ত্রাসীদের ভারতের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই তাই নিরস্ত্র সংখ্যালঘুদের উপর মানসিক চাপ বাড়াতে এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় মোদি সরকারের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করে রাষ্ট্রসংঘ, অ্যামনেস্টি-সহ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির হস্তক্ষেপ চেয়েছে কেপিএসএস। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছেও বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে এই কাশ্মীরি সংগঠন।
@KashmirPolice@HMOIndia@crpf_srinagar
The recent threat posters issued in the name of the so-called Falcon Group of The Resistance Front (TRF) — widely recognized as a Pakistan-backed terror proxy — represent a calculated attempt to undermine peace and communal harmony in… pic.twitter.com/TJilo2zgGW— KPSS (@KPSSamiti) February 21, 2026
উল্লেখ্য, বছর চার-পাঁচেক আগেই উপত্যকায় বেশ কয়েকজন কাশ্মীরি পণ্ডিত খুন হন। তার পরেই জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু হয় উপত্যকায়। যাদের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের খুনের অভিযোগ উঠেছিল, তাদের প্রায় সকলকে নিকেশ করে নিরাপত্তাবাহিনী। তার পর এই প্রথম এই ধরনের হুমকির মুখে পড়লেন পণ্ডিতেরা। যদিও উপত্যকায় যে সব হুমকি পোস্টার পড়েছে, সেগুলি জঙ্গিদেরই কাজ না কি নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য আছে, তা এখনও স্পষ্ট ভাবে জানায়নি নিরাপত্তাবাহিনী। তবে এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে উপত্যকায় পণ্ডিতদের নিরাপত্তা নিয়ে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশের পরদিনই সন্দীপনের বাড়িতে বিক্ষোভ, কাটমানি-তোলাবাজিতে সরব বিজেপি
-
আরজিকর কাণ্ড এবার বড়পর্দায়, পরিচালনায় শঙ্কুদেব পণ্ডা, ‘অভিশপ্ত’ আগস্টেই শুরু শুটিং
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা