দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পর এই প্রথমবার জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে জেন জি-র উদ্দেশ্যে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে জনসম্পক্ষে ভাষণ শনিবার আইআইটি দিল্লির সমাবর্তনেই প্রথমবার। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় হাজার তিনেক জেন-জি দর্শককে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, প্রশ্ন করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বও সবার। সব প্রজন্মকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে।
দিল্লি আইআইটির সমাবর্তনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “ছাত্রজীবন এবং পরবর্তী জীবন আলাদা। ক্যাম্পাসের বাইরে বেরলে জীবন যে পরীক্ষা নেয়, সেই পরীক্ষা অন্যরকম। সেখানে প্রশ্ন ও উত্তর-সবই নিজেকে খুঁজতে হয়।” মোদির বক্তব্য, “প্রশ্ন করা ভালো, তবে উত্তরও নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। জীবনের লড়াইয়ে কোনও প্রশ্নপত্র থাকে না। নিজেকেই প্রশ্ন করতে হয়, নিজেকেই সমাধান খুঁজতে হয়। এখানে সবকিছুই আউট অফ সিলেবাস। যে শিখবে-সেই জিতবে। প্রশ্ন করার অধিকার সবার আছে। তবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বও সবার। আগের প্রজন্মের লড়াইয়ে দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। আজকের আত্মনির্ভর ভারতের নতুন প্রজন্মের সামনে সুযোগ সুবিধা অনেক। দেশের যুবসমাজ এগোলেই দেশ এগোবে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের প্রতি আস্থা দেখিয়ে বলেন, “তোমাদের উপর আমার ভরসা আছে। এই দেশের উন্নতিতে তোমাদের প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন:
#WATCH | IIT Delhi’s 57th Convocation Ceremony | Prime Minister Narendra Modi says, “Another major possibility lies before you all, and that new opportunity is in the field of research… The Prime Minister’s Research Fellowship is providing our talented youth with opportunities… pic.twitter.com/TFejyyAWIt
— ANI (@ANI) August 8, 2026
বস্তুত, নিট বিক্ষোভের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী জেন-জি’র মন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। শনিবার দিল্লি আইআইটির বৈঠকে তাঁর সশরীরে হাজির হওয়া, নতুন প্রজন্মকে তাঁদেরই মতো করে দেশের প্রতি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া সবটাই এই প্রজন্মের সঙ্গে একাত্মতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসাবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন এআই তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার কম্পিউটার ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন প্রধান অতিথি। তিন হাজারেরও বেশি স্নাতক-স্তরের ছাত্রছাত্রী, প্রায় ৫৮৭ জন পিএইচডি ‘স্কলার’ এদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ডিগ্রির শংসাপত্র গ্রহণ করেন। ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’, ‘ডিরেক্টর্স গোল্ড মেডেল’, ‘শঙ্করদয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল’ এবং ‘পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল’-এর মতো ঐতিহ্যশালী এবং আইআইটি দিল্লির তরফে তাদের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ হিসাবে পরিগণিত পুরস্কার, কৃতীদের হাতে তুলে দেন মোদি। ওই অনুষ্ঠানেই অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটিং সিস্টেম ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এই সুপার কম্পিউটারটি বর্তমানে আইআইটি দিল্লির সোনপত ক্যাম্পাসে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্তরের নানা, জটিল সমস্যার সমাধানে ‘পরম প্রজ্ঞা’ সাহায্য করবে গবেষক, ফ্যাকাল্টি মেম্বার এবং ছাত্রছাত্রীদের। আশা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সুপারকম্পিউটার আইআইটি দিল্লির গবেষণা পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘সঠিক বিষয়ে ভিডিও বানান’, ‘জেন জি’ প্রসঙ্গ টেনে যশস্বীর সঙ্গে প্রেমচর্চায় কড়া বার্তা ম্রুণালের
-
সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বিপুল টাকা, ভিআইপি রুম-কন্ডোম! তৃণমূল নেতা দেবাশিসের আগাম জামিন খারিজ হাই কোর্টে
-
পাক হাইকমিশনারের বাড়ির পর ঢাকা বিমানবন্দরেও আগুন, ফের বোমাতঙ্ক বাংলাদেশে
-
অ্যাম্বুল্যান্সের হেল্পার থেকে কোটিপতি! পার্থ ভৌমিক ‘ঘনিষ্ঠ’ নৈহাটির ‘ডন’ সনতের উত্থান যেন সিনেমা
-
শব্দ দূষণে মসজিদে মাইকে ‘না’, শুভেন্দুর কাছে অভিযোগ আবু-খলিলুরের, ‘সম্প্রীতি’র বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর