২২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রামীণ এলাকায় জল সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভয়াবহ জল সংকটের হাত থেকে মুক্তি পেতে কী করা উচিত তা বিস্তারিত জানিয়ে মোদি চিঠি দিলেন প্রত্যেক পঞ্চায়েত প্রধানকে। এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বর্ষার সময় জল সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সই করা এই চিঠি দেশের প্রতিটি রাজ্যের জেলাশাসকের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে। এদিনই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩০ জুন তিনি ফের মন কি বাত অনুষ্ঠান শুরু করতে চলেছেন।

[আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে কড়া জবাব, ২৯ আমেরিকান পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপাল ভারত]

গত বছর দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল কম। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সেভাবে বর্ষার দেখা নেই। শুধু এ দেশে নয়, গোটা বিশ্বেই কমছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উষ্ণতা। পৃথিবী জুড়ে উষ্ণায়ন এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে পানীয় জলের স্তর উদ্বেগজনকভাবে নেমে যাবে। পাশাপাশি দুই মেরুতে গলতে শুরু করবে বরফ। যার জেরে বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর। জলস্তরের সামান্য বৃদ্ধি ঘটলে বিশ্বের বহু দেশই চলে যাবে জলের তলায়। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই গোটা দুনিয়াই জল সংরক্ষণের উপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি দূষণ কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র বারাণসীর পাশের জেলা সোনভদ্র। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এই জেলা প্রবল খরায় জ্বলছে। একই অবস্থা মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানের বহু এলাকার। পানীয় জলের চরম সংকটে ভুগছে এই সব এলাকা। এ হেন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতেই জল সংরক্ষণের উপর জোর দিয়েছেন মোদি। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ৬৩৭ জন পঞ্চায়েত প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন মোদি। হিন্দিতে লেখা ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বর্ষার মরশুম শুরু হতে চলেছে। ঈশ্বরের কৃপায় আমাদের বর্ষায় জলের কোনও অভাব হয় না। চাষের কাজে লাগানোর পর বাড়তি জল আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। জল সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষকে জল সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। বিষয়টি বোঝানোর জন্য গ্রামবাসীদের নিয়ে আপনারা বৈঠক করুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা সকলেই প্রতি ফোঁটা জল সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।” প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন রাজ্যে জোরকদমে চলছে পুকুর খননের কাজ। জল সংকটের কথা মাথায় রেখে এবং সেই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কী করা উচিত তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভা পৃথক জলশক্তি মন্ত্রক চালু করছে। মন্ত্রক ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

[আরও পড়ুন: ক্ষমতা থেকে সরতেই এয়ারপোর্টে তল্লাশি, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ চন্দ্রবাবু নায়ডুর সঙ্গে]

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পর ৩০ জুন ফের শুরু হচ্ছে মোদির মন কি বাত অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেছেন, “আমি মন কি বাত অনুষ্ঠান ফের শুরু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এই রেডিও অনুষ্ঠানে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমার ভীষণ ভাল লাগে। ৩০ জুন আমি ফের আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। এ জন্য সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানান। আপনারা যাতে আপনাদের মতামত জানাতে পারেন তার জন্য একটি নিঃশুল্ক টেলিফোন নম্বর চালু করা হচ্ছে। ১৮০০-১১-৭৮০০ এই নম্বরে ফোন করে যে কেউ তাঁর বক্তব্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। আবার কেউ মনে করলে ‘মাইগভ ওপেন ফোরাম’-এ লিখিতভাবেও তাঁর মতামত জানাতে পারেন।” চলতি মাসের ১১ তারিখ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত এই নিঃশুল্ক টেলিফোন নম্বর চালু থাকবে। ২০১৪-র মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর মন কি বাত অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন মোদি। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শুধুই নিজের কথা বলে চলেন। তিনি কারও কথা শোনেন না, শোনার প্রয়োজন বোধ করেন না। তাঁর নিজস্ব বক্তব্য মানুষের উপর চাপিয়ে দেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী নির্বাচনে প্রচারে বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে তিনি মোদির মতো নিজের কথা বলবেন না। বরং মানুষ যে সব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে সে সব তিনি শুনবেন। কিন্তু বিরোধীদের সেই অভিযোগ যে বিশেষ গুরুত্ব পায়নি লোকসভা ভোটের ফলাফল তারই প্রমাণ। ২০১৪-র থেকেও বেশি আসন নিয়ে এবার ক্ষমতায় ফিরেছেন বিজেপি ও মোদি। ২০১৯-র ফেব্রুয়ারিতে শেষ মন কি বাত অনুষ্ঠান করেছিলেন মোদি।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং