কলহার মুখোপাধ্যায়, বিধাননগর: গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র বিধাননগর কমিশনারেট এলাকায় মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে হাজারেরও বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ দায়ের হওয়া কিংবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলেও মদ খেয়ে গাড়ি চালানোয় রাশ টানা সম্ভব হচ্ছে না। আর মঙ্গলবার ভোরের গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু, আবারও তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
বিধাননগর কমিশনারেটের তথ্য বলছে, গত আগস্ট মাস থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ২০টির মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে। তার মধ্যে পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। যার অধিকাংশ ঘটেছে মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর সময়। মদের নেশায় অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পেরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা ঠুকতে রেয়াত করেনি। তবে তাতে যে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি বিধাননগর, তা বিলক্ষণ মালুম হচ্ছে।
[আরও পড়ুন: সৌজন্যের নজির, রুপোর বাটি-চামচ দিয়ে অভিষেকপুত্রর মুখ দেখলেন রাজ্যপাল ]
মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার কথা অবশ্য একটু আলাদা। অত ভোরে রাস্তায় যানবাহন সামলানোর জন্য কোনও পুলিশকর্মী ডিউটিতে সাধারণত থাকেন না। এদিনও ছিলেন না। পরিণামও যা হওয়ার তাই হয়েছে। নিউটাউনের ফাঁকা রাস্তায় রকেটবেগে ইউ টার্ন নিতে গিয়ে ধাক্কা মেরে পাঁচ ফুট উপরে উঠে যায় গাড়ি। যাতে তিন যুবকের মৃত্যু হয়। বেঁচে যান দু’জন। এঁরা রাতভর পার্টি করে সকালের হাওয়া খেতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান।
মঙ্গলবার ভোর সওয়া পাঁচটা নাগাদ নিউটাউন সৃষ্টি মোড়ে প্রবল গতিতে সল্টলেকের দিকে ইউ টার্ন নিতে গিয়েই বিপর্যয়। ঘটনায় মৃতদের নাম নিশীথ জয়সোয়াল (১৭), মায়াঙ্ক ঝাওয়ার (১৯) ও কৌশল ঝাওয়ার (১৭)। স্টিয়ারিংয়ে বসা একুশ বছরের মোহিত জৈন গুরুতর আহত অবস্থায় বাইপাসের এক হাসপাতালে ভরতি। তার পাশে বসা ১৭ বছরের সর্বজিৎ সিং মাথায় ১৩টা স্টিচ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত হন্ডা সিটি গাড়িটির পিছনের অংশ বলে কিছু নেই। প্রচণ্ড আঘাতের অভিঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বুধবার গাড়িটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে জেলার আঞ্চলিক পরিবহণ অধিকর্তা দফতরের আধিকারিকরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহিতের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে মৃত তিন যুবকের।