Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২১ জুন ২০২৬
Nicobar project

‘জাতীয় স্বার্থেই নিকোবর প্রকল্প’, সবুজ ধ্বংস নিয়ে সাফাই দিয়ে রাহুল গান্ধীকে তোপ রিজিজুর

অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি সরকারের ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কাটা পড়বে সাড়ে আট লক্ষ গাছ! দুশ্চিন্তায় পরিবেশবিদ থেকে প্রাণিবিজ্ঞানীরা। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ১৫:৪৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ১৫:৪৬

options
link
‘জাতীয় স্বার্থেই নিকোবর প্রকল্প’, সবুজ ধ্বংস নিয়ে সাফাই দিয়ে রাহুল গান্ধীকে তোপ রিজিজুর zoom
কিরেন রিজিজু (বাঁদিকে), আন্দামান সাগরে স্কুবা ডাইভিং রাহুল গান্ধীর।

‘গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট’। নরেন্দ্র মোদি সরকারের ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। কাটা পড়বে সাড়ে আট লক্ষ গাছ! দুশ্চিন্তায় পরিবেশবিদ থেকে প্রাণিবিজ্ঞানীরা। শুরু থেকে প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন রাহুল গান্ধী। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসাবে তিনি স্কুবা ডাইভিং করেন আন্দমান সাগরে। রবিবার পালটা তোপ দেগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, জাতীয় স্বার্থে যে প্রকল্প হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজিজু দাবি করেন, কেন্দ্রের প্রকল্পের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হবে না। ক্ষতি রোধ করার জন্য ভারতের পরিবেশ আইন ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “পরিবেশের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।” যোগ করেন, “রাহুল গান্ধীজির অপপ্রচারের লক্ষ্য হল (গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের ফলে) ভবিষ্যতে ভারত যে কৌশলগত সুবিধা পাবে, তা ব্যাহত করা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দ্বীপপুঞ্জে রাহুল গান্ধী স্কুবা-ডাইভিং করে ‘ইকোসিস্টেম’ নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচার চালাতে চেয়েছিলেন, তাঁরা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “রাহুল গান্ধীজি আন্দামানে স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য ২৬ কোটি টাকা খরচ করেছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুবা ডাইভিংকে সামুদ্রিক জীবন ও পরিবেশগত উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে প্রকল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হয়েছিল।” এই প্রকল্প বন ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করবে, এমন সমালোচনার জবাবে রিজিজু যুক্তি দেন, কোনও সরকারই খেয়ালখুশি মতো পরিবেশ ধ্বংস করতে পারে না। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবেশ আইন অত্যন্ত শক্তিশালী। জলবায়ু, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের বিষয়ে সরকারের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। কেউ নিজের ইচ্ছামতো কোনও কিছু ধ্বংস করতে পারবে না।”

ওই অঞ্চলে প্রকৃতির অনেকটা অংশ এখনও আবিষ্কার হতে বাকি। সেখানকার প্রাণী ও উদ্ভিদজগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা এখনও মানুষের কাছে নেই।

কিরেন রিজিজু যুক্তি দিয়েছেন,পরিবেশ সংরক্ষণ, উপজাতিদের কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন— এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ নেই। তিনি বলেন, “আমাদের সবকিছু করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্প, আদিবাসীদের সুরক্ষা, শিল্পও আনতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রটিও এখানে গড়ে তোলা উচিত।”

প্রসঙ্গত, গালাতিয়া বে ন্যাশনাল পার্ক এবং ক্যাম্পবেল বে ন্যাশনাল পার্কে বসবাস করা বেশ কয়েক প্রজাতির প্রাণীকে ‘এনডেমিক’ বা শুধু ওই অঞ্চলেই (গ্রেট নিকোবর প্রকল্প এলাকায়) পাওয়া যায়। বিপুল সংখ্যক গাছ কাটা পড়লে ওই প্রাণীদেরও অস্তিত্বের সংকট তৈরি হবে। ওই অঞ্চলে প্রকৃতির অনেকটা অংশ এখনও আবিষ্কার হতে বাকি। সেখানকার প্রাণী ও উদ্ভিদজগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা এখনও মানুষের কাছে নেই। কিন্তু জাতীয় পরিবেশ আদালত বা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল (এনজিটি) সব দিক খতিয়ে দেখে শেষ পর্যন্ত ‘গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট’–কে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। তবে ৮০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের রূপায়ণে আরোপ করা হয়েছে বেশ কিছু শর্তও। জাতীয় পরিবেশ আদালতের ইস্টার্ন জোন বেঞ্চ জানিয়েছে, সেই শর্তের কোনও রকম অন্যথা হলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। ৯২১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত গ্রেট নিকোবর দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আদালত–আরোপিত শর্ত মানার মানসিকতার উপরেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.