অর্ণব আইচ: স্ত্রী কেন আগের পক্ষের মেয়েকে দেখতে যাবেন, তা নিয়েই দম্পতির মধ্যে অশান্তি। তারই জেরে স্ত্রীকে খুন করে স্বামী আত্মঘাতী হয়েছেন বলে সন্দেহ পুলিশের। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনাটি। এদিন দুপুরে কালিকাপুরে ভাড়া বাড়ির দরজার লক ভেঙে পুলিশ ভিতরে ঢোকে। দেখা যায়, বিছানায় পড়ে রয়েছে শেফালির রক্তাক্ত দেহ। তাঁর গলায় আঘাত রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ফলে তিনি নিজেই গলায় আঘাত করেছেন নাকি স্বামী কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে খুন করেছেন, ময়নাতদন্তের পর সেই ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে শ্যামলকে সিলিং থেকে একটি ওড়না গলায় জড়িয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত।
মৃত ওই যুবকের নাম শ্যামল রায় ওরফে জ্যাকি (৩২) ও তাঁর স্ত্রীর নাম শেফালি খাতুন (৩০)। শ্যামল একটি শপিং মলের দোকানে কাজ করতেন। তার সঙ্গে ছোট ব্যবসাও করতেন। শ্যামলের পুরনো বাড়ি সার্ভে পার্ক এলাকার লেক ইস্ট ফিফথ রোডে। এখানেই ৫০ বছরের উপর ভাড়াটে শ্যামলের মা ও বাবা। শেফালির আসল বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার দুলিলপাড়ার তালগ্রামে। কর্মসূত্রেই শ্যামলের সঙ্গে শেফালির পরিচয় হয়। শেফালির এটি দ্বিতীয় পক্ষের বিয়ে। ওই যুবতীর প্রথম পক্ষের একটি মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে দু’জনের বিয়ে হয়। যদিও রেজিস্ট্রি হয়নি।
[আরও পড়ুন: বিমান-সূর্যদের বিদায়! সিপিএমের পরবর্তী রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম]
বিয়ের পর প্রথম কয়েকমাস গড়িয়া ও তারপর বাঘাযতীনে বাড়ি ভাড়া নেন দম্পতি। মাস দুই আগে সার্ভে পার্ক এলাকার কালিকাপুরের সর্দারপাড়ায় একটি দোতলা বাড়ির একতলার একটি ঘর ভাড়া নিয়ে দু’জন থাকতে শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে দম্পতির মধ্যে অশান্তি বাধে। শ্যামলকে বিয়ে করার পরও মুর্শিদাবাদে গিয়ে মেয়েকে দেখে আসতেন শেফালি। যদিও এতে আপত্তি ছিল শ্যামলের। মেয়েকে দেখতে যেতে বারণ করতেন শ্যামল। শেফালির পালটা দাবি ছিল, তিনি যদি মেয়েকে না দেখতে যান, তবে শ্যামলও তাঁর মা ও বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। দম্পতির মধ্যে বাকবিতণ্ডার ফলে গোলমাল বেড়েই চলে।
কিছুদিন আগেও শেফালি গিয়ে তাঁর মেয়েকে দেখে আসেন। এরপর থেকে আরও গোলমাল বাধে। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, স্ত্রী প্রায়ই স্বামীকে মারধর করতেন। আবার ধাক্কাধাক্কি করতেন ‘রগচটা’ শ্যামলও। এক সময় গোলমাল এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, ওই যুবতী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে নেতাজিনগর ও সার্ভে পার্ক থানায় যৌন হেনস্তা ও অত্যাচারের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর শ্যামল স্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধরের অভিযোগও জানান। এলাকার বাসিন্দারা পুলিশকে জানান, প্রায় বাড়ির ভিতর থেকে ঝগড়া ও চেঁচামেচির আওয়াজ পাওয়া যেত। এদিন সকাল থেকে বাসিন্দারা বিশেষ কোনও আওয়াজ পাননি। তাতে তাঁদের সন্দেহ হয়। তাঁরা সার্ভে পার্ক থানায় বিষয়টি জানান। এরপরই পুলিশ এসে দরজার লক ভেঙে ভিতরে ঢুকে দু’জনের দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ দু’টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: ভালবাসাকেই স্বীকৃতি, সব বাধা পেরিয়ে আদালতেই চার হাত এক হল দম্পতির]
সর্বশেষ খবর
-
অরুণাচলের জমি গিলছে ড্রাগন! চিনা আগ্রাসনের অভিযোগে তদন্তে সরকার, কী বলছে সেনা?
-
বাজ পড়ে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পাইপলাইনে আগুন লেগে ঝলসে গেলেন ৩৫জন
-
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমাত্রই ‘অ্যাকশন’, হুমায়ুনের ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার সভার আয়োজকরা
-
বিশ্বকাপে মহা অঘটন! রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় জার্মানির
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল