বঙ্গে গেরুয়া সুনামি ঘটিয়ে ‘বিস্মৃত’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্যামাপ্রসাদের বাণী মনে করিয়ে মোদি বললেন, উনি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। প্রতিশ্রুতি দিলেন, ভয়মুক্ত, উন্নয়নের বাংলা গড়ার। যে বাংলায় মহিলারা নিরাপদে থাকবেন। যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। এবং সর্বোপরি বাংলা থেকে তাড়ানো হবে অনুপ্রবেশকারীদের।
কমিশনের রিপোর্ট বলছে, ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। জয়ের রিপোর্ট সামনে আসার পর সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র। তাঁর পরনে ছিল, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক ধুতি ও পাঞ্জাবি। ভাষণের শুরুতেই বিজেপির সাফল্য ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্ম ফুটিয়েছেন আমাদের নেতাকর্মীরা। আলাদা করে বাংলার সাফল্য তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ করেন মোদি। বলেন, “এই আনন্দের দিনে একটা কথা বারবার মনে আসছে। আজ শ্যামাপ্রসাদের আত্মা শান্তি পেল। ১৯৫১ সালে উনি জনসংঘের স্থাপনা করে বার্তা দিয়েছিলেন দেশের জন্য বাঁচতে হবে, দেশের জন্য মরতে হবে। উনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রই সর্বোপরি এই মন্ত্র নিয়ে চলতে হবে। শ্যামাপ্রসাদই বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে লড়াই করেছিলেন। উনি যে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হবে।”
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “২০২৬ সালের ৪ মে আমাদের সেই সুযোগ মিলেছে। বাংলায় আজ থেকে এক নয়া অধ্যায় শুরু হল। ভয়মুক্ত হয়ে, উন্নয়নের ভরসার সঙ্গে যুক্ত হল।” এরপর বাঙালিদের উদ্দেশে খাঁটি বাংলায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।” মোদির কথায়, “এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে ভারত মায়ের ও বঙ্কিমচন্দ্রকে প্রণাম করার পাশাপাশি ঋষি অরবিন্দকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিল বাংলার মানুষ।” বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করে মোদি আরও বলেন, “আমি বাংলার সব মানুষকে ভরসা দিচ্ছি, বাংলার উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিজেপি দিনরাত এক করে দেবে। বাংলায় মহিলারা সুরক্ষিত থাকবেন। যুবকরা কর্মসংস্থান পাবেন। পলায়ন বন্ধ হবে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর হবে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
এর পাশাপাশি নির্বাচনী হিংসায় বাংলায় যে সব কর্মী-সমর্থকদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “বাংলায় আমাদের বহু কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বহু মহিলাকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বাংলার এই জয় আমি তাঁদের সমর্পণ করলাম।” হিংসামুক্ত নির্বাচনের জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এবার বাংলায় এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এই নির্বাচনে হিংসায় কারও মৃত্যু হয়নি। গণতন্ত্রের নির্বাচনে কোনও বন্দুকের শব্দ শোনা যায়নি। বাংলায় প্রথমবার এমনটা হল। ভয় নয় এই নির্বাচনে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কড়ি ফেললেই আফগান হচ্ছে ভারতীয়! বার্থ সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার মালবাজারে পুরকর্মী
-
লাইন এড়িয়ে আউটডোরের টিকিট কাটার টোপ! এসএসকেএমে জালচক্রের রমরমা, গ্রেপ্তার ৩
-
রক্তপাতহীন বই-হত্যা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধ্বংসযজ্ঞ!
-
প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভরসা বাড়ছে, এইমসের আদলে বঙ্গে এবার আয়ুর্বেদ হাসপাতাল!
-
‘এমন সিদ্ধান্ত কেন নেন যাতে বিতর্ক হয়’, খাম প্রতীক জটিলতায় কমিশনকে প্রশ্ন হাই কোর্টের