২৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শিক্ষার কোনও বয়স হয় না৷ আর সৎ লক্ষ্য ও নিষ্ঠা থাকলে, স্বপ্ন পূরণ হয়ই৷ এই স্বপ্নপূরণ কাহিনীর নায়ক জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তারক্ষী৷ বই, খাতাকে সঙ্গী করেই যিনি প্রহরীর কাজ করেছেন৷ তাঁর সঙ্গে পরিচয় করে নেওয়া যাক৷

[আরও পড়ুন: অমতে বিয়ে করায় অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করল বাবা]

রামজল মীনা৷ রাজস্থানের করৌলির বছর চৌত্রিশের বাসিন্দা এই মুহূর্তে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করেন৷ অবশ্য এখন তাঁর এই পরিচয় গৌণ৷ মুখ্য পরিচয় হল, এবার থেকে এই মীনাই গটগটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকবেন পড়তে৷ বসবেন রাশিয়ান ক্লাসে৷ অবাক হলেন? কিন্তু এটাই খাঁটি সত্যি৷ এবছর রীতিমতো প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হয়ে রাশিয়ান বিভাগে স্নাতকে ভরতি হয়েছেন মীনা৷ এমন অসাধ্য সাধন করে তিনি বলছেন, ‘জেএনইউ তো শিক্ষার ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্যে বিশ্বাসী নয়৷ এখানকার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকরা আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন৷ আমার মনে হচ্ছে, রাতারাতি আমি বিখ্যাত হয়ে গেছি৷’

জেএনইউয়ের এই নিরাপত্তারক্ষী রাজস্থানের ভাজেরা গ্রামের একজন দিনমজুরের ছেলে৷ অভাব-অনটনের জেরে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল৷ হাল কিন্তু ছাড়েননি৷ মাঝে সংসারের চাপে পড়ে বিয়ে করা, তিন সন্তানের বাবা হওয়া৷ এক কামরার একটি ফ্ল্যাটে কোনওক্রমে দিন গুজরান৷ তারপর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীর কাজ পেয়েই যেন জীবনটা তাঁর পালটে গেল৷ এখানকার শিক্ষার পরিবেশ দেখে স্বপ্নটাকে সত্যি করার সাহসটা পেলেন৷ নিজের উদ্যোগে বই, খাতা নিয়ে নেমে পড়লেন৷

মিনা বলছেন, ‘সবচেয়ে কাছের কলেজটাই ৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল৷ বাবার সঙ্গেও আমাকে কাজ করতে হত৷ ফলে নিয়মিত কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারতাম না৷’ তবে কাজের ফাঁকেই মন বসিয়েছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, হিন্দিতে৷ এই তিনটি বিষয় নিয়ে রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে স্নাতক হন মীনা৷  

[আরও পড়ুন:প্রায় ১৪০ দিন পর ভারতের জন্য আকাশপথ খুলে দিল পাকিস্তান]

এরপর কাজের ফাঁকে ফাঁকে রুশ ভাষা শিখতে থাকলেন, পুরোপুরি নিজের উদ্যোগে৷ রোজ খবরের কাগজ খুব মন দিয়ে পড়তেন৷ আর কয়েকজন ছাত্রছাত্রী তাঁকে নিয়মিত নোট দিতেন৷ ব্যাস, এভাবেই প্রস্তুতি চলে৷ আর তারপরের ঘটনা তো ইতিহাস৷ জেএনইউর রেকর্ডেও সম্ভবত এই প্রথম এমন একজন ছাত্র ভরতি হলেন৷

তাঁর এই সাফল্যে বিস্মিত, উচ্ছ্বসিত জেএনইউ কর্তৃপক্ষ৷ ভাইস চ্যান্সেলর এম জগদেশ কুমার বলছেন, ‘আমরা সবসময়ে অন্য ধরনের সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিই৷ তাঁদের চিন্তাধারাকে অন্য পথে চালিত করে জীবনটা একটু গুছিয়ে দিতে চাই৷’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে থেকে রাজমল মিনার সোজা ক্লাসে চলে ঢুকে পড়ার এই জার্নি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার৷  

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং