Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Madhya Pradesh

লাভ জেহাদের ছকে গরবায় যোগ মুসলিমদের! মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক

বিজেপি বিধায়ক বলেন, 'মুসলিমরা যদি স্থায়ীভাবে যোগ দিতে চান, তবে আমরা প্রস্তুত। আসুন, জয় শ্রী রাম স্লোগান দিন এবং কপালে তিলক ধারণ করুন।'

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১৪:৪২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১৪:৪২

options
link
লাভ জেহাদের ছকে গরবায় যোগ মুসলিমদের! মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক zoom
মুসিলমদের গরবায় যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা।
Advertisement

মহারাষ্ট্রে গরবা অনুষ্ঠান মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করার দাবি তুলেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এবার সেই বিতর্ক পৌঁছাল মধ্যপ্রদেশে। সে রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা মন্তব্য করলেন, মুসলিম ছেলেরা গরবা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাইলে সঙ্গে করে তাদের দিদি-বোনকেও যেন নিয়ে আসে। মুসলিম যুবকদের গরবায় যোগ দেওয়ার পিছনে লাভ জিহাদের গন্ধ পাচ্ছেন গেরুয়া নেতা। এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল।

ভোপালে একটি জনসভায় রামেশ্বর শর্মা বলেন, মুসলিম ছেলেরা কেন একা গরবাতে আসতে চায়? তাদের একা আসা উচিত নয়। বরং উচিত তাদের পরিবারের বোন ও মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে আসা।” ইঙ্গিতবাহীভাবে বলেন, “আমাদের ছেলেরাও তাদের (মুসলিম মেয়েদের) উৎসাহ দিতে তৈরি।” এখানেই না থেমে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “মুসলিমরা যদি স্থায়ীভাবে যোগ দিতে চান, তবে আমরা তার জন্যও প্রস্তুত। আসুন, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিন এবং কপালে তিলক ধারণ করুন। এতে কারও কোনও সমস্যা নেই।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মুসলিম ছেলেরা যদি গরবায় যোগ দিয়ে ‘লাভ জেহাদ’-এর চেষ্টা করে তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, হুঁশিয়ারির দেন রামেশ্বর। তিনি বলেন, “যদি গরবাতে ‘লাভ জিহাদ’-এর মতো কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা হয়, তবে যুবসমাজ তার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত। তরুণদের উচিত তাদের বাবা-মায়ের সেবা করা এবং বোনদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। দেবী জগদম্বার আশীর্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ‘অসুর’ বা অশুভ শক্তিকে বিনাশ করার জন্যও তাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।”

কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিজেপি বিধায়ক, মন্তব্য করেন কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ। তিনি বলেন, “রামেশ্বর শর্মার মন্তব্যটি অত্যন্ত জঘন্য ও কুরুচিপূর্ণ। আমি শুধু এটুকুই বলব যে নিজের আচরণ শুধরে নিন। ঔদ্ধত্য দেখানো বন্ধ করুন। এমন নোংরা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।” এআইএমআইএম-এর মধ্যপ্রদেশ শাখার সভাপতি মহসিন আলি খান বলেন, শর্মার সংবিধান পড়া প্রয়োজন। এ ধরনের বক্তব্য দেশকে বিভক্ত করার কাজ করে। রামেশ্বর শর্মার উচিত মুখতার আব্বাস নকভি ও শাহনওয়াজ হোসেনের মতো বিজেপি নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করা।

অতীতে মহারাষ্ট্র একই বিতর্কর সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবিকে খণ্ডন করেন কেন্দ্রের সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিমন্ত্রী রামদাস অঠাওয়াল। তিনি বলেন,“ভারত সংবিধান অনুযায়ী চলে। বাবাসাহেব অম্বেডকর যে সংবিধান রচনা করেছেন, তাতে সব ধর্মের মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের কথা বলা আছে। ভারতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ, পারসি-সহ আরও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। সংবিধান সব ধর্মকেই সুরক্ষা দেয়।”

বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মন্ত্রীর কথায়, “মুসলিমদের গরবা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া উচিত নয়—এমন কথা বলা ঠিক নয়। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়েরই উচিত একসঙ্গে মিলে দেশের জন্য কাজ করা।” এ কথা বলার সময়ে রাজস্থানের অজমের শরিফের উদাহরণও উল্লেখ করেন তিনি। সেখানেও যে বহু হিন্দু দর্শনার্থী যান, তা স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। অঠওয়ালে বলেন, “ভারত এমন একটা দেশ যেখানে সব ধর্মের মানুষের একে অপরের উৎসবে যোগ দেওয়া উচিত। এর বিরুদ্ধে কোনও অবস্থান নেওয়া হলে, আমরা তার বিরোধিতা করি। এমন অবস্থান সংবিধানবিরোধী।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.