স্টাফ রিপোর্টার: কেউ নিজের মাস মাইনের অর্ধেকটা দিয়ে দেন দুঃস্থদের। কারও সারা বছর কাটে অনাথ শিশুদের লেখাপড়া শিখিয়ে। অন্ধকার কাটিয়ে আলো জ্বালার চেষ্টা করছেন যাঁরা, তাদের হাতেই উঠল ‘দান উৎসব সম্মান ২০১৯।’ তালিকায় ছিল বারোটি পুরস্কার। এই সেরা বারোর মধ্যে ছিলেন, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান দুই’ই। সারা রাজ্যের এই সেরা বারোকে পুরস্কৃত করা হল বুধবার সাঁঝবেলায় ‘দান উৎসব সম্মান’ ২০১৯-এ। হাজির ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন-এর এমডি বন্দনা যাদব। ছিলেন বিড়লা কর্পোরেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার সন্দীপ ঘোষ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুর বেঁধে দিয়েছেন সঞ্চালক।
অর্থ, মূল্যবান সময় অথবা কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সৌভাগ্যবানরা দিয়েছে অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবানদের। দান উৎসবের মূল মন্ত্র এটাই। এরা সকলেই শামিল হয়েছিলেন ২ থেকে ৮ অক্টোবরের ‘দান সপ্তাহ’-এ। এমনই সাতটা স্কুল এবং পাঁচজন সহৃদয় ব্যক্তিকে মঙ্গলবার সম্মানিত করা হল জিডি বিড়লা সভাঘরে।
যাঁর মধ্যে ছিলেন সমাজসেবী মিমি দাস। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনশোরও বেশি অনাথ শিশুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তাঁর আশিয়ানা হোম, অ্যাঞ্জেল হ্যাপি নামে দুটি হোম। নেশায় আচ্ছন্ন কিশোরদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। দান উৎসব ছড়িয়ে গোটা দেশ জুড়ে। এ বছর সারা দেশের ১২০ টি শহরের ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ শামিল হয়েছিলেন ‘দান উৎসবে’। দেশ জুড়ে ১২০০টি অনুষ্ঠান হয়েছে দান উৎসবকে কেন্দ্র করে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই তিন লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এই উৎসবে। কেমন ছিল উৎসবের চরিত্র? এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের পুজোয় নতুন জামা-কাপড় তুলে দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে চক্ষু পরীক্ষা শিবির। উৎসবের অঙ্গ হিসেবে এক ঝাঁক অনাথ শিশুকে নিকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্লাস্টিক মুক্ত করতেও এক অভিনব দৌড়ের আয়োজন করেছিল এমপি বিড়লা কর্পোরেশনের দান উৎসব।
পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে দান উৎসবের কলকাতার ভলান্টিয়াররা প্রায় ১২০ কেজি প্লাস্টিক তুলে এনেছে শহর ঘুরে। ৩ অক্টোবর প্রিয়ম্বদা বিড়লা অরবিন্দ আই হসপিটাল বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করেছিল। ৩৫ জন রোগীর বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারও করা হয়। দান উৎসবের তালিকা ছিল লম্বা। সুশীলা বিড়লা হাইস্কুল পেয়েছে কল্যাণ সম্মান। এম পি বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল জিতে নিয়েছে হরিৎ সম্মান। সর্বোত্তম সার্বিক সম্মান পেয়েছে শ্রী শ্রী অ্যাকাডেমি। এই স্কুলের পক্ষ থেকে প্লাস্টিক মুক্ত পরিবেশ গড়তে পথে নেমেছিল ছাত্র-ছাত্রীরা। ন্যাশনাল হাইস্কুল-এর হাতে উঠেছে উত্তম সার্বিক সম্মান। ইছামতি নদী পরিষ্কার করে কল্যাণ সম্মান পেয়েছেন সাবর্ণ সরস্বতী। নিজের মাইনের সিংহভাগ দুঃস্থদের স্কুলে দান করে দেন শুভ্রেন্দু রায়চৌধুরি। তাঁর হাতে উঠেছে কল্যাণ সম্মান। যাদবপুরের স্কুল ‘আনন্দ’ পেয়েছে উজ্জ্বল সম্মান। প্লাস্টিক নতুন করে ব্যবহার করে তার মধ্যে গাছের চারা লাগিয়েছে এই স্কুলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্ররা। এবার চার বছরে পা দিল ‘দান উৎসব সম্মান ২০১৯’। যে উৎসবের অন্যতম শরিক বিড়লা কর্পোরেশন লিমিটেড।
সর্বশেষ খবর
-
‘চোরাশিকারিদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যপ্রাণী’, হাসিমারায় প্রকৃতি ও সম্পদ বাঁচানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর
-
গঙ্গার ধার দখল করে ‘অবৈধ’ নির্মাণ, বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়
-
সর্ষের মধ্যেই ভূত! বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে সাহায্য সেনা জওয়ানের, গ্রেপ্তার ৩
-
‘তিলক কেটে দিন’, গণপতি দর্শনে গিয়ে পুরোহিতকে আবদার শাহরুখের, বাদশার ভক্তিতে মুগ্ধ নেটপাড়া
-
আইএফএ শিল্ডের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ্যে, ডুরান্ড হেরে শিল্ডে নজর মোহনবাগানের