৫ ফাল্গুন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: তরুণ প্রজন্মের ডাকে নাগরিক মিছিল। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মিছিলে রাজনীতির রং সেভাবে লাগেনি। তবু CAA-NRC’র বিরোধিতায় কলেজ স্ট্রিটে ছাত্রছাত্রীদের ডাকা মিছিলে হাঁটতে গিয়েও ঠিক একাত্ম হতে পারলেন না রাজনীতির তাবড় নেতারা। ছাত্রযুবদের থেকে কিছুটা দূরেই রইলেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র। নিজেরা তৎপরতা দেখালেও তরুণ প্রজন্মের কেউ তাঁদের সাদরে গ্রহণ করলেন না। আজ, এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষের নেতৃত্বে নাগরিক মিছিলে বোঝা গেল, দলের প্রবীণ-নবীনের মধ্যে দূরত্বটা কতদূর পৌঁছেছে।

CAA-NRC’র বিরোধিতায় বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে সভা ও মিছিল কর্মসূচি। নেতৃত্বে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ। প্রথমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সভায় বাধা দেওয়া হয়। পরে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঐশী তাঁর বক্তব্য রাখেন। তারপর সেখান থেকে ‘জন-গণ-মন’ যাত্রার আয়োজন করেন বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল। মিছিল শুরুর আগে জমায়েতের সামনে দাঁড়িয়ে ঐশী ঘোষ ‘আজাদি’ স্লোগান তোলেন। তাতে গলা মেলান সকলে।

[আরও পড়ুন: ‘একদিন ইট মেরেছেন, তাই আজ পাটকেল খেলেন মমতা,’ মেট্রো উদ্বোধন প্রসঙ্গে দিলীপ]

তখন এই জমায়েত থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে বামফ্রন্ট চেয়াম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার, অনীক দত্তের মতো বিশিষ্টরা। সূর্যকান্ত মিশ্র নিজে ছাত্রছাত্রীদের কাছে গিয়ে জানতে চান, কখন মিছিল শুরু হবে। কিন্তু ছাত্রযুবদের কাছ থেকে কোনও উত্তর পান না। কারণ, সেসময় তাঁরা ঐশীর ‘আজাদি’ স্লোগানের সঙ্গে সুর মেলাতে ব্যস্ত। বই পাড়া তখন স্লোগান মুখর। এরপর শুরু হল পথচলা। ঐশীকে কেন্দ্রে রেখে মিছিল এগিয়ে গেল। দূরেই দাঁড়িয়ে রইলেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র। মিছিলের অগ্রভাগে কর্মচঞ্চল নবীনের দল, পিছনে অভিজ্ঞতায় ন্যুব্জ প্রবীণরা।

[আরও পড়ুন: বিতর্কের মধ্যেই যাত্রা শুরু ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর, উদ্বোধন করলেন রেলমন্ত্রী]

বর্ষীয়ান নেতৃত্বকে এভাবে পিছনে ফেলে বাম ছাত্র সংগঠনের এই মিছিল নজিরবিহীন। এ নিয়ে দলের মধ্যেও কানাঘুষো শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, এটাই অভিপ্রেত দৃশ্য। বামপন্থী আদর্শকে সঙ্গী করে প্রকৃত লড়াই চালিয়ে যেতে গেলে তরুণদের হাতে ব্যাটন তুলে দিতে হবেই। আর অভিজ্ঞরা নেপথ্যে থেকে নবীন প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটাই স্বাভাবিক এবং যথাযথ পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং