পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার বাড়ি বাড়ি অভিযান। বাল্যবিবাহ যে করবে, যারা সেই বিয়ে দেবে, তাঁদের কড়া শাস্তি হবে। বন্ধ হবে সব সরকারি ভাতা। যারা বাল্যবিবাহ করেছেন, সেই স্বামীদের শোকজ করা হচ্ছে। জেল হতে পারে পুরোহিত-কাজিদের! বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari)।
ইংরেজআমলে বাল্যবিবাহ রোধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আন্দোলন করেছিলেন। সেসময় বাল্যবিবাহ রোধে আইনও হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া আইনও এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আইনে পরিষ্কার বলা আছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে আর ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ের অধিকার নেই। একসময় বাংলায় নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল। ক্রমে সেই বাংলাতেই ফের মাথাচাড়া দেয় বাল্যবিবাহ। রাজ্যের একাধিক জেলায় ক্রমে বাড়তে থাকে বাল্যবিবাহ! বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই বাল্যবিবাহ ক্রমে ব্যাপক আকার নিয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলা, বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সেই বাল্যবিবাহ মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে। সেই খতিয়ান সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:
বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই বাল্যবিবাহের হার অনেক গুণ বেড়েছে! এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার সেই বাল্যবিবাহ রুখতে বড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। বাল্যবিবাহ রুখতে এবার থেকে বাড়ি বাড়ি অভিযান হবে। সেই বার্তা এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিলেন।
বাল্যবিবাহের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ উপরের দিকেই রয়েছে। সেই পরিসংখ্যানও সামনে এসেছে। বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই বাল্যবিবাহের হার অনেক গুণ বেড়েছে! এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার সেই বাল্যবিবাহ রুখতে বড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। বাল্যবিবাহ রুখতে এবার থেকে বাড়ি বাড়ি অভিযান হবে। সেই বার্তা এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিলেন। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহ যারা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, সেই পুরোহিত, কাজিদের জেল হবে। বাল্যবিবাহ যারা করছেন, সেই পুরুষদের ও স্বামী-স্ত্রীর দুই পরিবারের সদস্যরাও বাইরে থাকবেন না। তাঁদেরও পাকড়াও করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আইনের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহে দুই বছর পর্যন্ত জেল ও একলক্ষ টাকা জরিমানার কথা রয়েছে। রাজ্যজুড়ে দ্রুত অ্যাকশন হবে। জানানো হয়েছে, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে প্রত্যেক নাবালিকা বধূর পরিবারের কাছে, স্বামীদের কাছে শোকজ লেটার যাবে। স্ত্রীয়ের বয়স যে ১৮ পেরিয়ে গিয়েছে, সেই বিষয় প্রমাণ করতে হবে। সেটি প্রমাণ করতে না পারলে কড়া শাস্তির কথা এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর স্কুলের সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট নথির প্রমাণ হিসেবে দিয়ে যথাযথ প্রমাণ করতে হবে।
জানানো হয়েছে, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে প্রত্যেক নাবালিকা বধূর পরিবারের কাছে, স্বামীদের কাছে শোকজ লেটার যাবে। স্ত্রীয়ের বয়স যে ১৮ পেরিয়ে গিয়েছে, সেই বিষয় প্রমাণ করতে হবে। সেটি প্রমাণ করতে না পারলে কড়া শাস্তির কথা এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালে নাবালিকা স্ত্রীর প্রসব হলেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ডাক্তার, আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা হতে পারে। এক্ষেত্রে পকসো আইনে পদক্ষেপ হবে। জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে পকসো ধারা ৩ ও ৪ অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। সেক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। নাবালিকার বয়স ১৬ বছরের কম হলে আজীবন কারাবাসও হতে পারে। নাবালিকা গর্ভধারণ করলে ২০ বছরের জেল হতে পারে। সেই কথাও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘প্রতারণার পর প্লে বয়দের অনুশোচনা হয়?’ বিগ বসের ঘরে র্যাপার বাদশাকে খোঁচা প্রাক্তন স্ত্রীর!
-
আষাঢ় থেকে কার্তিক দেবতাদের নিদ্রাকাল, তবু শরতেই কেন উৎসবের ছড়াছড়ি?
-
বর্জ্য থেকেই জ্বালানি! প্লাস্টিক দিয়ে এবার গ্যাস তৈরির পরিকল্পনা বিশ্বভারতীর
-
ইরান সমর্থিত হাউথির হাতে মারণাস্ত্র ‘এআই ক্লাউড’! প্রযুক্তির অপব্যহার নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ
-
আইএসএল জয়ের ম্যাচে রেফারি ‘কেনা’ ছিল! ইস্টবেঙ্গলের ‘মাস্টার’কে নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট অস্কারের