সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লাগাতার আন্দোলনের চাপে পিছু হঠল কেন্দ্র। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্টেলের বর্ধিত ফি প্রত্যাহার নিয়ে এখনই কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হলে, আপাতত স্বস্তি। শীতকালীন সেমিস্টারে হস্টেলের পরিষেবা এবং অন্যান্য খরচ আর বহন করতে হবে না ছাত্রছাত্রীদের। খরচের পুরোটাই এবারের মতো দেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে জেএনইউ কর্তপক্ষকে।
হস্টেলের ফি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। জেএনইউ কর্তৃপক্ষের এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকেই ওই বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে গত নভেম্বর থেকে আন্দোলনে শামিল পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ। তারই মধ্যে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের দখল নেওয়া সেই আন্দোলনকে আরও অক্সিজেন জুগিয়েছে। সেমিস্টার বয়কট করে প্রতিবাদে শামিল তাঁরা। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নের ডাকা বৈঠকে আন্দোলনকারীরা যোগ দিলেও, বারবারই গরহাজির থেকেছেন উপাচার্য এম জগদীশ কুমার।
[আরও পড়ুন: জরুরি পরিষেবার স্বার্থে কাশ্মীরে অবিলম্বে ইন্টারনেট চালু হোক, কেন্দ্রকে তোপ শীর্ষ আদালতের]
গত রবিবার ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের উপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করেছিলেন রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার। তাঁর অভিযোগ, এতদিন ধরে হস্টেল ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনে এসএফআইয়ের মদতই সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা বাদ দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হওয়া শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে। যারা মন দিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, তাদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশনে অন্যান্য পড়ুয়াদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের তরফে। তারই পালটা হিসেবে হামলা বলে মনে করেন রেজিস্ট্রার। প্রতিবাদীদের সেমিস্টার বয়কটের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষও পালটা জানিয়ে দেয়, সেমিস্টারে না বসলে ফের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ইমেল বা হোয়াটসঅ্যাপেও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু তাতেও রাজি হননি কেউ পরীক্ষায় বসতে। শনিবার ছিল সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশন করানোর দিন। ওইদিন যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করিয়ে পরীক্ষা দিতে চান, তাঁদের চাপ দিয়ে সেমিস্টার বয়কটে রাজি করানো হয়।
[আরও পড়ুন: বাড়ছে পদত্যাগের সম্ভাবনা! JNU’র উপাচার্যকে জরুরি তলব মানবসম্পদ মন্ত্রকের]
কর্তৃপক্ষের তরফে যে অভিযোগই থাকুক না কেন, আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসেননি কেউ। অত প্রতিরোধে মুখে পড়েও হস্টেলের বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় থেকেছেন তাঁরা। তারই কিছুটা সুফল মিলল। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ, শীতকালীন সেমিস্টারের জন্য হস্টেলের পরিষেবা কিংবা অন্যান্য কোনও খরচই দিতে হবে না পড়ুয়াদের। সেই খরচ বহন করবে ইউজিসি।
সর্বশেষ খবর
-
সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়েই মহামেডানকে ঋণমুক্ত করার আশ্বাস হুমায়ুনের, বার্তা ‘রাজনীতি’ নিয়েও
-
আগামী সপ্তাহেই সংসদে ‘অপারেশন লোটাস’! মমতার নির্দেশে হঠাৎ দিল্লিতে অভিষেক
-
‘ওয়াকা ওয়াকা’র নস্ট্যালজিয়া উসকে ফিরছে শাকিরা ম্যাজিক, কোন গানে ‘ফিফা’র মঞ্চ মাতাবেন নোরা?
-
‘ভাইকিং’ পোশাকে ফোটোশুট হালান্ডদের, বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে
-
কারা পাবেন আবাসের বাড়ি? সুবিধাভোগী যাচাইয়ে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা, রয়েছে ‘সেলফ সার্ভে’র সুবিধাও