৫ মাঘ  ১৪২৬  রবিবার ১৯ জানুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo ফিরে দেখা ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত ‘গণশক্তি’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক এবং সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য অভীক দত্ত। আজ সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বছর সাতান্নর এই বিশিষ্ট সাংবাদিক। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সেরিব্রাল স্ট্রোকে পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি টানা চিকিৎসাধীন ছিলেন। বেশিরভাগ সময়টাই ছিলেন কলকাতার বিখ্যাত এক বেসরকারি হাসপাতালে। কখনও বাড়িতেও ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগেই ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আজ সকালে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। অভীক দত্তর মৃত্যুতে শোকের ছায়া সাংবাদিক মহলে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতার কেরিয়ার বেশ উজ্জ্বল অভীক দত্তর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত অভীক দত্ত ‘গণশক্তি’ পত্রিকার সঙ্গেই কেরিয়ারের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে যুক্ত ছিলেন। সেইসঙ্গে সিপিএমের সক্রিয় সদস্য থেকে রাজ্য কমিটির সদস্য। সাংবাদিকতা এবং সংগঠনের কাজ দু’টোই অত্যন্ত পারদর্শিতার সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ‘গণশক্তি’র সম্পাদক পদে উত্তীর্ণ হন তিনি। তার আগে পর্যন্ত তিনি পত্রিকার সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। সে বছর বিদায়ী সম্পাদক নারায়ণ দত্তর স্থলাভিষিক্ত হন অভীক দত্ত। পাশাপাশি একটি ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমেরও ডিরেক্টর পদে যুক্ত হয়েছিলেন।

[আরও পড়ুন: মধ‌্য এপ্রিলে পুরভোটের সম্ভাবনা, ভাবাচ্ছে সংরক্ষণের অঙ্ক ও ওয়ার্ড বিন্যাস]

সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবনে যাঁরা তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাঁরা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন যে অভীক দত্তর মতো দক্ষ, মেধাবী সাংবাদিকের কাছ থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয়ই। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা, শানিত যুক্তিবোধ এবং বিষয় সম্পর্কে গভীরতা, এইসবের মিশ্রণে পরিবেশিত সংবাদ ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে বরাবর। সহকর্মীদের প্রতি তাঁর ব্যক্তিত্বপূর্ণ আচরণ ছিল আকর্ষণীয়। সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম – দু’ধরনের সংবাদ পরিবেশনের যে পার্থক্য, তা ধারণাগতভাবে অত্যন্ত সহজ করে বুঝিয়ে দিতেন তিনি। পাশাপাশি বাম সংগঠনেও অভীক দত্তর গুরুত্ব ছিল আলাদা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসুদের স্নেহধন্য এই সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয় যাইই থাকুক, কাজের জায়গায় সেই প্রভাব খুব একটা ফেলতে দেননি। সেখানে ঋজুতা বজায় রেখেই সংবাদ পরিবেশন করেছেন।

[আরও পড়ুন: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মুখ খুললেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন]

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের গোড়ায় সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রবল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন থেকে হারাতে থাকেন কর্মক্ষমতা। ‘গণশক্তি’র সম্পাদক পদের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তাঁর চিকিৎসায় উদ্যোগী হয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভীকবাবুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রেখেছেন নিয়মিত।  এক বছর ধরে জীবনযুদ্ধে অবশেষে হার। আজ সকাল ৬ টা ২০তে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সমর্পণ করলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অভীক দত্ত। সাংবাদিক মহল তাঁর চলে যাওয়াকে ‘অকাল প্রয়াণ’ বলেই ব্যাখ্যা করছে। অনেকেরই বক্তব্য, আরও অনেক কিছুই শেখার ছিল তাঁর থেকে। সংবাদমাধ্যমকেও তাঁর দেওয়ার ছিল আরও কিছু।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং