BREAKING NEWS

২৬ চৈত্র  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ২০২০ 

Advertisement

খাস কলকাতায় ভেজাল দুধের কারবারে ধৃত ৩, বড় চক্রের হদিশে পুলিশ

Published by: Sucheta Chakrabarty |    Posted: February 24, 2020 8:22 pm|    Updated: February 24, 2020 9:49 pm

An Images

অর্ণব আইচ: খাঁটি দুধের সঙ্গে জল মিশিয়ে বিক্রির প্রথা বহুদিনের। তাতে অবশ্য নতুনত্বের কিছু নেই। তবে দুধের মধ্যে সরাসরি পুকুরের জল মিশিয়ে বিক্রি করতে দেখে চোখ কপালে উঠেছে পুলিশের। কেবল পুকুরের জল নয়, দুধের মধ্যে মেশানো হচ্ছে পাঁকও। আর এভাবেই কারবার চালাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বছর দেড়েক আগে ‘ভাগাড়ের মাংস‘ নিয়ে উত্তপ্ত হয় শহর ও শহরতলি সংলগ্ন এলাকা। দফায় দফায় তল্লাশি চলে বিভিন্ন রেস্তরাঁয়। তদন্তে নেমে একটি বড় চক্রের হদিশ পায় পুলিশ। চিৎপুর থানার পুলিশ তদন্তে নেমে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, উত্তর কলকাতার বিটি রোডের একটি সংস্থা দুধ বিক্রি করে। ওই সংস্থার থেকে দুধ নিয়ে সরবরাহ করা হয় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে। শুধুমাত্র দুধের দোকানগুলিতে নয়, মিষ্টির দোকানগুলিতেও জোগান দেওয়া হত। তবে কয়েকদিন ধরেই দুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দোকানগুলি থেকে। পাশাপাশি দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও শোনা যায়। কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ জানান যে, দুধের মধ্যে থেকে তাঁরা কটু গন্ধ পাচ্ছেন। ফলে পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকজন বিক্রেতাও। এরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই মতো খবর পেয়ে তারা সোমবার ভোরে একটি গাড়ির পিছু নেয়। তারা দেখে ডেয়ারি থেকে দুধ নিয়ে গাড়িটি চিৎপুরের একটি গুদামে পৌঁছায়। সেখানে অর্ধেক দুধ সরিয়ে রেখে তারা পুকুর থেকে পাঁক ভরতি জল এনে মেশায় দুধের মধ্যে। তারপর কাপড় দিয়ে ছেঁকে তা বেশ কয়েকজন গোয়ালাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। কাপড় দিয়ে ছাঁকলেও দুধে মিশে থাকছে নানারকমের জীবাণু। মুনাফা লাভের আশায় সেই দুধই গোয়ালারা বিক্রি করে দিচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে।

[ আরও পড়ুন:মিলল ‘মৌখিক’ অনুমতি, শহিদ মিনারে অমিত শাহর সভা ঘিরে জটিলতা কাটার ইঙ্গিত]

‘ভাগাড়ের মাংস’ শরীরে গেলে যতটা খারাপ হবে পুকুরের জল মেশানো দুধ খেলে তার চেয়ে কম কিছু ক্ষতি হবে না। এমনটাই দাবি  স্বাস্থ্যবিদদের। কারণ, প্রতিটি বাড়িতেই দুধকে সুষম খাদ্য হিসেবে বাচ্চাদের দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাড়ির বৃদ্ধদের জন্যও বরাদ্দ করা হয় দুধ। এই দুধ বিক্রির অভিযোগে, সুরেন্দ্র যাদব নামে এক গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সুরেন্দ্র যাদবের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগী ঝাড়খণ্ডের বিজয় মাহাতো ও ওড়িশার সুভাষ মল্লিককে। বিজয় ও সুভাষ দুজনেই পেশায় গোয়ালা বলেও জানা যায়। এদিন ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতদের পিছনে বড় কোনও চক্র রয়েছে কিনা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

[ আরও পড়ুন:চরম ভোগান্তি বউবাজার বিপর্যয়ে গৃহহীনদের, ঠিকানার সমস্যায় মিলছে না রান্নার গ্যাস]

Advertisement

Advertisement

Advertisement