Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
কলকাতায় খাণ্ডবদহন
New Market Hotel Fire

ছিলেন জুতোর ব্যবসায়ী, ৪০ হাজারে অভিশপ্ত ‘শিখা ইন’ লিজ নেওয়াই কাল হল আবু জাফরের!

স্ত্রীর নামে তিনতলার ন'টি ঘর মাসে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নেন। ১১ মাসের চুক্তি ছিল। আরও কয়েকটি হোটেল লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আবুর।

Advertisement
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১৬:০৫

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১৬:০৫

options
link
ছিলেন জুতোর ব্যবসায়ী, ৪০ হাজারে অভিশপ্ত ‘শিখা ইন’ লিজ নেওয়াই কাল হল আবু জাফরের! zoom
নিউ মার্কেটের এই হোটেলেই আগুন লাগে। ফাইল ছবি

ছিলেন চটি আর জুতোর ব্যবসায়ী। তাতে ভালোই চলছিল তাঁর। কিন্তু হোটেলের ব্যবসায় লগ্নি করতে গিয়েই বিপাকে পড়লেন জোড়াসাঁকোর আবু জাফর। পাঁচ মাস আগে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এর একটি তলা লিজ নিয়েছিলেন জাফর। তার জন্য হোটেলের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে মাসে ৪০ হাজার টাকা দিতেন। আর মঙ্গলবার রাতে সেই হোটেলেই আগুন লেগে মৃত্যু হল ন’জনের। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর পর পুরো পরিবার নিয়ে মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকোর মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে পালান জাফর। কলকাতা থেকে উত্তরপ্রদেশে পরিবার নিয়ে পালানোর ছক ছিল তাঁর। যদিও তার আগেই পূর্ব কলকাতার এন্টালিতে এক আত্মীয়র বাড়ি থেকেই লালবাজারের গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেন তাঁকে। এই গ্রেপ্তারির পরই কীভাবে লিজ ও সাব লিজ নিয়ে কোনও নিরাপত্তা বা সুরক্ষা ছাড়াই হোটেল চালানো হয়, তা সামনে এসেছে পুলিশের।

তালা ঝুলছে আবু জাফরের বাড়িতে। নিজস্ব চিত্র।

জোড়াসাঁকোর মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের ফলপট্টি থেকে এগিয়ে গলির ভিতর আবু জাফরের বাড়ি। সেখানেই থাকেন আবুর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ভোররাতে আবু জাফরকে ফোন করে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা জানান পাশেরই একটি হোটেলের কর্মী। তাঁকে মির্জা গালিব স্ট্রিটে পৌঁছে যেতে বলেন। কিন্তু সেদিকে আর না গিয়ে বাড়ির দরজায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারের লোকেদের নিয়ে পালিয়ে যান আবু। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেশী জানান, বুধবার সকাল থেকে তাঁরা আর আবুর বাড়ির কাউকে দেখতে পাননি। দরজায় ঝুলছে তালা। আবু পাড়ায় বিশেষ মেলামেশা করেন না। জোড়াসাঁকো এলাকায়ই চটি আর জুতোর ব্যবসা করতেন তিনি। দোকান তথা কারখানা ভালোই চলত।

পুলিশের জেরার মুখে আবুর দাবি, তাঁর স্ত্রীর নামেই লিজ নেওয়া হয়। লিজের যাবতীয় নথি তাঁর স্ত্রীর কাছেই রয়েছে। যদিও পুলিশ আবুর স্ত্রীর সন্ধান পায়নি। তিনি ভিনরাজ্যে পালিয়েছেন কি না, লালবাজারের গোয়েন্দারা তা জানার চেষ্টা করছেন। জোড়াসাঁকোর মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের ফলপট্টি থেকে এগিয়ে গলির ভিতর আবু জাফরের বাড়ি। সেখানেই থাকেন আবুর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ভোররাতে আবু জাফরকে ফোন করে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা জানান পাশেরই একটি হোটেলের কর্মী। তাঁকে মির্জা গালিব স্ট্রিটে পৌঁছে যেতে বলেন। কিন্তু সেদিকে আর না গিয়ে বাড়ির দরজায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারের লোকেদের নিয়ে পালিয়ে যান আবু। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেশী জানান, বুধবার সকাল থেকে তাঁরা আর আবুর বাড়ির কাউকে দেখতে পাননি। দরজায় ঝুলছে তালা। আবু পাড়ায় বিশেষ মেলামেশা করেন না। জোড়াসাঁকো এলাকায়ই চটি আর জুতোর ব্যবসা করতেন তিনি। দোকান তথা কারখানা ভালোই চলত। সেই সূত্রে জোড়াসাঁকো, নিউ মার্কেটের হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তারপর থেকেই তাঁর মাথায় ঢোকে হোটেলের ব্যবসা। এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই শিখা ইন-এর মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মির্জা গালিব স্ট্রিটের তিন ও পাঁচ তলায় রয়েছে শিখা ইন।

Advertisement
Kolkata Hotel Fire: Forensic report on fire incident at mirza ghalib street hotel
নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন। ফাইল ছবি

স্ত্রীর নামে তিনতলার ন’টি ঘর মাসে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নেন। ১১ মাসের চুক্তি ছিল। মূলত আবুর ছেলে হোটেলের ব্যবসা সামলান। এরপর আরও কয়েকটি হোটেল লিজে নেওয়ার কথা ভাবছিল আবুর পরিবার। হোটেলের ব্যবসা করলেও আবাসিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কিছু ভাবেননি বলে অভিযোগ। এদিন আবু জাফরকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তাঁকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তী আদালতে আবেদনে জানান, তদন্তে হোটেল কর্তৃপক্ষর বহু গাফিলতি পাওয়া গিয়েছে। হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ফায়ার অ্যালার্ম ছিল না। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, কীভাবে হোটেল চালানো হত ও এর সুরক্ষার দায় কার উপর ছিল। এই অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। আবু জাফরের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, এই ঘটনার জন্য আবু জাফর কোনওমতেই দায়ী নন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.