Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Madhya Pradesh

সুশিক্ষিত হবে ভ্রূণের মন! মহাভারত অনুসরণে মধ্যপ্রদেশের হাসপাতালে ‘গর্ভসংস্কার ঘর’

জন্মের আগেই মা সুভদ্রার গর্ভে থেকে অভিমন্যু চক্রব্যূহ ভেদের কৌশল শিখেছিলেন। কিন্তু মা ঘুমিয়ে পড়ায় বের হওয়ার উপায় জানা ছিল না। সেই বিশ্বাসকেই এবার নীতিতে রূপান্তরিত করছে মধ্যপ্রদেশ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১২:৩২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১২:৩২

options
link
সুশিক্ষিত হবে ভ্রূণের মন! মহাভারত অনুসরণে মধ্যপ্রদেশের হাসপাতালে ‘গর্ভসংস্কার ঘর’ zoom
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

অন্তঃসত্ত্বা মা যা শোনেন, গর্ভস্থ শিশু তা আত্মস্থ করে। অন্তত আমাদের পুরাণ-মহাকাব্যে তেমনই কথিত। যেমনটা রয়েছে মহাভারতে অভিমন্যুর আখ্যানে, চক্রব্যূহ ভেদের কৌশল শেখার গল্পে। জন্মের আগেই মা সুভদ্রার গর্ভে থেকে তিনি ব্যূহ ভেদের কৌশল শিখেছিলেন। কিন্তু মা ঘুমিয়ে পড়ায় বের হওয়ার উপায় জানা ছিল না। সেই বিশ্বাসকেই এবার নীতিতে রূপান্তরিত করছে মধ্যপ্রদেশ। ‘ভ্রূণের মনকে শিক্ষিত করার’ জন্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘গর্ভ সংস্কার কক্ষ’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই ঘরগুলি অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে প্রসবপূর্ব যত্নের মাধ্যমে পরিচালিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক সুস্থতা পর্যন্ত নজরে রাখা হবে। লক্ষ্য– অজাত শিশুর মন গঠন করা। রবিবার ইন্দোরে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এটিকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হয় এবং এটিকে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে ‘ভ্রূণের সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে কাঠামোগত প্রসবপূর্ব নির্দেশনা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা আয়ুর্বেদকে আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে মিশিয়েছে। দিব্য সন্তান প্রকল্প (ঐশ্বরিক শিশু প্রকল্প) অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদব ‘গর্ভ সংস্কার’কে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরেন। বলেন, “এটি একটি শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিকভাবে শক্তিশালী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালন-পালন করার বিষয়। এটি ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বোধগম্যতাকে একত্রিত করে।” তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালের নকশায় ‘গর্ভ সংস্কার কক্ষ’ বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা গর্ভকালীন জনস্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

Advertisement

জন্মের আগেই মা সুভদ্রার গর্ভে থেকে অভিমন্যু চক্রব্যূহ ভেদের কৌশল শিখেছিলেন। কিন্তু মা ঘুমিয়ে পড়ায় বের হওয়ার উপায় জানা ছিল না। সেই বিশ্বাসকেই এবার নীতিতে রূপান্তরিত করছে মধ্যপ্রদেশ।

যাদব বলেন, “অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকরা ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যাপক প্রসবপূর্ব যত্নের মূল্যকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে রাজ্য স্বাভাবিক প্রসবের প্রচার এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।” এই প্রকল্পের নেপথ্যের ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করতে মুখ্যমন্ত্রী মহাকাব্যগুলির উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গর্ভে থাকাকালীন কীভাবে শিক্ষা এবং মূল্যবোধ অর্জিত হতে পারে, অভিমন্যু ও অষ্টাবক্র তার প্রতীক।” কোভিড মহামারীর সময় আয়ুর্বেদ এবং অ্যালোপ্যাথি পাশাপাশি কাজ করে প্রতিরোধে সাহায্য করেছিল, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এই কর্মসূচিতে দম্পতিদের পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, মানসিক বন্ধন এবং প্রসবপূর্ব অনুশীলন সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হবে, গর্ভাবস্থাকে চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক উভয় যাত্রা হিসাবেই চিহ্নিত করা হবে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনা প্রথমবার নয়, এর আগেও দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে পুরাণ-উপনিষদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে গৃহীত নানা সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানে গোমূত্রের উপকারিতা নিয়ে গবেষণায় দেশ-বিদেশে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু তা যে বিজেপির কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি, মধ্যপ্রদেশ সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত তার প্রমাণ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.